২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

উবাচ

জঙ্গী তত্ত্বকার!

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নিশ্চয়ই বাংলা ভাইয়ের কথা মনে আছে সকলের। সরকারের উৎসাহে জঙ্গীবাদের বিস্তারের ওই সময়ে সরকার কী বলেছে তাও ভুলে যাওয়ার কথা নয়। যখন দেশে নীরব প্রশ্রয়ে জঙ্গীবাদ বিস্তৃত হচ্ছিল তখন বলা হতো সবকিছু মিডিয়া গসিপ! শেষপর্যন্ত প্রমাণ হলো- না মিডিয়া জঙ্গী তৈরি করেনি। এখনও তাদের পরামর্শকরা দেশে জঙ্গী দেখে না। তাদের ভাষায় সবকিছু নাকি সরকারই তৈরি করেছে। ঠিক তারা যেমন করে তৈরি করেছিল তেমন করেই কী? না হলে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন কিভাবে বললেন, আওয়ামী লীগ দেশে জঙ্গীর আবিষ্কারক। বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের হলরুমে এক আলোচনা সভায় তিনি এ দাবি করেন। এ কথার মানে কি তিনি এর আগে কোন দিন দেশে জঙ্গীবাদ দেখেননি। তিনি কি বাংলা ভাই আর আব্দুর রহমানের ফাঁসির সঙ্গে সঙ্গে তাদের ভুলে গেছেন। ওরা যে তাদেরই প্রশ্রয়ে এমন মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল। তাদের ছিটিয়ে যাওয়া বীজে এখনও জঙ্গীবাদের বিষবৃক্ষ গজাচ্ছে। ‘জঙ্গী তত্ত্বের আবিষ্কার! সঙ্কট ও পরিণতি, মুক্তি কোন পথে’ বাংলাদেশ জাতীয় দল নামের বিএনপি ঘরানার একপক্ষ বৃহস্পতিবার ওই আলোচনার আয়োজন করে। মাহবুব ওই আলোচনা অনুষ্ঠানে বলেন, এখন পদক বাণিজ্য চলছে। তারই অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী একটি পদক নিয়ে এসেছেন। এতে কোন কাজ হবে না। দেশে এ সরকারের কোন জনসমর্থন নেই। বিদেশেও তাদের কোন গ্রহণযোগ্যতা নেই।

রাজনীতির সূত্র

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সূত্র না জানায় বিএনপি রাজনীতির অংক মেলাতে পারেনি- মন্তব্যটি নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের। গত মঙ্গলবার মন্ত্রী এক আলোচনা অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেছেন। তবে সূত্রটা কী, তা মন্ত্রী খোলাসা করেননি। মন্ত্রীর ভাষায়, তারা এখন পরাজিত সৈনিকের মতো ঘরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। উনারা পেট্রোলবোমা মেরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু জনগণ তাতে সাড়া দেয়নি। বেগম খালেদা জিয়া এবং তার দল বিএনপি নেতারা জাতীয় ঐক্যের কথা বলেন। কিন্তু জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি কী হবে, তা তারা বলেন না। বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, এ দেশের মানুষ গণতন্ত্র চায়। তবে সন্ত্রাসী গণতন্ত্র চায় না। জনসমর্থন ছাড়া শুধু অস্ত্র দিয়ে কাজ হয় না। তিনি বলেন, বিএনপি নেতারা সরকার পরিবর্তনের জন্য গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের কথা বলেছিলেন, যা ছিল উনাদের ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখার মতো। উনারা জনগণকে রাজপথে আসার ডাক দিয়ে পেট্রোলবোমা মেরে তাদেরই ঘরে তুলে দিয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, এখন উনারা জনগণের ভয়ে কাছিমের মতো মুখ লুকিয়ে রেখেছেন। সুযোগ বুঝে তাদের সন্ত্রাসী আর জঙ্গীবাদের গলা বের করবেন। কিন্তু তারা যাতে আর কখনই এ দেশে সন্ত্রাস আর জঙ্গীবাদের গলা বের করতে না পারে- তার জন্য জনগণ অতন্দ্র প্রহরীর মতো জেগে রয়েছেন। এ দেশের মানুষ পেট্রোলবোমা আর সন্ত্রাসের রাজনীতি কখনই বরদাশ্ত করবে না।’

সারাদেশ কারাগার!

স্টাফ রিপোর্টার ॥ লন্ডনে বসে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বলছেন- বাংলাদেশকে কারাগারে পরিণত করেছে সরকার। এর মানে কি দেশের সব মানুষ কারাগারে থাকেন? বেগম জিয়া কি কারাগার থেকে বের হয়ে লন্ডনে গেলেন! বেগম জিয়ার ভাষায় বাংলাদেশ, যেখানে মানুষ ঠিকমতো ঘুমাতে পারে না। এ জন্যই কি বেগম জিয়ার সব রাজনৈতিক আচার অনুষ্ঠান সর্বদা মধ্যরাত ক্ষেত্রবিশেষ শেষরাত স্পর্শ করে? কারণ দেশে তো কারও ঘুম হয় না। তিনি বলেন, দেশে কোন মৌলিক অধিকার নেই। এর অর্থ কি দেশে কেউ খায় না, কাপড় পরে না, ঘরবাড়ি নেই, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যায় না, ডাক্তার দেখায় না- নাকি এসব দেশে হচ্ছে এখনও। তিনি আরও বলেন, দেশে মানবাধিকার নেই, আইনের শাসন নেই, গণতন্ত্র নেই। এভাবে বিশ্লেষণ করতে গেলে যদি বলা হয়- আইনের শাসন না থাকলে বেগম জিয়া কেন আদালতে হাজিরা দেন। আইনের শাসন আছে বলেইতো তিনি আদালতে হাজিরা দেন। দেশে ধরুন গণতন্ত্র নেই, তাহলে বেগম জিয়ার আইনজীবী কিভাবে বললেন, মামলায় বেগম জিয়া পারিশ্রমিক দেননি বলে তিনি শুনানি করতে পারবেন না। দেশে গণতন্ত্র না থাকলে কি এসব সম্ভব হতো।

লন্ডনে প্রবাসী নেতাকর্মীদের সঙ্গে পবিত্র ঈদ-উল-আযহার শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া এ সব কথা বলেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বড় ছেলে এবং দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জোবায়দা রহমান। শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রবাসী নেতাকর্মীদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, এ আওয়ামী লীগ কিছুতেই ক্ষমতা ছাড়বে না। উনি গদি ছাড়বেন না। কেন গদি ছাড়বেন না বলেন তো? এত লুটপাট ও খুন সরকার করেছে যে, ক্ষমতা ছাড়লে তারা পার পাবে না। খালেদা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে এখন সরকারবিরোধীদের রাজনৈতিক কর্মসূচী পালন করতে দেয়া হচ্ছে না। পুলিশের মাধ্যমে এ সরকারকে টিকিয়ে রাখা হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, আওয়ামী লীগের মধ্যেও ভাল লোক ও দেশপ্রেমিক আছেন। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এবং তাতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তাদের সঙ্গে নিয়েই তিনি দেশকে সামনের দিকে চালিয়ে নিতে চান।