২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাউফলে মা ইলিশ শিকার হচ্ছে অবাধে

বাউফলে মা ইলিশ শিকার হচ্ছে অবাধে

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাউফল ॥ বাউফলের তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশ শিকার বন্ধে সরকারের চলমান অবরোধ ভেস্তে যেতে বসেছে। প্রয়োজনীয় লোকবল, যানবাহনের অপ্রতুলতা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব অবহেলার কারণে এমনটি হচ্ছে। অপরদিকে সরকার ঘোষিত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধকালীন সময়ে ইলিশের ডিম ছাড়ার প্রকৃত সময় নয় বলেও মতামত ব্যাক্ত করেছেন অভিজ্ঞজনরা । বাউফলের পূর্ব সীমান্তের কালাইয়া, নাজিরপুর, কেশবপুর ও ধুলিয়া এবং ভোলা জেলার লালমোহন, বোরহান উদ্দিন ও ভোলা সদরের পশ্চিম সীমান্ত ঘেঁষে মেঘনার অববাহিকা প্রমত্তা তেঁতুলিয়া নদী প্রবাহমান। এ নদীর বাউফল অংশে ধুলিয়া থেকে বগি পয়েন্ট পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার এবং ভোলার লালমোহন থেকে ভোলা সদর পর্যন্ত প্রায় ৬০ কিলোমিটার এলাকায় ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত সরকার ইলিশ শিকার নিষিদ্ধ করেন। নদী ও চর বেষ্টিত বিশাল এই এলাকা পাহাড়া দেয়ার জন্য বাউফল মৎস্য অধিদপ্তরে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সহ ৪ জন, তাদেরকে সহায়তা করার জন্য ডেপুটেশনে একজন সহকারি মৎস্য কর্মকর্তা রয়েছেন। একটি জাহাজ নিয়ে ১৫ দিনের জন্য ৩০ জন কোস্টগার্ড এবং কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ১২ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এছাড়া থানা থেকেও পুলিশ দায়িত্ব পালন করছেন। গোটা ব্যবস্থাকে তদারকি করছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। সমগ্র বাউফলে ৪ টি টীম কাজ করছেন। তাদের অভিযানে মাঝে মধ্যে কিছু জাল ও জেলে আটক করা হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা সামান্য। কর্মকর্তারা নদীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে আসা যাওয়ার ফাঁকে অসাধু জেলেরা নদীতে জাল ফেলে মা ইলিশ শিকার করে নিচ্ছেন। মৎস্য অধিদপ্তরের নিজস্ব কোন যানবাহন নেই। ভাড়া করা ট্রলারে নদীতে টহল দিতে হচ্ছে। তাদের যাতায়াত পর্যবেক্ষণ করার জন্য মাছ শিকারীদের বিভিন্ন পয়েন্টে লোক বসানো রয়েছে। তারা টহল টীমের গতিবিধি লক্ষ্য করে মোবাইলের মাধ্যমে জেলেদের কাছে খবর পৌঁছে দেন। ফলে অভিযান ভেস্তে যাচ্ছে। সরেজমিন দেখা গেছে, বাউফলের শৌলা, বগি, ধুলিয়া, মমিনপুর ও নাজিরপুর এলাকায় বিপুল সংখ্যক জেলেরা ইলিশ শিকার করছে। অভিযোগ রয়েছে, কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে প্রভাবশালী মহল জেলেদের দিয়ে ইলিশ শিকার করাচ্ছেন। শিকার করা ইলিশ গোপনে গ্রামে গ্রামে ফেরি করে প্রতিহালি ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি করছেন। অবিক্রিত ইলিশ বিশেষ প্রক্রিয়ায় মাটির নিচে মজুদ করছেন বলে জানা গেছে। এদিকে এই অবরোধকালীন সময়ে ইলিশের ডিম ছাড়া নিয়ে অভিজ্ঞ জেলেরা ভিন্ন মত ব্যাক্ত করেছেন। উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের প্রবীন জেলে বাদশা মিয়া বলেন, আশ্বিনী পূর্ণিমার ২/৩ দিন আগে ও ২/৩ দিন পরে মা ইলিশের ডিম ছাড়ার প্রকৃত সময়। এবছর ওই পূর্ণিমার দিন হচ্ছে ২৭ অক্টোবর। যে কারণে সরকার ঘোষিত অবরোধের এ সময়টায় বেশিরভাগ মা ইলিশ ডিম ছাড়বে না। তাই অবরোধের তারিখ দেয়া উচিৎ ছিল ৫ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত । চর ওয়াডেলের জেলে আলী হোসেন বলেন, এখন যে মা ইলিশ ধরা পরছে, তার পেটে টিমের আকৃতি অনেক ছোট। এ ডিম পরিপূর্ণ হতে আরও ৮ থেকে ১০ দিন সময় লাগবে। তাই অবরোধের সময় ৯ অক্টোবর থেকে বাড়িয়ে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত করা উচিৎ।