১৮ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রুকমিনি দেবী ও কলাক্ষেত্র

  • আবদুল মান্নান

চেন্নাই। সেদিনের মাদ্রাজ বা ম্যাডরাস দক্ষিণ ভারতের প্রবেশদ্বার। তামিলনাড়ুর রাজধানী। বঙ্গোপসাগরের উপকূলে অনুচ্চ পাহাড় আর সমতল ভূমি ঘিরে চেন্নাই বা মাদ্রাজ মহানগরী। আদিতে এই শহরের পরিকাঠামো গড়ে ওঠে তাঁতশিল্প কেন্দ্রিক। চেন্নাপটন্্ম বা ম্যাডরাসপটন্্ম ইংরেজিতে ম্যাডরাস তামিলে চেন্নাই। চেন্নাইয়ের খ্যাতি আর সমৃদ্ধির পেছনে গুরুত্বের দাবিদার ব্রিটিশদের সেন্ট জর্জ দুর্গ। সেন্ট জর্জ দুর্গ তামিলনাড়ু সরকারের মহাকরণের (সচিবালয়) প্রধান অংশ। প্রায় এক শ’ আশি স্কয়ার কিলোমিটার চেন্নাই মহানগরীর জন সংখ্যা প্রায় ষাট লাখ।

ভারতে ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসন সুদৃঢ় করার জন্য কলকাতা প্রেসিডেন্সি, বোম্বে প্রেসিডেন্সি এবং মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি প্রতিষ্ঠা করে। সে কারণে কলকাতা হাইকোর্ট বা প্রেসিডেন্সি কলেজের নির্মাণ স্থাপত্যের সঙ্গে বিন্দুমাত্র অমিল নেই ম্যাডরাস প্রেসিডেন্সির হাইকোর্ট বা প্রেসিডেন্সি কলেজের স্থাপত্যের।

ভারত উপমহাদেশে বোম্বে এবং ম্যাডরাস চলচ্চিত্র শিল্পে সমধিক পরিচিতি লাভ করে। আমি বিশেষভাবে পরিচিত হই মাদ্রাজের জেমিনির সিনেমার সঙ্গে। আজকে যেমন বলিউডের সিনেমার খ্যাতি দক্ষিণের বৈজয়ন্তিমালা, হেমা মালিনি, রেখা, মাধুরী দীক্ষিত, কমল হাসান, এআর রহমান তেমনি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম-ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে জাতীয় নেতৃত্বে দক্ষিণের গুরুত্ব অপরিসীম। আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবো রাজা গোপাল আচারি ও কামরাজদের কথা তেমনি অবশ্যই বলবো ভারতের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি ভারতরতœ ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষাবিদ ছিলেন। আরও একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী ও রাষ্ট্রপতি আর ভেংকটরমন এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী রাষ্ট্রপতি ভারতরতœ ড. এপিজে আবদুল কালাম চেন্নাই-এর গৌরব।

আর ভেংকটরমন ১৯৮৭-৯২ পর্যন্ত ভারতের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। এর আগে উপরাষ্ট্রপতি। তার আগে ভারত-রতœ শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী সরকারের অর্থমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং যোজনা কমিশন বা প্ল্যানিং কমিশনের সদস্য ছিলেন। তিনি যখন রাষ্ট্রপতি আমি তখন দীর্ঘ সংগ্রাম শেষে অর্জিত আমাদের সার্বভৌম পার্লামেন্টের একজন সদস্যের সৌভাগ্য লাভ করি। আমাদের দেশে ১৯৭৫ পরে আবার ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদের নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলো। কিন্তু আজ পর্যন্ত সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রত্যাশিত বিকাশ ঘটাতে পারিনি আমরা। যদিও অনেক চড়াই-উৎরাই পার হয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের শহীদদের ত্যাগের স্বীকৃতি একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পৃথিবীর দেশে দেশে পালিত হচ্ছে।

চেন্নাইয়ে প্রথম এসেছিলাম ১৯৮২ নভেম্বরে দিল্লীতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় এশিয়াড গেমসে বাংলাদেশ সরকারের ২১ সদস্যের নৃত্য, যন্ত্র ও কণ্ঠসঙ্গীতের সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে। দিল্লীর প্রগতি ময়দানে কয়েকটি মনোরম সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা উপহার দেয়ার পর বাঙ্গালুরুর মুম্বাই, চেন্নাই, হায়দ্রাবাদ, কলকাতায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশনের সুযোগ পেয়েছিলাম আমরা। এ প্রসঙ্গে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী প্রিয়দর্শিনী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীকে। যিনি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সংকটময় মুহূর্তে প্রভূত আশ্বাস এবং দৃঢ়তা নিয়ে আমাদের পাশে এসে শুধুমাত্র দাঁড়াননি আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ বন্ধুর যথার্থ ভূমিকা তিনি পালন করেছিলেন। ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সঙ্গে আমার যোগাযোগ ছিল বলেই হয়তো তিনি প্রাদেশিক পরিষদ অর্থাৎ বিধান সভা নির্বাচনে ব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও আমরা তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়েছিলাম। বর্তমানে ভারতের রাজনীতিতে চিত্রতারকাদের প্রভাব প্রতিপত্তি অনেক বেশি। বিশেষ করে দক্ষিণের রাজনীতিতে চিত্রতারকাদের কেউ কেউ অভিনয়ের ক্ষেত্রে দেব/দেবীর আসনে অধিষ্ঠিত হোন বিধায় তাদের দেবতার অবতার রূপে মান্যতা দেয়া হয়। তাদের একজন জনপ্রিয় চিত্রতারকা জয়ললিতা বর্তমানে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী।

এশিয়াড গেমস উপলক্ষে সেবার চেন্নাইতে সাংস্কৃতিক দল দু’টি অনুষ্ঠান করলেও রুকমিনি দেবীর কলাক্ষেত্র দেখার সুযোগ করতে পারিনি বলেই হয়ত এবার আমার স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য চেন্নাই এসেই কলাক্ষেত্র দেখার জন্য বিশেষভাবে আগ্রহী হই। সে সময় আমরা কলাক্ষেত্রে যেতে পারলে ভরত-নাট্যমের প্রবাদপ্রতিম রুকমিনি দেবীর সাক্ষাত হয়ত পেতাম। আজ তিনি প্রয়াত।

আধুনিক ভারতের নৃত্যকলার প্রবাদতুল্য রুকমিনি দেবীর জন্মশতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে কবি জয়দেবের গীতগোবিন্দ অবলম্বনে ১৫.০৯.২০০৩ তারিখের সন্ধে সাতটায় কলাক্ষেত্রের থিয়েটার মঞ্চে কলাক্ষেত্র ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি আর ভেংকটরমনের পাশে বসে গীতি-নৃত্য দেখার বিরল সুযোগ হলো আমার। এ যেন মনি-কাঞ্চনযোগ-জয়দেবের গীতগোবিন্দ, কলাক্ষেত্র, রুকমিনি দেবী। আর ভেংকটরমন রুকমিনি দেবীর জন্মের ছ’ বছর পর ১৯১০ তামিলনাড়ুর তানজাভুর জেলার রাজমাদম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। দুই কৃতী মানুষ ভেংকটরমন আর রুকমিনি দেবী একই অঞ্চলের একই সাংস্কৃতিক পরিবেশে জন্মগ্রহণ করেন। এই অঞ্চলটি যুগ যুগ ধরে ভারতকে শিক্ষা-সংস্কৃতি-রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব উপহার দিয়ে যাচ্ছে। স্বাধীন ভারতের জনক মহাত্মা গান্ধীর আহ্বানে ‘ভারত-ছাড়’ ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে কারাবরণ করেন রাজা গোপাল আচারি, কামরাজ, ভেংকটরমন প্রমুখ।

কলাক্ষেত্রের স্বপ্নদ্রষ্টা নৃত্যশিল্পের লিজেন্ট শ্রীমতী রুকমিনি দেবীর জন্ম ১৯০৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি। ব্যতিক্রমি জন্ম-তারিখের জন্য প্রতি চার বছর অন্তর লিপিয়ার ইয়ারে তাঁর জন্মজয়ন্তী পালন করা হয়। তিনি ১৯২০ সালে ম্যাডরাস প্রেসিডেন্সির প্রথিতযশা ব্রিটিশ শিক্ষাবিদ ড. জিএস অরুণডালের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। দক্ষিণের রক্ষণশীল নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ পরিবারের মেয়ে জাত-পাতের তোয়াক্কা না করে ভিনদেশী বিধর্মীকে বিয়ে করায় প্রতিবাদের ঝর উঠেছিল সমগ্র দক্ষিণে। কিন্তু তিনি অনড়। মাত্র সাত বছর বয়সে পিতার হাত ধরে মাদ্রাজের থিয়োসফিক্যাল সোসাইটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে সান্নিধ্য লাখ করেছিলেন প্রখ্যাত প্রকৃতিপ্রেমী, পরিবেশবিদ, থিয়োসফিস্ট নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির সভাপতি এ্যানি বেসান্তের। মুক্তচিন্তা, স্বাধীনতা প্রাচীন ভারতের আধ্যাত্মিকতা আর ভরত নাট্যমের নৃত্যশৈলী তাকে আকৃষ্ট করলো। ব্রিটিশ শিক্ষাবিদ স্বামী তাঁকে প্রতিকূল পরিবেশ উপেক্ষা করে সেই সময়ের খ্যাতনামা বিদেশী শিক্ষাবিদ এবং স্বদেশী পুরোধাদের সঙ্গে তার পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি ভরত নাট্যমের নৃত্যশৈলীকে মন্দিরের অচলায়তন থেকে মুক্ত করে তার প্রতিষ্ঠিত কলাক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা করার সময় শৃঙ্গার রসকে পরিহার করেন ভরত নাট্যম থেকে। ভরত নাট্যম নৃত্যশৈলীর এই বৈপ্লবিক পরিবর্তন অনেক প্রতিষ্ঠিত গুরুই মেনে নিতে পারেননি। কিন্তু এই পরিমার্জনে অনড় থেকে ভরত নাট্যম নৃত্যশিল্পকে আধ্যাত্মিক আদলে উঁচুমানের ধ্রুপদী নৃত্যশিল্প হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা দান করেন। ভারতের একজন অসাধারল ব্যক্তি হিসেবে তিনি ভারতীয় শিল্প সংস্কৃতির গৌরবময় ঐতিহ্যকে ধারণ করার জন্য কলাক্ষেত্র কেন্দ্রিক গবেষণা শুরু করেন। এই গবেষণা কাজে ভারতের প্রখ্যাত নৃত্যগুরু এবং স্কলারগণ অংশগ্রহণ করেন। তিনি গবেষণায় বিশেষ প্রাধান্য দিয়েছিলেন ভরত নাট্যমকে। তিনি গবেষণা করেছেন ভরত নাট্যমের ট্র্যাডিশনাল কসটিউম এবং জুয়েলারি নিয়ে। তিনি সংস্কৃত সাহিত্যের বর্ণনার আদলে বৈচিত্র্যম-িত মনোরম কসটিউম ও জুয়েলারি ব্যবহার করেন কলাক্ষেত্র কেন্দ্রিক ভরত নাট্যমে।

কলাক্ষেত্রে প্রাচীন ভারত এবং গ্রীসের গুরুবাদী শিক্ষার দ্বার উন্মোচিত হলো। একই আঙ্গিনায় ছাত্র/ছাত্রী শিক্ষক/শিক্ষিকার বসবাস শুরু হলো। নগরজীবনে কোলাহলমুক্ত বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ম-িত সাগর আর পাহাড়ের কোলে। বঙ্গোপসাগরের বেলাভূমির এক শ’ একর বনাঞ্চল নিয়ে ১৯৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কলাক্ষেত্র। kalakshetra lieterary means `A devotional Center for the Arts’. পুরাকালে তীর্থযাত্রীরা মাদ্রাজের তিরুভানসিউর ক্ষেত্রকে একাডেমির মর্যাদা দিয়েছিল সেই কনসেপ্ট থেকেই হয়ত কলাক্ষেত্র প্রতিষ্ঠিত হলো। ১৯৯৩ সালে কলাক্ষেত্র ভারতের লোকসভায় ‘কলাক্ষেত্র ফাউন্ডেশন এ্যাক্টের’ মাধ্যমে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা লাভ করে। কলাক্ষেত্রকে আন্তর্জাতিক মর্যাদাদানের জন্য শিল্পকে ব্যক্তি, জাতীয় ধর্মীয় এবং আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার জন্য প্রশিক্ষণ গবেষণা এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রে সঙ্গীত নৃত্যনাট্য চিত্রকলা এবং ভরত নাট্যমকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে কলাক্ষেত্র। সেই সঙ্গে ভয়হীন অশ্লীলতা বর্জিত শিল্প চর্চার প্রত্যয়ে দৃঢ় এই আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানটি। এই জাতীয় প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি আর ভেংকটরমন এবং সদস্য ছিলেন ওস্তাদ আমজাদ আলি খান ও প-িত যশরাজসহ খ্যাতিমান ব্যক্তিবর্গ। এই প্রতিষ্ঠানের সুবর্ণজয়ন্তীতে তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী প্রধান অতিথির আসন অলকৃত করেছিলেন। স্বাধীন ভারতের রূপকার প্রথম প্রধানমন্ত্রী প-িত জওহরলাল নেহরুসহ দেশীয় রাজন্যবর্গ এবং বিদেশী নামী দামী ব্যক্তিবর্গ এই প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনসহ পৃষ্ঠপোষকতা করেন।

কলাক্ষেত্র ক্যাম্পাসে সহায়ক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বেসান্ত থিয়োসফিক্যাল হাইস্কুল (The Besant Theosophical High School) (২) মারিয়া মোন্টিসরি শিশু নিকেতন (The Maria Montissori School for Children) (৩) বেসান্ত অরুনডালে উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় (The Besant-Arundale Higher Secondary School) দেশ-বিদেশের ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষা লাভ করে থাকে।

কলাক্ষেত্রের প্রকৃতি পদত্ত সবুজ বনাঞ্চলের ফাঁকে ফাঁকে গড়ে উঠেছে সব অনুচ্চ শ্রেণীকক্ষ, অফিস কক্ষ, ছাত্রবাস, বসবাসের ঘর। কোন ঘরই বৃক্ষশাখা উপচিয়ে আকাশচুম্বী নয় বলে প্রকৃতি লালিত বনাঞ্চলের স্নিগ্ধ শোভা আবিকৃত রয়েছে যেমন রয়েছে ভূমির ক্ষেত্রে কোন প্রয়োজনে মাটি কেটে সমতল বা উঁচু-নিচু করা হয়নি যেমন ছিল তেমনি অবিকল অক্ষত রয়েছে। এখানেও রুকমিনি দেবী একক এবং অদ্বিতীয়। কলাক্ষেত্রের বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয় তার থিয়েটার বা নাট্যশালায়। ভারতে বিশেষ করে রবীন্দ্র শতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিটি রাজ্যে নাট্যশালা বা অডিটরিয়াম নির্মিত হলেও এর বাইরে সকল আধুনিক ব্যবস্থাপনাসহ ভারতের হৃদয়ভিত্তিক কিছু খুঁজছিলেন- পেলেনও তিনি তাই। কেরালার কুটটমবালাম (কঁঃঃধসনধষধস) কেরালার মন্দিরের অংশ বিশেষ। আবার তামিলনাড়ুর মন্দিরে সঙ্গে পারফরমেন্সের জন্য অনুচ্চ পাটাতনের ক্ষুদ্রাকায় থিয়েটার কিন্তু কেরালায় কুটটমবালামের মতো নয়। কেরালা মন্দিরের অনন্য সাধারণ স্থাপত্যের ধারাবাহিকতার আদলে নির্মাণ করা হয়েছে কলাক্ষেত্রের থিয়েটার বা নাট্যমঞ্চ বা অডিটরিয়াম। পরিবেশের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখে নিতান্তই স্বল্পপরিমাণ সিমেন্ট ও লোহা ব্যবহার করা হয়েছে অথচ কাঠের ব্যবহারে প্রয়োজন মেটানো হয়েছে। যার ফলে আধুনিক প্রযুক্তির শব্দ-নিয়ন্ত্রণ এ্যাকসটিক এবং আলোকসম্পাত বা লাইট সাউন্ড যথাযথভাবে ক্রিয়াশীল রয়েছে। এই থিয়েটারে প্রাচীন-ভারতীয় রীতিতে বসার ব্যবস্থা রয়েছে- পাটি বিছিয়ে বা খালি মেঝে বা ফ্লোরে বসা যায় যেমন, তেমনি সোফা-চেয়ারেও বসা যায় অর্থাৎ চেয়ারগুলো স্থায়ীভাবে সেট করা বা বসানো নেই।