১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ বাতিল

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ বাতিল
  • আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) ;###;বিসিবির সঙ্গে পরিবর্তিত সূচী নিয়ে দ্রুত আলোচনা ;###;ভেস্তে গেল বিসিবির অনুরোধ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ নিয়ে যা ঘটছিল, তাতে বোঝাই যাচ্ছিল সিরিজ বাতিল হতে যাচ্ছে। আপাতত আর হবে না। বৃহস্পতিবার দীর্ঘ সভার পর ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) আনুষ্ঠানিকভাবে সিরিজ স্থগিত করার ঘোষণাও দিয়ে দিল। সিরিজ স্থগিত করল। এ ঘোষণার সঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকে যে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে বাংলাদেশ সফর নিয়ে ভাবার অনুরোধ জানানো হয়েছিল, তাও ভেস্তে গেল।

নিরাপত্তার অযুহাত দেখিয়ে শেষপর্যন্ত ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া সিরিজ স্থগিত করার দিকেই হাঁটল। কবে এ সিরিজ হবে, তা জানানোও হলো না। সরকারের সিদ্ধান্তের বিপরীতে কোনভাবেই যেতে পারবে না ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া, তা শুধু জানানো হলো। তবে বিসিবির সঙ্গে সিরিজ কবে করা যায়, এ নিয়ে দ্রুতই কাজ করবে সিএ। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সিইও জেমস সাদারল্যান্ড বললেন, ‘অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত এটি। অস্ট্রেলিয়া সরকারের নিরাপত্তা তথ্য ও আমাদের নিজস্ব নিরাপত্তা উপদেষ্টা থেকে যা জানানো হয়েছে, তাতে আমাদের হাতে আর কোন বিকল্প পথ নেই। সিরিজ স্থগিতই করতে হচ্ছে।’

সাদারল্যান্ড আরও জানালেন, ‘গত কয়েকদিন ধরেই নিরাপত্তা নিয়ে গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ানরা বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা আশায় ছিলাম। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে, আমাদের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক থেকে যা তথ্য মিলেছে; তাতে বোঝাই যাচ্ছে এ মুহূর্তে অনেক ঝুঁকি আছে।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘আমরা অনেক চেষ্টা করেছি সফর করার। ক্লান্তিহীন চেষ্টা করেছি, যদি কোন পথ মিলে। কিন্তু দিনশেষে আসলে কোন সম্ভাবনাই মিলল না। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও আইসিসির কাছে আমাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছি। আমরা বুঝতে পারছি এ সিদ্ধান্ত খুবই হতাশাজনক। কিন্তু কিছু করার নেই। আমাদের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের নিরাপদই আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বিসিবির সঙ্গে সফরের পরিবর্তিত সূচী নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব কাজ করব।’ তবে এ বছর আর সিরিজটি হচ্ছে না। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটারদের যে ব্যস্ততা অনেক। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথমটি ৯ অক্টোবর চট্টগ্রামে ও দ্বিতীয়টি ১৭ অক্টোবর ঢাকায় হওয়ার কথা ছিল। সঙ্গে ৩ অক্টোবর থেকে ফতুল্লায় একটি তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচও খেলার কথা ছিল অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের। এ সিরিজ খেলার জন্য সোমবার বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখার কথা ছিল অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের ক্রিকেটারদের। কিন্তু গত শুক্রবার সরকার থেকে নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা জানানো হয়। এরপরই ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটারদের সফরে আসতে বাধা দেয়। সিরিজ তখন থেকেই অনিশ্চয়তায় পরে যায়। গত রবিবার দুপুরে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা প্রধান শন ক্যারলকে ঢাকায় পাঠায় সিএ। শন ক্যারলসহ তিন সদস্যের দল ঢাকায় আসে। সেদিন থেকে পরদিন, এই দেড় দিনের মধ্যে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিকিউরিটি যারা দেখেন পুলিশ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ডিজিএফআই, এনএসআই ও র‌্যাব এমনকি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা পরামর্শক, সবার সঙ্গে দেখা করা এবং প্রত্যেকের নিশ্চয়তা পেয়েছে তাদের পর্যবেক্ষক দল। সবাই বলেছেন, আমরা গ্যারান্টি দিচ্ছি এখানে কোন ধরনের সমস্যা হতে দেয়া হবে না, যতই হুমকি থাক। সাধারণত যে ধরনের নিরাপত্তা দেয়া হয় তার চেয়ে অনেক বেশি নিরাপত্তা তাদের দেয়া হবে। চার স্তরের নিরাপত্তা দেয়া হবে। দেশের প্রধান যে নিরাপত্তা পান, সেই নিরাপত্তা দেয়া হবে। সোমবার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক দলের শেষদিন ছিল ঢাকায়। সেদিনই একটি অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটে যায়। ঢাকার গুলশানের কূটনৈতিক পাড়ায় ইতালির এক নাগরিককে হত্যা করা হয়। এরপর সিরিজ বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা আরও বেড়ে যায়। মঙ্গলবার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক দল অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যায়। বুধবার সরকারের নিরাপত্তা বিভাগকে সব জানান শন ক্যারল। এরমধ্যে যখন সিএ জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের রাজ্য দলের সঙ্গে অনুশীলনে যোগ দেয়ার কথা বলে, তখন অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশ সফর বাতিল হওয়া আরও জোরালো হয়ে যায়। সবাই বুঝছিল, এখন শুধু ঘোষণা আসার অপেক্ষা। বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা নিয়ে সিএ’ও সভা করে। সভা শেষেই সিরিজ স্থগিতের সিদ্ধান্ত দেয়া হয়। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছিলেন, ‘শুধু বিসিবি না, সরকার যে প্রটেকশন দিচ্ছে তারপর অস্ট্রেলিয়ার ভয় পাওয়ার কারণ আমি দেখছি না। সিকিউরিটি এজেন্সি শুধু না, এখানে মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেভাবে সময় দিয়েছে তাতে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নিরাপত্তার বিষয়ে কোন ত্রুটি থাকবে না।’

বিসিবি থেকে সিএ’কে সফরে আসার বিষয়ে ইতিবাচক ভাবতে অনুরোধও করা হয়। এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতিও দেয় বিসিবি। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ‘এই সিরিজকে কেন্দ্র করে অস্ট্রেলিয়া দলকে নিরাপত্তা দেয়ার ক্ষেত্রে কোন কমতিই রাখিনি। বাংলাদেশ সরকার ও বিসিবি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিরাপত্তা দিতে পুরোপুরিভাবে বদ্ধপরিকর। অস্ট্রেলিয়া দলকে যে নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে, সেটা রাষ্ট্রপ্রধানকে দেয়া হয়, যা কিনা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অতুলনীয়। আমরা এখনও আশা প্রকাশ করছি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া খুব শীঘ্রই ঢাকা সফরের জন্য নতুন তারিখের ঘোষণা দেবে। একই সঙ্গে আমরা কিছু উত্তেজনাপূর্ণ ক্রিকেট দেখতে পারব। ক্রিকেটার, সমর্থক থেকে শুরু করে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই এটাই প্রত্যাশা করে।’ কিন্তু বিসিবির এ বিবৃতি কোন কাজেই আসেনি। সেই সঙ্গে সিএ’কে অনুরোধ করেও লাভ হয়নি। সিএ সিরিজ স্থগিত করার ঘোষণাই দিয়েছে। সিএ’র এমন সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটার্স এ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী এলিস্টেয়ার নিকোলাস। তিনি বলেছেন, ‘ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা সঠিক। ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা ও কল্যাণই আসল।’ বিসিবিও এতে হতাশ হওয়ারই কথা!