১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ময়মনসিংহের জাপার এমপি হান্নান, তার পুত্রসহ গ্রেফতার ৫

  • যুদ্ধাপরাধী বিচার;###;পটুয়াখালীর ৫ রাজাকারকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ময়মনসিংহের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য এমএ হান্নান ও তার ছেলে সাজ্জাদসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর পুলিশ এমএ হান্নান ও তার ছেলে সাজ্জাদসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। অন্যদিকে, পটুয়াখালীর ৫ রাজাকারকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ প্রদান করেছেন। এ সময় প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম, প্রসিকিউটর সুলতান মুহাম্মদ সিমন, প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল ও প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ময়মনসিংহের সংসদ সদস্য এমএ হান্নানসহ ৮ রাজাকারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারের জন্য আবেদন করা হয়। এ সময় ট্রাইব্যুনাল তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর পুলিশ ঢাকা থেকে এমএ হান্নান ও তার ছেলেকে গ্রেফতার করে। অন্যদিকে, ময়মনসিংহে গ্রেফতারকৃত তিনজন হচ্ছেন ডাঃ খন্দকার গোলাম সাব্বির (৬৯), মিজানুর রহমান মিন্টু (৬০) ও হরমুজ আলী (৭৩)।

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ময়মনসিংহ শহরের গুলকিবাড়ি ও নওমহল রোড এলাকা থেকে সাব্বির ও মিন্টু এবং সন্ধ্যায় ত্রিশালের বৈলর থেকে হরমুজকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত ১৯ মে হান্নানসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুর রহমানের স্ত্রী রহিমা খাতুন। ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১নং আমলি আদালতে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন ’১৯৭৩ এর ৩ (২) ধারায় এ মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলাটি আমলে নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দেন আদালতের বিচারক আহসান হাবিব। মামলায় জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য এমএ হান্নান ছাড়াও জামায়াত নেতা ফকরুজ্জামান ও শহরতলীর গলগ-া এলাকার গোলাম রব্বানীকে আসামি করা হয়।

বাদিনী ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বৈলর মুন্সীপাড়া এলাকার শহীদজায়া রহিমা খাতুন মামলায় অভিযোগ করেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে সক্রিয় সহায়তার লক্ষ্যে এমএ হান্নান ময়মনসিংহ জেলা শান্তি কমিটি গঠন করে এর সাধারণ সম্পাদক হন। ফকরুজ্জামান ও গোলাম রব্বানি আলবদর বাহিনীর সশস্ত্র সদস্য হিসেবে হান্নানের সহযোগী ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আসামিরা শহরের নতুন বাজারে অবস্থিত এমএ হান্নানের নিজ বাসভবন, জেলা পরিষদ ডাকবাংলো টর্চার সেলের দায়িত্বে থেকে মুক্তিকামী সাধারণ নিরীহ মানুষদের ধরে এনে হত্যা করে লাশ ব্রহ্মপুত্র নদের চরে ফেলে রাখেন।

মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুর রহমানকে আসামি আব্দুল হান্নান তাদের সহযোগী রাজাকারদের সহযোগিতায় গৌরীপুর থানার ভাঙনামারী চর থেকে ১৯৭১ সালের ৯ অক্টোবর বিকেল চারটার সময় ধরে আনেন। পরে ময়মনসিংহ শহরের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় টর্চার সেলে প্রকাশ্য দিবালোকে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুর রহমানের দুই চোখ উপড়ে ফেলে ও ডান হাত ভেঙে দিয়ে নিজে গুলি করে হত্যা করেন এমএ হান্নান। আসামিরা সহযোগী রাজাকারদের নিয়ে আব্দুর রহমানের বাড়ি লুটপাট, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন।

কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ ॥ একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক পটুয়াখালী জেলার পাঁচজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

মামলার পাঁচ আসামি হলেনÑ মোঃ এছহাক সিকদার, আব্দুল গনি, মোঃ আউয়াল, মোঃ আব্দুস সাত্তার প্যাদা এবং সোলায়মান মৃধা। বৃহস্পতিবার চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন পক্ষের আইনজীবীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন। এর আগে আসামিদের ট্রাইব্যুনালের অধীনে গ্রেফতার দেখানোর বিষয়ে এক আবেদনের শুনানি করেন প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ এবং তাকে সাহায্য করেন প্রসিকিউটর সুলতানা রেজিয়া সুলতানা চমন। এই অভিযোগ থেকে মানবতাবিরোধী অপারাধের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউশন আবেদন করেন। শুনানি শেষে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির সঙ্গে সঙ্গে মামলার তদন্তেুর অগ্রগতি প্রতিবেদন জমার দেয়ার জন্য আগামী ১ ডিসেম্বর দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল। আসামিদের বিরুদ্ধে একাত্তরে হত্যা ও ১৭ জনকে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে এখনও ৮ জন বীরঙ্গনা জীবিত আছে।

নির্বাচিত সংবাদ