১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই ঘন্টায়    
ADS

হত্যা মামলার প্রধান আসামি জামায়াত নেতার মাদ্রাসার হাজিরা

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ হত্যা মামলার প্রধান আসামি হয়ে দীর্ঘ একমাসেরও অধিক সময় ধরে আত্মগোপনে থাকা মাদ্রাসার প্রভাষক ও প্রভাবশালী জামায়াত নেতা নিজ প্রতিষ্ঠানের হাজিরা খাতায় ও বিল ভাউচারে স্বাক্ষর দেয়ার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এনিয়ে যেকোন সময় বড়ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে। ঘটনাটি জেলার উজিরপুর উপজেলার হস্তিশুন্ড ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার।

সংশি¬ষ্ট সূত্রমতে, ওই মাদ্রাসার আরবী প্রভাষক ও স্থানীয় প্রভাবশালী জামায়াত নেতা আবু বক্কর সেলিম মিয়ার বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট জালিয়াতির মাধ্যমে চাকুরি নিয়ে ব্যাপক অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগে একাধিকবারের তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলেও রহস্যজনক কারণে তার বিরুদ্ধে অদ্যবর্ধি কোন ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হয়নি। সেক্ষেত্রে ম্যানেজিং কমিটির কতিপয় প্রভাবশালী সদস্য ও সংশি¬ষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মোটা অংকের টাকা ঘুষগ্রহণের অভিযোগ রয়েছে।

ওই গ্রামের ইমরান হোসেন অভিযোগ করেন, একই বাড়ির প্রভাবশালী জামায়াত নেতা প্রভাষক আবু বক্কর সেলিম মিয়া ও তার সহযোগীরা পূর্ব বিরোধের জেরধরে ১৮ আগস্ট রাতে তার আট মাসের ঘুমন্ত শিশু কন্যা মরিয়মকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে। এ ঘটনায় তিনি বাদি হয়ে আবু বক্কর সেলিম মিয়াসহ ৫ জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পর থেকে থানা পুলিশ রহস্যজনক কারণে আসামিদের পক্ষালম্বন করে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের নামে বিভিন্ন ধরনের হয়রানী করে আসছে। ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে থাকা প্রধান আসামি আবু বক্কর সেলিম মিয়া ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুরে আকস্মিক ভাবে মাইক্রোবাসযোগে মাদ্রাসায় এসে হাজিরা খাতা ও বিল ভাউচারে স্বাক্ষর করেন। এখবর মুহুর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে শত শত গ্রামবাসী জড়ো হয়ে মাদ্রাসা ঘেরাও করতে আসার পূর্বেই প্রভাষক আবু বক্কর সেলিম মাইক্রোবাসযোগে দ্রুত মাদ্রাসা ত্যাগ করে ফের আত্মগোপন করেন। ইমরান হোসেন আরও অভিযোগ করেন, হত্যা মামলার প্রধান আসামি আবু বক্কর সেলিমের মাদ্রাসায় আসার বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানো সত্বেও রহস্যজনক কারণে আসামি গ্রেফতারে পুলিশ কোন পদক্ষেপই গ্রহণ করেননি।

এসব ঘটনায় মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সবুরসহ স্থানীয় বাসিন্দারা মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং সরকারের সংশি¬ষ্ট মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেও তিনি উলে¬খ করেন। ভূক্তভোগীরা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দুর্নীতিবাজ প্রভাষক আবু বক্কর সেলিম মিয়াকে চাকুরিচ্যুত, বর্তমান মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠনের জন্য সংশি¬ষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও হত্যার ঘটনার মূল রহস্য বের করার জন্য প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।