২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সাকার শেষ পরিণতির কাউন্ট-ডাউন শুরু

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দ-প্রাপ্ত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের আপীলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর চট্টগ্রামের মানুষের দৃষ্টি এখন সেদিকে। বিশেষ করে চট্টগ্রামে সাকা চৌধুরীকে নিয়ে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন একটু বেশি। চট্টগ্রাম থেকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে একমাত্র এই সাকাকেই গ্রেফতার এবং বিচার সম্পন্ন করে ফাঁসির চূড়ান্ত রায় হয়েছে। স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে বিভিন্ন সময়ে তার বিভিন্ন দম্ভোক্তি বিপুলভাবে আলোচিত। কিন্তু এই রাজাকার শেষ পর্যন্ত বিচার ও সাজার মুখোমুখি হবেন কিনা, এ নিয়ে এক প্রকারের সংশয় ছিল বরাবরই। ট্রাইব্যুনালের রায় আপীলে বহাল এবং বৃহস্পতিবার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মৃত্যু পরোয়ানা পৌঁছার পর সে সন্দেহ কেটে গেছে। এতে স্বস্তি এসেছে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এবং একাত্তরে নির্যাতিত পরিবারগুলোর মাঝে।

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। সর্বোচ্চ আদালতে দ-িত হওয়ার পরও কমিটি থেকে বাদ দেয়া হয়নি তাকে। বরং রায় ঘোষিত হওয়ার পর দলের মুখপাত্র সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছিলেন, ‘এই রায়ে তারা মর্মাহত।’ দম্ভোক্তিতে তার জুড়ি মেলা ভার। একাত্তর সালের ভূমিকার জন্য তার দুঃখবোধ তো দেখা যায়নি, বরং তিনি গর্ববোধ করতেন। বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, ‘আমার পিতা স্বাধীনতাবিরোধী এবং পাকিস্তান রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন। এ জন্য আমি গর্বিত।’

দম্ভোক্তি করা এ ব্যক্তির বিচার কখনও সম্ভব হবে- এমন বিশ্বাস অনেকেরই ছিল না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শুরু হয়ে গেছে শেষ পরিণতির কাউন্ট-ডাউন। আপীলের পূর্ণাঙ্গ রায় কেন্দ্রীয় কারাগারে চলে যাওয়ার পর থেকে স্বাভাবিক নিয়মেই শুরু হয়ে গেছে দ- কার্যকরের প্রক্রিয়া। রিভিউ পিটিশনের জন্য সময় মাত্র পনেরো দিন।

সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কার্যক্রম শুরু করার পরও সাকা চৌধুরীকে নিয়ে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন ছিল। বাকপটু এই বিএনপি নেতা নিজেও কখনও ধারণা করেননি তাকে কৃতকর্মের জন্য বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। তার অনুসারীদের বিশ্বাসও ছিল তেমনই। শুধু তাই নয়, সরকার সমর্থক অনেকের মধ্যেও এক ধরনের শঙ্কা ছিল। কেননা এই যুদ্ধাপরাধীর প্রভাব এবং হাত অনেক লম্বা- এমনই মনে করা হয়। বিচার কার্যক্রম শুরু হওয়ার পরও সাকা পরিবারের নানামুখী তৎপরতা পরিলক্ষিত হয়েছে। দেশে-বিদেশে লবিংয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর রায়ের কপি ফাঁস করা ছাড়াও নানা অনৈতিক পন্থায় চলে বিচার ভ-ুল কিংবা বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা।

মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দ-প্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে একমাত্র সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীই চট্টগ্রামের। এর বাইরে জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলীর ব্যবসা-বাণিজ্য চট্টগ্রামে হলেও তিনি ভিন্ন জেলার। ফলে সাকা চৌধুরীর ফাঁসির রায়কে নিয়ে চট্টগ্রামের মানুষের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কেননা বন্দর নগরীর গুডস হিল, রাউজানের ঊনসত্তর পাড়া, জগৎমল্লপাড়া, কুন্ডেশ্বরী ভবন, সুলতানপুরসহ বেশকিছু এলাকায় এখনও একাত্তরের নৃশংস নির্যাতনের স্মৃতি দগদগে হয়ে আছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিম ও তদন্ত দল রাউজানের সেই এলাকাগুলো পরিদর্শনে গেলে নির্যাতিতদের স্বজনরা তুলে ধরেছিলেন সাকা ও তার বাহিনীর পৈশাচিক কর্মকা-ের চিত্র। তাদের আকুতি ছিল- ‘একাত্তরে বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও রাউজান স্বাধীন হয়নি। এই ঘাতকের বিচার করে আমাদের সত্যিকার অর্থে স্বাধীন করুন।’ অবশেষে সেই ঘাতকের ফাঁসির রায় বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ৪৪ বছর পর রাউজান সত্যিকার অর্থে স্বাধীন হতে যাচ্ছে বলে আশা করতে শুরু করেছেন এলাকার মানুষ।