১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মৃত্যু পরোয়ানা পাঠানো হলো সাকা ও মুজাহিদকে

বিকাশ দত্ত ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের ‘লাল কাপড়ে মোড়ানো’ মৃত্যু পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১, ২ ও উচ্চ আদালতের আপীল বিভাগে বিচারিক কার্যক্রম পরিসমাপ্তির পর এই মৃত্যু পরোয়ানা জারি করা হলো। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে এই পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। এর পর পরোয়ানা লাল সালুতে বেঁধে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানো হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার (জেলা জজ ) শহীদুল আলম ঝিনুক এ তথ্য জানিয়েছেন। জেল কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছেন তারা লাল কাপড়ে বাঁধা মৃত্যুপরোয়ানা পেয়েছেন।

বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর এই দুই শীর্ষ নেতা জোট সরকারের সাবেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল মৃত্যু পরোয়ানা জারির পর দ- কার্যকরের আরেক ধাপ এগিয়ে গেল। এখন সর্বশেষ দুটি ধাপ রয়েছে। একটি রিভিউ আবেদন অন্যটি আবেদন খারিজ হলে সর্বশেষ রাষ্ট্রপতির নিকট প্রাণভিক্ষা। রাষ্ট্রপতি প্রাণ ভিক্ষা নাকচ করলে দণ্ড কার্যকরে কোন বাধা থাকবে না। সরকার পক্ষ বলেছেন, নিয়ম অনুসারে রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশিত হবার ১৫ দিনের মধ্যে উচ্চ আদালতে রিভিউ করতে হবে। অন্যদিকে আসামি পক্ষ জানিয়েছেন, তারা রায়ের সার্টিফাইড কপি হাতে পেলেই ১৫ দিনের মধ্যে রিভিউ করবেন। তবে এ সময়ের মধ্যে রাষ্ট্র বসে থাকবে না। আসামি পক্ষের আইনজীবী শিশির মনির জনকণ্ঠকে বলেছেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চীফ প্রসি্িকউটর বরাবর ডাকযোগে একটি নোটিস পাঠিয়েছেন। সেখানে বলা হয়েছে, আমাদের রিভিউ করার জন্য ১৫ দিন সময় আছে। এই সময়ের মধ্যেই সুপ্রীমকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিভিউ দায়ের করব। এদিকে প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় এই প্রতিনিধিকে বলেছেন, তারা এখনও কোন চিঠি পাননি। এদিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, রিভিউ নিষ্পত্তি হওয়ার পর সিদ্ধান্ত হবে যে, কিভাবে তা কার্যকর হবে। কিন্তু কোন অবস্থাতেই রিভিউ আবেদন চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আপীলের রায় কার্যকর করা যাবে না। যেই মুহূর্তে আসামি পক্ষ সার্টিফাইড কপি পাবে সেই মুহূর্ত থেকে তারা ১৫ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন দাখিল করবেন। অর্থাৎ রিভিউ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসি কার্যকরের প্রক্রিয়া স্থগিত থাকবে।

সুপ্রীমকোর্ট এ দুই মানবতাবিরোধী আসামির আপীল মামলার রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের পর বৃহস্পতিবার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তিন বিচারপতি তাদের মৃত্যু পরোয়ানায় সই করেন।

সম্প্রতি পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনাল-১ এর ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মোঃ আনোয়ারুল হক। অন্য দুইজন হলেন- বিচারপতি মোঃ শাহিনুর ইসলাম, বিচারপতি মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী। পরে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার শহীদুল আলম ঝিনুক পরোয়ানায় সই করার পর দুপুর তিনটার দিকে জ্যেষ্ঠ আইন গবেষণা কর্মকর্তা পারভেজ আহমেদের নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনালের কয়েক কর্মী মাইক্রোবাসে তা পৌঁছে দেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জেল সুপারের কাছে। অন্যরা হলেন লাইব্রেরিয়ান তাপস কুমার রায় এবং ডেসপাস রাইডার সিরাজুল ইসলাম।

মৃত্যু পরোয়ানা পাঠানোর আগে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার শহীদুল আলম ঝিনুক জনকণ্ঠকে বলেন, আমাদের দায়িত্ব ছিল আপীল বিভাগের রায় পাওয়ার পর ডেথ ওয়ারেন্টের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া। ট্রাইব্যুালের আদেশে আমরা তা করেছি। ডেথ ওয়ারেন্ট ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপারের কাছে পাঠানো হয়েছে; তিনিই পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার নেসার আহম্মেদ জানিয়েছেন , তারা পরোয়ানা গ্রহণ করেছেন। আইন অনুসারে পরোয়ানা দুই আসামিকে পড়ে শোনানো হবে। ইতোমধ্যে পরোয়ানা পড়ে শোনানো হয়েছে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদ-াদেশপ্রাপ্ত আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে। পরোয়ানাপ্রাপ্ত অন্য যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী কাশিমপুর কারাগারে থাকায় তাকে এখনও জানানো যায়নি। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনার পর সাকা চৌধুরীকেও পরোয়ানা পড়ে শোনানো হবে বলে জানিয়েছে কারাগার সূত্র।

আইনজীবীগণ জানিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষ চাইলে আপীল বিভাগে রায় রিভিউ চেয়ে আবেদন করতে পারবেন। যদি কোন পক্ষ এই সময়ের মধ্যে রিভিউ আবেদন না করেন, তাহলে ১৫ দিন পর যে কোন সময় সরকার রায় কার্যকর করতে পারবে। মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদ- কার্যকর হওয়া কাদের মোল্লার রায় রিভিউ চেয়ে করা পূর্ণাঙ্গ রায়ে এই সিদ্ধান্ত দিয়েছিল আপীল বিভাগ। ওই সিদ্ধান্ত এই দুই আসামির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

৩০ সেপ্টেম্বর সাকা চৌধুরীর ২১৭ পৃষ্ঠার এবং মুজাহিদের ১৯১ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ, যা সুপ্রীমকোর্টের ওয়েবসাইটেও রয়েছে। রায়ে স্বাক্ষর করেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ আপীল মামলার রায় প্রদানকারী চার বিচারপতি। অন্য বিচারপতিরা হলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম তার কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, এ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের জন্য অধীর আগ্রহে ছিলাম। আজ তার অবসান হলো। গত ২৯ জুলাই সাকা চৌধুরীর এবং গত ১৬ জুন মুজাহিদের আপীল মামলায় ট্রাইব্যুনালে দেয়া মৃত্যুদ- বহাল রেখে সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করে আপীল বিভাগ। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের দিন থেকেই ১৫ দিনের মধ্যে রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করতে পারবেন আসামি সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদ। তবে আসামিপক্ষের রিভিউ আবেদনের জন্য রাষ্ট্র বসে থাকবে না। দ- কার্যকরের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেবে রাষ্ট্র। আসামিরা রিভিউ দায়ের করলে তখন দ- কার্যকর প্রক্রিয়া স্থগিত থাকবে।

তিনি বলেন, রিভিউ দায়ের করলে আদালতের অবকাশকালীন সময়েও শুনানি হতে কোন বাধা নেই। এখন দ্বিতীয় ধাপে বিধি মোতাবেক রায় প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) করতে পারবেন আসামি ও রাষ্ট্র উভয়পক্ষই। আসামিপক্ষে আইনজীবী শিশির মনির পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর বলেছেন, তারা রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করবেন। পূর্ণাঙ্গ রায়ের সত্যায়িত অনুলিপির জন্য আবেদন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যবিশিষ্ট আপীল বিভাগের বেঞ্চ ১৬ জুন মুজাহিদ আর ২৯ জুলাই সাকার রায় ঘোষণা করেন। এই বেঞ্চের অপর তিন সদস্য হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। ১০৭ দিনের মাথায় মুজাহিদ এবং ৬৪ দিনের মাথায় সাকার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। দুই রায়েই ট্রাইব্যুনালের দেয়া সর্বোচ্চ সাজার দ- বহাল রয়েছে। এর মধ্যে মুজাহিদের রায় ১৯১ এবং সাকা চৌধুরীর রায় ২১৭ পৃষ্ঠার।

এক নজরে সাকার মামলা ॥ সাকা চৌধুরীর মামলায় উভয়পক্ষের শুনানি ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ২০১৩ সালের ১৪ আগস্ট রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়। ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর সাকাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- প্রদান করে ট্রাইব্যুনাল। সালাউদ্দিন কাদের (সাকা)চৌধুরী বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা ২৩টি অভিযোগের মধ্যে নয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত। ১৪টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। ২৩টি অভিযোগের মধ্যে ৯টি ঘটনায় সাকা চৌধুরীর সংশ্লিষ্টতা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত। এর মধ্যে চারটি চার্জ ৩, ৫, ৬ ও ৮ নম্বর অভিযোগে হত্যা, গণহত্যার দায়ে সাকা চৌধুরীকে মৃত্যুদ- দেয়া হয়। ১৭ ও ১৮ নম্বর অভিযোগে অপহরণ ও নির্যাতনের দায়ে পাঁচ বছর করে ১০ বছর কারাদ-। ২, ৪ ও ৭ নম্বর অভিযোগে হত্যা, গণহত্যা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও দেশান্তরে বাধ্য করার মতো অপরাধে জড়িত থাকা এবং এর পরিকল্পনা করার দায়ে ২০ বছর করে ৬০ বছর কারাদ- দেয়া হয়েছে।

আর প্রমাণিত অপহরণ ও নির্যাতন সংক্রান্ত অভিযোগে আনা হয়েছে, ১৭ নং অভিযোগে নিজাম উদ্দিন আহম্মেদকে অপহরণ ও নির্যাতন, ১৮ নং অভিযোগে সালেহ উদ্দিন আহমেদকে অপহরণ ও নির্যাতন। আর এই দুই অভিযোগে সাকাকে দেয়া হয়েছে ৫ বছরের সশ্রম কারাদ-। অন্যদিকে ২, ৪ ও ৭ নং অভিযোগে তাকে দেয়া হয়েছে ২০ বছরের কারাদ-। আর যে সকল অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছেÑ ১, ১০, ১১, ১২, ১৪, ১৯, ২০ ও ২৩ নং । এছাড়াও যে অভিযোগগুলো নিয়ে আদালত কিছু বলেনি Ñ ৯, ১৩, ১৫, ১৬, ২১ ও ২২ নং ।

আপীলের কার্যক্রম ॥ একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে ট্রাইব্যুনাল কর্র্তৃক হত্যা ও গণহত্যার দায়ে মৃত্যুদ-াদেশ পাওয়া বিএনপির শীর্ষ নেতা সাকা বাহিনীর(নিজস্ব বাহিনী) প্রধান স্বঘোষিত ব্রিগেডিয়ার সালাউদ্দিন কাদের (সাকা ) চৌধুরীকে ২৯ জুলাই ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদ- বহাল রাখে সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ। ৭ নম্বর অভিযোগ থেকে আসামি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে খালাস দেয়া হয়েছে। ২,৩, ৪,৫, ৬,৮, ১৭ ও ১৮ নম্বর অভিযোগে সাজা বহাল রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আনা ২৩টি অভিযোগের মধ্যে নয়টি প্রমাণিত। ৩,৫, ৬ ও ৮ নম্বর অভিযোগে সাককে মৃত্যুদ-াদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। আপীল বিভাগ তা বহাল রাখে। ৭ নম্বর অভিযোগে সাকা চৌধুরীকে ২০ বছর কারাদ- দেয় ট্রাইব্যুনাল। এই অভিযোগ থেকে আসামিকে খালাস দিয়েছে আপীল বিভাগ। ২ ও ৪ নং সাকাকে ট্রাইব্যুনাল ২০ বছরের কারাদ- প্রদান করে । সেটা আপীল বিভাগ বহাল রেখেছে। অন্যদিকে ১৭ ও ১৮ নম্বর অভিযোগে সাকাকে ৫ বছর করে কারাদ- প্রদান করা হয় । আপীল বিভাগ সেটাও বহাল রেখেছে।

মুজাহিদ ॥ ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- প্রদান করে। এই প্রথম বাংলাদেশের মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করা কোন ব্যক্তি বুদ্ধিজীবী হত্যার অভিযোগে উচ্চ আদালত তাকে মৃত্যুদ- বহাল রাখল। আপীল বিভাগ রায়ে অভিযোগ-১ সাংবাদিক সিরাজ উদ্দিন হোসেনকে অপহরণ ও হত্যার দায়ে আসামি মুজাহিদকে খালাস দিয়েছে। অভিযোগ -২ ট্রাইব্যুনালের দেয়া ৫ বছরের সাজা বহাল রেখেছে। অভিযোগ -৫ এ বদি রুমিসহ অন্যদের হত্যার ঘটনায় ট্রাইব্যুনালের দেয়া যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ- বহাল রেখেছে । অভিযোগ-৬ ট্রাইব্যুনালের দেয়া বুদ্ধিজীবী হত্যার অভিযোগে মৃত্যুদ- বহাল রাখা হয়েছে। অন্যদিকে অভিযোগ-৭ এ বকচর হত্যাকা-ে ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদ- কমিয়ে যাবজ্জীবন করাদ- প্রদান করা হয়েছে। ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল -২ মুজাহিদের বিরুদ্ধে ৭টি অভিযোগের মধ্যে ২টি অভিযোগ (২ ও ৪) প্রমাণিত না হওয়ায় অভিযোগর দায় থেকে তাকে খালাস দেন। অন্যদিকে ৫টি অভিযোগ (১,৩,৫,৬,৭) সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তাকে ৩নং অভিযোগে ৫ বছর ও ৫ নং অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদ- প্রদান করে। ৬ ও ৭ নং অভিযোগে মুজাহিদকে মুত্যুদন্ড প্রদান করা হয়। ১ নং অভিযোগটি ৬নং অভিযোগের সঙ্গে একীভূত করায় ১ নং অভিযোগে পৃথক কোন দ- দেয়নি ট্রাইব্যুনাল।

আপীল কার্যক্রম ॥ ১৮ মে রাষ্ট্রপক্ষে আংশিক যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এর আগে গত ২৯ এপ্রিল এবং ৪, ৫, ৬,১৭ ও ১৮ মে আপীলে পেপারবুক পড়া শেষ করেন মুজাহিদের আইনজীবী। গত ১৫ এপ্রিল আপীল বিভাগ আপীলের ওপর শুনানির জন্য ২৮ এপ্রিল দিন ধার্য করে। তবে ঐদিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে সাধারণ ছুটি থাকায় শুনানি হয়নি। প্রায় ২১ মাস পর ২৯ এপ্রিল আপীলের ওপর শুনানি শুুরু হয়। এরপর ৪, ৫, ৬ ও ১৭,১৮,২৫,২৬ ও ২৭ মে শুনানি গ্রহণ করে আদালত। ২৭ মে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার জন্য ১৬ জুন দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। সব শেষে ১৬ জুন মুজাহিদের বিরুদ্ধে আপীল বিভাগ মৃত্যুদ- বহাল রেখে রায় প্রদান করে। অবশেষে ৩০ সেপ্টেম্বর এই দুই যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির আদেশ বহাল রেখে আপীল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে।