১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জয় দিয়ে শুরু চায় বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা

জয় দিয়ে শুরু চায় বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা
  • এএফসি অনুর্ধ-১৯ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ, বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আজ বেলা ৩টায় প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি উজবেকিস্তান-ভুটান, বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ শুরু সন্ধ্যা ৬টায়

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ সম্প্রতি নেপালের কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত অনুর্ধ ১৯ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে তেমন সাফল্য পায়নি বাংলাদেশ, বিদায় নিয়েছিল সেমিফাইনাল থেকে। এবার ঘরের মাঠে তরুণ ফুটবলারদের সামনে আরেকটি চ্যালেঞ্জ। শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এএফসি ১৯ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বে সাফল্য পেতে মরিয়া বাংলাদেশের কোচ সাইফুল বারী টিটু। ‘এ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রতিযোগিতার মূলপর্বে খেলতে চান তিনি।

শুক্রবার উদ্বোধনী দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে সন্ধ্যা ৬টায় শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে স্বাগতিক বাংলাদেশ। বেলা ৩টায় প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে উজবেকিস্তান-ভুটান। ৪ অক্টোবর দ্বিতীয় ম্যাচে ভুটান ও ৬ অক্টোবর তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে স্বাগতিকদের প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান। সব খেলাই হবে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। ম্যাচগুলো সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার।

বাছাইপর্বের দশ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন এবং সেরা পাঁচ রানার্সআপ দল চূড়ান্তপর্বে খেলার সুযোগ পাবে। আগামী বছর বাহরাইনে হবে চূড়ান্তপর্ব।

এএফসি অনুর্ধ ১৯ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে গতবারের চ্যাম্পিয়ন কাতার। সর্বোচ্চ ১২ বারের চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ কোরিয়া। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শিরোপা মিয়ানমারের, ৭টি। ১৯৫৯ সাল থেকে শুরু এই টুর্নামেন্টের যাত্রা। প্রতি দুই বছর পর পর অনুষ্ঠিত হয় এই টুর্নামেন্ট।

এই আসরে বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ছয়বার অংশগ্রহণ করেছে। প্রথম ১৯৭৫ সালে, সর্বশেষ অংশগ্রহণ ২০০২ সালে। প্রতি আসরেই গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল বাংলাদেশ। ব্যতিক্রম ১৯৮০ সালে। সেবার অবশ্য পাঁচ দল লীগ পদ্ধতিতে খেলেছিল। সর্বোচ্চ ৪ ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া। চার ম্যাচে দুই পয়েন্ট সংগ্রহ করা বাংলাদেশের অবস্থান ছিল পঞ্চম। এবার স্বাগতিক বাংলাদেশের লক্ষ্য চূড়ান্ত পর্বে খেলা। আর এই পর্বে খেলতে হলে স্বাগতিকদের গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে হবে। নয়তো হতে হবে রানার্সআপ। তবে রানার্সআপ হলে অবশ্যই হতে হবে সেরা পাঁচ রানার্সআপের একটি। বাছাইপর্বের ম্যাচগুলোকে নিজেদের প্রমাণের মঞ্চ হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ অনুর্ধ ১৯ জাতীয় দলের কোচ সাইফুল বারী টিটু, ‘দীর্ঘদিন সময় পেয়েছি প্রস্তুতি নেয়ার। প্রায় তিন মাস। এর মধ্যে ছেলেদের চেষ্টা করেছি নিজেদের মতো করে শেখাতে। টুর্নামেন্টে একটা ম্যাচ জিততে হলে কি করতে হয়, কিভাবে চাপ নিয়ে সেটিকে জয় করতে হয়, সব বিষয় নিয়ে কাজ করেছি। আমরা এতদিন যা করলাম, সেটির ফল কি, তা দেখার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছি।’ টিটু খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করেছেন এভাবে, ‘তোমাদের প্রমাণ করতে হবে তোমরাই সেরা। সেরা হওয়া মানেই সিনিয়র জাতীয় দলে ডাক পাওয়া। ভাল ক্লাবে জায়গা করে নেয়া। আসতে পারে বিদেশী ক্লাব থেকেও খেলার ডাক। কিন্তু তার জন্য করতে হবে নিজের সেরা পারফর্মেন্স।’ দলের প্রতি খেলোয়াড়ের মধ্যে সেই মানসিকতাটাও রয়েছে বলেই বিশ্বাস কোচের।

কোচ টিটু জানান, বাংলাদেশের লক্ষ্য অন্তত গ্রুপ রানার্সআপ হওয়া। সে জন্য প্রথম দুই ম্যাচে জয়ের বিকল্প ভাবছে না স্বাগতিকরা। শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান। প্রতিপক্ষ কঠিন হলেও ওই ম্যাচটিতেও ভাল করার লক্ষ্য স্বাগতিকদের। কোচের সঙ্গে একমত পোষণ করলেও চাওয়াটা একটু বেশি দলীয় অধিনায়ক মাসুক মিয়া জনির, ‘তিন ম্যাচের প্রথম দুইটিতে অবশ্যই জয় চাই। তৃতীয় ম্যাচটিতে উজবেকিস্তানের সঙ্গেও জয়ের লক্ষ্য নিয়েই খেলব। যদি সেটি না ও হয় উজবেকিস্তানের সঙ্গে অন্তত যেন ড্র করতে পারি সেই আশাই করছি। গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে মূলপর্বে যেতে চাই।’ এএফসির এই বাছাইপর্বে সাফে (অনুর্ধ ১৯) খেলা দলেরই বেশিরভাগ খেলোয়াড় রয়েছেন। দলের সঙ্গে নতুন করে যোগ হয়েছেন, সজীব এবং সাফ অনুর্ধ ১৬ টুর্নামেন্টের সেরা দুই ফুটবলার নিপু এবং সাদ। খারাপ পারফর্মেন্সের কারণে আগের দল থেকে বাদ পড়েন সালাউদ্দিন এবং শীতল আর জন্ডিসের কারণে দলে থাকতে পারেননি সুমন।

বাংলাদেশ দল সাফ ও এএফসির টুর্নামেন্টগুলোতে এর আগেও খেলেছে। বর্তমান যুব দলটি বাফুফে ফুটবল একাডেমি ও অন্যান্য বয়সভিত্তিক পর্যায়ের খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া হয়েছে। খুব বেশি অনুশীলন ম্যাচ খেলতে পারেনি দলটি, মাত্র একটা ম্যাচ (জাতীয় দলের বিপক্ষে) খেলেছে।

প্রতিপক্ষ দলগুলোর শক্তিমত্তার বিচার করলে উজবেকিস্তানই সবচেয়ে এগিয়ে থাকবে। সেক্ষেত্রে বাস্তবতার নিরিখে আমাদের রানার্সআপ হওয়াটাই স্বাভাবিক। ট্রেনিংয়ে ছেলেদের এগ্রেসিভ ফুটবল খেলানোর চেষ্টা করেছেন টিটু। জোর দিয়েছেন বল পজেশন ধরে রাখার ক্ষেত্রেও। স্বাগতিকদের সুবিধা হচ্ছে চেনা মাঠ, আবহাওয়া, পরিবেশ এবং দর্শক সমর্থন।

শ্রীলঙ্কা সম্পর্কে খুব বেশি ধারণা নেই টিটুর। তিনি বলেন, ‘তবে প্রকৃতিগতভাবেই ওরা মাঠে খুবই গতিশীল। এএফসি প্রো-লাইসেন্স কোচিং কোর্স করার সুবাদে ওদের কোচ সুমিথকে অবশ্য ভালমতোই চিনি। আমি চাই না আমরা খেলোয়াড়রা মাঠে অহেতুক কার্ড পেয়ে দলের জন্য বিপদ ডেকে আনুক।’

শ্রীলঙ্কার কোচ সুমিথ ওয়ালপোলা বলেন, ‘আমাদের দলটিতে প্রাথমিক তালিকায় ছিল ৭০ খেলোয়াড়। তারপর ধাপে ধাপে ৩০ জনকে চূড়ান্ত করেছি। এই দলের ১৪ ফুটবলার খেলে শ্রীলঙ্কার প্রিমিয়ার ফুটবল লীগে।’ শ্রীলঙ্কায় একটি বৃষ্টি কবলিত দেশ। ফলে এখানে প্রতিদিন অনুশীলন করা সম্ভব হয় না। তারপরও এর মধ্যেই ম্যানেজ করে যতটা পারা যায় অনুশীলনটা চালিয়ে যেতে হয়। এছাড়া দলের খেলোয়াড়রা এখনও স্কুলের ছাত্র। তাই সপ্তাহে ওদের দুই দিনের বেশি প্র্যাকটিস করানো সম্ভব হয় না।

বাংলাদেশ দল সম্পর্কে তেমন ধারণা না থাকলেও সুমিথের অনুমান- তারা ভাল দল। এদেশের সঙ্গে তার সম্পর্ক অনেকদিনের। খেলোয়াড় হিসেবে বাংলাদেশে প্রথমবার এসেছিলেন সেই ১৯৭৬ সালে। খেলেছিলেন আগা খান গোল্ডকাপ ফুটবল। তখন এদেশের দর্শকদের ফুটবল ক্রেজ দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন।

শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক কেএ দানুশকা মধুশঙ্কা বলেন, ‘এই আসরে ভাল কিছু করতে চাই। আমাদের আত্মবিশ্বাসের কোন কমতি নেই। বাংলাদেশের গ্রাউন্ড কন্ডিশন আমাদের পছন্দ হয়েছে। আমাদের দেশের চেয়ে অনেক ভাল।’

এখন দেখার বিষয়, শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে শুভসূচনা করতে পারে কি না ‘বেঙ্গল টাইগার্স’রা।