২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ ও আদর্শ ঊর্ধে তুলে ধরতে হবে ॥ ড. মহীউদ্দীন

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা অফিস ॥ সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপি বলেছেন, আমরা সকলেই মুক্তিযুদ্ধের ধারক ও বাহক। বিনম্রচিত্তে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণ করতে হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে ঊর্ধে তুলে ধরতে হবে। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, ১৯৭১ : গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর-এর উদ্যোগে গণহত্যাস্থল, বধ্যভূমি, নির্যাতন কেন্দ্র চিহ্নিতকরণ ও স্মৃতিফলক স্থাপনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ছড়িয়ে দিতে অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। এ জন্য ড. মামুনকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

তিনি বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা সার্কিট হাউসের প্রধান গেটের পাশে একাত্তরের শহীদদের স্মরণে স্থাপিত স্মৃতিফলক উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন। ১৯৭১ : গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর-এর উদ্যোগে একাত্তরের নির্যাতন কেন্দ্র চিহ্নিতকরণের অংশ হিসেবে ‘এখানে ছিল হেলিপ্যাডের বিশ্রামাগার, একাত্তরের নির্যাতন কেন্দ্র’ নামক স্মৃতি ফলকটি স্থাপন করা হয়।

হেলিপ্যাড বিশ্রামাগার (বর্তমান খুলনা সার্কিট হাউস) একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী দখলদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসর কর্তৃক হত্যা এবং নির্যাতন কেন্দ্রের স্মৃতিফলক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ ১৯৭১ : গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর ট্রাস্টের সভাপতি প্রফেসর ড. মুনতাসীর মামুন বলেন, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী খান এ সবুরের নামে খুলনার রাস্তা হয়েছে, অথচ মুক্তিযুদ্ধের শহীদের নামে কিছু হয়নি। হাইকোর্টের আদেশে সবুরের নাম উঠে গেছে।

ড. মামুন আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ছড়িয়ে দিতে খুলনায় ১৯৭১ : গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই সংগঠনের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অকুণ্ঠ সমর্থন রয়েছে। তিনি ইতোমধ্যে আর্কাইভ ও জাদুঘরকে একটি বাড়ি দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সহযোতিার জন্য ড. মামুন আবারও তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে বলেন, তিনি (ড. মহীউদ্দীন) ও তার ফারমার্স ব্যাংক ১৯৭১ : গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘরকে প্রচুর অর্থ সহায়তা দিয়েছেন।

স্মৃতিফলক উদ্বোধনের আগে ১৯৭১ : গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর-এর সম্পাদক ডাঃ শেখ বাহারুল আলম বলেন, খুলনা হেলিপ্যাডের বিশ্রামাগারটি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী দখলদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসরা হত্যা ও নির্যাতন কেন্দ্র বানিয়েছিল। সেখানে সার্কিট হাউস তৈরির সময় বিবেচনায় নেয়া হয়নি এখানে ধরে এনে কত নিরীহ মানুষকে নির্যাতন ও হত্যা করা হয়েছে, কত নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিজয় বড় করে দেখা হলেও মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যা-নির্যাতনের করুণ কাহিনী উপেক্ষা করা হয়েছে।

খুলনা সার্কিট হাউসের প্রধান গেটের পাশে স্থাপিত স্মৃতিফলকে লেখা হয়েছে, ‘খুলনা সার্কিট হাউসের এই নতুন ভবনের স্থানে একটি টিনের আটচালা ছাউনির ঘর ছিল, যা হেলিকপ্টরের যাত্রীদের বিশ্রামাগার হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ১৯৭১ এ মুক্তিযুদ্ধকালে সার্কিট হাউসকে (পুরনো ভবন) পাকিস্তানী সেনাবাহিনী তাদের অফিস হিসেবে ব্যবহার করত এবং বিশ্রামাগারটি ব্যবহৃত হতো নির্যাতন কেন্দ্র হিসেবে। বিশ্রামাগারটির সামনে খোলা জায়গায় বাঁশ দিয়ে পিরামিডাকৃতির একটি স্তম্ভ তৈরি করেছিল পাকিস্তানী ও তাদের এদেশীয় সহযোগীরা। যেখানে মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধ সমর্থকদের ধরে এনে জিজ্ঞাসাবাদের নামে প্রকাশ্যে ঝুলিয়ে নির্মম নির্যাতন ও হত্যা করা হতো। সেই সময়ের প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এখানে প্রতিদিন কমপক্ষে শতাধিক ব্যক্তিকে নির্যাতন করা হতো; নির্যাতনে মৃত্যুবরণকারীদের লাশ ফেলা হতো পাশের ভৈরব নদীতে। সংখ্যায় বেশি হলে এবং নির্যাতনে মৃত্যু না হলে ওইসব নির্যাতিতদের নিয়ে যাওয়া হতো গল্লামারীতে, সেখানেই তাঁদের গুলি করে অথবা জবাই করে হত্যা নিশ্চিত করা হতো। মুক্তিযুদ্ধকালের নির্মম নির্যাতনের সাক্ষ্যবহনকারী ওই বাড়িটি অপসারিত করে সেখানেই সার্কিট হাউসের এই নতুন ভবন গড়ে উঠেছে।

স্মৃতিফলক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে একাত্তরের রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাসহ নানা শ্রেণী-পেশার বহু মানুষ উপস্থিত ছিলেন। স্মৃতিফলক উদ্বোধনের পূর্বে অনানুষ্ঠানিক সমাবেশে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে একাধিক মুক্তিযোদ্ধা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। একাধিক বক্তা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এর মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের শহীদ সন্তানেরা সম্মানিত হয়েছেন।

নির্বাচিত সংবাদ