২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলাদেশে ৪ শ’ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে চীন

  • চীনাদের জন্য কোন ভ্রমণ সতর্কতা জারি করা হবে না ॥ রাষ্ট্রদূত মা মিং চিয়াং

কূটনৈতিক রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশে চীনের বিশেষ অর্থনৈতিক জোনে চার শ’ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে দেশটি। সেখানে দুই থেকে আড়াই লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে। এছাড়া ইতালির নাগরিককে হত্যার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে চীনা নাগরিকদের জন্য কোন ভ্রমণ সতর্কতা জারির পরিকল্পনা তাদের নেই। বাংলাদেশীদের জন্য চীনা ভিসা সহজ করা হবে। এছাড়া বাংলাদেশ আগ্রহী হলে বঙ্গোপসাগরে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করতে চায় চীন। বৃহস্পতিবার ‘উদীয়মান চীনা অর্থনীতি : বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক দেশভিত্তিক বক্তৃতায় ঢাকায় চীনা রাষ্ট্রদূত মা মিং চিয়াং এসব তথ্য জানান।

রাজধানীর ইস্কাটনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত এ বক্তৃতায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত মা মিং চিয়াং। এতে বক্তব্য রাখেন- বিআইআইএসএস চেয়ারম্যান মুন্সী ফয়েজ আহমেদ, মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ কে এম আবদুর রহমান এনডিসি। অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্স, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত ও পাকিস্তানের হাইকমিশনার উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ১২ বিলিয়ন ডলার। আর অধিকাংশই চীন রফতানি করেছে। উদ্বৃত্ত বাণিজ্যের কারণে চীন উদ্বিগ্ন। চীন বাংলাদেশ থেকে আরও অধিক পরিমাণ আমদানি করতে চায় বলেও তিনি জানান।

মা মিং চিয়াং বলেন, বাংলাদেশে চীনের উদ্যোগে দুটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করা হচ্ছে। সেখানে প্রায় চার বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ সম্ভব হবে। এর মধ্যে একটি অর্থনৈতিক জোনে দুই থেকে আড়াই লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে।

এক প্রশ্নের উত্তরে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, চীন বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ আরও বাড়াতে চায়। সে কারণে চীনা ভিসা সহজ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চীনে ভ্রমণকারীদের জন্য কোন কোন ক্ষেত্রে ৫ থেকে ১০ বছরের জন্যও ভিসা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশে চীনের সফট লোনের সুদ কমানোর কোন পরিকল্পনা রয়েছে কিনাÑ জানতে চাইলে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে চীন যে সফট লোন দেয়, সেটা মাত্র দুই শতাংশ। তবে এ বিষয়ে আরও আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের বিকল্প হিসেবে চীন এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) গড়ে তুলেছে কিনাÑ জানতে চাইলে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, এশিয়া দেশগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নে এআইআইবি গড়ে তোলা হয়েছে। এটি কোন ব্যাংকের বিকল্প নয়। আর এই ব্যাংকটির উদ্যোক্তা শুধু চীন নয়, বেশ কয়েকটি দেশ একযোগেই ব্যাংকটি গড়ে তুলেছে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় চীন। এখানে বিনিয়োগ করার জন্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়িয়ে এখানে বিভিন্ন শিল্প গড়ে তুলতে চায় চীন। আর এখানকার উৎপাদিত পণ্য পুনরায় রফতানির পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। বিশেষ করে বিশেষ অর্থনৈতিক জোনে চীনের বিনিয়োগ বাড়ানো হবে। সেখানকার উৎপাদিত পণ্যই রফতানি করতে আগ্রহী চীন। এক প্রশ্নের উত্তরে চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে চীনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার আগ্রহী হলে দেশের গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করবে চীন। এ জন্য বাংলাদেশ সরকারকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমাদের এ বিষয়ে যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে।

যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে চীন বিশেষ আগ্রহী বলে জানিয়ে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, চীন এই মুহূর্তে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে চায়। আর এ অঞ্চলে যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য বিসিআইএম কার্যকর করতে চায়। যোগাযোগ বাড়ানো সম্ভব না হলে ব্যবসা-বাণিজ্যও বাড়ানো সম্ভব নয় বলে তিনি জানান।

ইতালির নাগরিক তাভেলা সিজার হত্যাকান্ডের প্রেক্ষিতে এক প্রশ্নের জবাবে চীনা রাষ্ট্রদূত মা মিং চিয়াং বলেন, বাংলাদেশে কোন ভ্রমণ সতর্কতা জারির পরিকল্পনা তাদের নেই। এছাড়া ইতালির নাগরিককে হত্যার বিষয়ে পুলিশী তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে ঢাকায় ইতালির নাগরিক হত্যা সাধারণ সন্ত্রাসী ঘটনা বলে মনে করেন তিনি। এছাড়া চীনা প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরের তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলেও জানান তিনি।