২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কে হচ্ছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী-

নাজনীন আখতার ॥ মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের হয়ে হিলারি ক্লিনটনের প্রার্থিতার পক্ষে নারী, কলেজপড়ুয়া তরুণ-তরুণী এবং কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের আগ্রহ বেশি। ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে দলের হয়ে প্রার্থী করার পক্ষে তোড়জোড় শুরু হওয়ার পর এক নতুন জরিপ এ তথ্য দিচ্ছে। লড়াইয়ে নামার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিয়েও আলোচিত বাইডেন। এই দু’জনের মধ্যে কে বিপক্ষ দলের প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারাতে সক্ষম তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হওয়ার পর নতুন করে ভাবতে বসেছেন ডেমোক্র্যাটিক দলের গোঁড়া সমর্থক ভোটাররা। এই ভোটাররা যে কোনভাবেই হোক রিপাবলিকান প্রার্থীদের হারানোর পক্ষে। তবে ভোটাভুটিতে তরুণ, নারী ও সংখ্যালঘু কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের বেশিরভাগের আগ্রহ সাবেক মার্কিন ফার্স্ট লেডি এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে ঘিরে।

মধ্য সেপ্টেম্বরে সিএনএনের এক জরিপ তথ্য তুলে ধরে চলতি সপ্তাহে দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকা হিলারি এবং জো বাইডেনের পক্ষে-বিপক্ষে বিশ্লেষণধর্মী এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সিএনএনের জরিপে বলা হয়েছে, নারী ভোটারদের ক্ষেত্রে ২৯ পয়েন্ট এবং অশ্বেতাঙ্গ অর্থাৎ কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের ক্ষেত্রে ৩১ পয়েন্টে বাইডেন থেকে এগিয়ে রয়েছেন হিলারি। আর ডেমোক্র্যাটিকের অপর প্রার্থী বের্নি স্যান্ডার্স দুই জনের থেকেই জরিপে ফলে অনেক পিছিয়ে রয়েছেন।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নারী ভোটারদের মধ্যে এখন পর্যন্ত হিলারি ক্লিনটনকে নিয়ে যে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে তা শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারলে প্রার্থিতার ক্ষেত্রে হিলারির জয়ের সম্ভাবনাই বেশি। কারণ ডেমোক্র্যাটিক দলের ভোটারদের মধ্যে ৫৫ শতাংশের বেশি রয়েছেন নারী। আবার বাইডেনের পক্ষে বলা হচ্ছে, হিলারির পক্ষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সমর্থন না থাকলে এবং দলের মধ্যে যদি বিষয়টি নিয়ে অন্তর্মুখী কোন দ্বন্দ্ব তৈরি হয়, তাহলে বাইডেনের প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা চলে আসতে পারে। সেক্ষেত্রে বাইডেন মাঠে নামার পর পরিস্থিতি পাল্টে যেতে পারে। হয়ত নারী, তরুণ বা কৃষ্ণাঙ্গ ভোটাররাও আবার নতুন করে ভাবতে বসতে পারেন। এই ভোটগুলোই তখন চলে যেতে পারে বাইডেনের দিকে।

তাছাড়া বিভিন্ন জরিপ ফল বলছে, শুরুর দিকের জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারছেন না ৬৮ বছর বয়সী হিলারি ক্লিনটন। ই-মেল কেলেঙ্কারি, নিজ সংস্থার অর্থ অস্বচ্ছতা, স্বামীর যৌন স্ক্যান্ডাল এবং অতিরিক্ত বয়স- এসব কারণে তার সঙ্গে রিপাবলিকান প্রার্থীদের ব্যবধান দিনে দিনে কমে আসছে। সেক্ষেত্রে বাইডেনকে প্রার্থী করলে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সঙ্গে উপযুক্ত ব্যক্তির লড়াই হবে এবং দুনিয়া শাসনের ক্ষমতা পর পর তিনবার ডেমোক্র্যাটিক দলের হাতেই থাকবে বলে অনেক সমর্থক মনে করছেন।

উল্লেখ্য, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ৫ জন এখন পর্যন্ত প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। হিলারি ক্লিনটন ছাড়া বাকি ৪ জন হলেন- ভার্জিনিয়ার সাবেক সিনেটর জিম ওয়েব, সাবেক সিনেটর ও রোডস আইল্যান্ডের গবর্নর লিংকন ক্যাফে, ভারমন্টের স্বতন্ত্র সিনেটর বের্নি স্যান্ডার্স এবং মেরিল্যান্ডের সাবেক গবর্নর মার্টিন ওমালি। এদিকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রার্থী হতে ইচ্ছুক বলে জানা গেছে। বাইডেন মনোনয়ন চাইলে হিলারি দলে বেশ চাপের মধ্যে পড়বেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিউইয়র্ক টাইমসের এক খবরে বলা হয়েছে, হিলারিকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ততটা যোগ্য ভাবছেন না দলের এমন সব প্রভাবশালী নেতা ও দাতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাইডেন। তিনি তাদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছেন।

১৯৮৮ সালে বাইডেন প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতার জন্য লড়াই করেছিলেন। সে সময় তার বয়স ছিল ৪৪ বছর। তবে অসম্মানজনকভাবে তাকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে হয়েছিল। ব্রিটিশ লেবার পার্টি নেতা নেইল কিননক ইস্যুতে বিতর্কিত হয়ে তা আদালত পর্যন্ত গড়ালে তাকে সরে যেতে হয়েছিল। অপরদিকে হিলারি ২০০৮ সালে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার জন্য ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়ন পেতে চেয়েছিলেন। শুরু করেছিলেন মহড়া প্রচার। তবে পার্টির অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রতিদ্বন্দ্বী বারাক ওবামার কাছে হেরে যান। দলের মনোনয়ন পেয়ে ওইবার এবং পরের বারও প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন বারাক ওবামা। প্রথম দফায় ২০০৮ সালে প্রেসিডেন্ট হয়ে বারাক ওবামা হিলারি ক্লিনটনকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগ দেন। ২০১৩ সাল পর্যন্ত হিলারি ওই দায়িত্ব পালন করেন।

গত ১৯ আগস্ট সিএনএনের এক জরিপে ফল অনুযায়ী, চার রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে ট্রাম্প থেকে ৬ পয়েন্ট (৫১ শতাংশ) এবং উইসকনসিন গর্বনর স্কট ওয়াকার থেকে ৬ পয়েন্ট (৫২ শতাংশ), ফ্লোরিডার সাবেক গবর্নর জেব বুশের চেয়ে ৯ পয়েন্ট (৫২ শতাংশ) এবং কার্লি ফিওরিনা থেকে ১০ পয়েন্ট (৫৩ শতাংশ) এগিয়ে ছিলেন হিলারি।

তবে চলতি সপ্তাহের জরিপে দেখা যাচ্ছে, হিলারির চেয়ে বাইডেন রিপাবলিকান চার প্রার্থী জেব বুশ, বেন কার্সন, কার্লি ফিওরিনা এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভাল অবস্থানে রয়েছেন। এর মধ্যে ফিওরিনার সঙ্গে সবচেয়ে কাছাকাছি লড়াই হয়েছে। বাইডেন ৪৭ শতাংশ এবং ফিওরিনা ৪১ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।