২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রধানমন্ত্রী আজ ফিরছেন, রাজপথের দু’ধারে দাঁড়িয়ে গণসংবর্ধনা

প্রধানমন্ত্রী আজ ফিরছেন, রাজপথের দু’ধারে দাঁড়িয়ে গণসংবর্ধনা

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭০তম অধিবেশনে যোগদান শেষে আজ শনিবার লন্ডন হয়ে দেশে ফিরছেন। দেশে ফেরার পর বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত দীর্ঘ রাজপথের দুই ধারে মানুষের স্রোত নামিয়ে আজ প্রধানমন্ত্রীকে গণসংবর্ধনা দেবে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ ও বিশিষ্টজনরা। জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ এবং ‘আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার’ পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ গণসংবর্ধনা দেয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গণসংবর্ধনায় জনতার ঢল নামিয়ে ঐতিহাসিক জনসমাগম ঘটানোর ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোট। শুক্রবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী পেশাজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার বিশিষ্টজনদের সঙ্গে বৈঠক করে ১৪ দলের নেতারা ঘোষণা দিয়েছেন, বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত দীর্ঘপথে ঐতিহাসিক জনসমাগমের মাধ্যমে বিএনপি-জামায়াত ও তাদের আন্তর্জাতিক প্রভুদের ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়া হবে। সভায় দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষকে রাজনৈতিক সংকীর্ণতার উর্ধে উঠে প্রধানমন্ত্রীর এ গণসংবর্ধনায় জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে অংশ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদান শেষে আজ দুপুর দেড়টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। বিমানবন্দরে নামার পরই আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, ১৪ দলের নেতৃবৃন্দ, সমাজের বিশিষ্টজনসহ নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা দেশ ও জাতির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছায় স্নাত এবং গণসংবর্ধনা দেবেন। এর আগে দুপুর ১২টা থেকেই বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত দীর্ঘ রাস্তার দুই পাশে হাজার হাজার মানুষ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে হাতে পতাকা নাড়িয়ে এবং সুশৃঙ্খলভাবে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাবেন। গণসংবর্ধনায় মানুষের স্রোত নামাতে ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছে আওয়ামী লীগসহ ১৪ দল।

গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠান সফল করতে শুক্রবার ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক যৌথসভায় সভাপতির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ধরিত্রী কন্যা ও শান্তির প্রতীক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ও জাতির জন্য গৌরব বয়ে আনছেন। বড় দুটি পুরস্কার অর্জন করে তিনি গোটা জাতিকে গৌরবান্বিত করেছেন। বিশ্ববাসী তাকে অভিনন্দন জানিয়েছে। আজ জাতির পক্ষ থেকে দেশের সর্বস্তরের মানুষ শেখ হাসিনাকে গণসংবর্ধনা জানাবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ অর্জন গোটা জাতির অর্জন। এটা কোন দলের একক অর্জন নয়। তাই সব সংকীর্ণতার উর্ধে উঠে সর্বস্তরের মানুষকে গণসংবর্ধনায় শরিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিশ্বকে চ্যালেঞ্জ করেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আজ বিশ্বনেতা। বিশ্ব দরবারে তিনি বাংলাদেশকে একটি মডেল হিসেবে পরিচিতি দিতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি বলেন, জাতি আর পেছনের দিকে তাকাতে চায় না। সামনে এগোতে হলে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী এবং তার কাজের স্বীকৃতি দিতে হবে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে গণসংবর্ধনা দেয়া হবে।

মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে শুক্রবারের যৌথসভায় ১৪ দলের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ, প্রকৌশলী, চিকিৎসক, আইনজীবী, কৃষিবিদ, ডিপ্লোমা প্রকৌশলী, সাংবাদিক, শিক্ষক নেতৃবৃন্দ, ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব, সংস্কৃতি ব্যক্তিত্ব, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, নারী সংগঠন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। খোলা জিপে করে ঘুরে পুরো সংবর্ধনা অনুষ্ঠান তদারকি করবেন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ আজিজ এবং সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া।

বৈঠকে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সংবর্ধনা কমিটির সমন্বয়ক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমরা জনতার ঢল নামিয়ে বিএনপি-জামায়াত ও তাদের আন্তর্জাতিক প্রভুদের ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দিতে চাই। এ সময় তিনি দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এবং বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধরিত্রী কন্যা হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব বিশ্বের বড় বড় দেশগুলোর হলেও তারা এ দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসছে না। সম্পদের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী অন্যান্য দেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে এ দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা দেশের তরুণ সমাজকে সেভাবে আকৃষ্ট করতে পারিনি। এ তরুণ সমাজকে জঙ্গীগোষ্ঠী বেশি আকৃষ্ট করছে। তরুণদের এ ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে এনে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। তরুণ সমাজকে তথ্যপ্রযুক্তির দিকে আকৃষ্ট করা শেখ হাসিনার বিরাট সফলতা।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ সফলতার জন্য সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে আমরা সংবর্ধনা দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী কী কী সফলতার জন্য পুরস্কার দুটি পেয়েছেন তা জাতিকে জানাতে অল্প কথায় লিফলেট আকারে প্রচার করতে হবে।

বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেনÑ জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়া, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, গণতন্ত্রী পার্টির নুরুর রহমান সেলিম, জাতীয় পার্টির (জেপি) সাদেক সিদ্দিকী, ক্রীড়া সংগঠক হারুন অর রশিদ, নারীনেত্রী রোকেয়া কবিরসহ পেশাজীবী নেতারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেনÑ প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ।

৮টি পয়েন্টে নামবে মানুষের স্রোত ॥ অনেকটাই ‘মানব প্রাচীরের’ আদলে হাতে হাত ধরে বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত দীর্ঘপথে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে গণসংবর্ধনা জানানো হবে। কর্মসূচী সফল করতে ৮টি রুট নির্ধারণ করা হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে খিলক্ষেত রুটে নেতৃত্বে থাকবেন সাহারা খাতুন এমপি, জাহিদ আহসান রাসেল এমপি, আজমত উল্লাহ, জাহাঙ্গীর হোসেন ও ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা এমপি। তুরাগ, উত্তরা, বিমানবন্দর ও খিলক্ষেত, পল্লবী থানা আওয়ামী লীগসহ সর্বস্তরের জনগণ সেখানে অংশ নেবেন। খিলক্ষেত থেকে কুড়িল ফ্লাইওভার রুটে নেতৃত্ব দেবেন রাশেদ খান মেনন এমপি, সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি ও একেএম রহমত উল্লাহ এমপি। বাড্ডা, মতিঝিল, খিলগাঁও, সবুজবাগ থানা এলাকার সর্বস্তরের মানুষ এই রুটে থাকবেন।

কুড়িল ফ্লাইওভার থেকে হোটেল রেডিসন রুটে নেতৃত্বে থাকবেন সানজিদা খানম এমপি ও হাবিবুর রহমান মোল্লা এমপি। সেখানে থাকবেন ডেমরা, শ্যামপুর, গুলশান, রমনা ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকার সর্বস্তরের মানুষ। হোটেল রেডিসন থেকে কাকলী মোড়, বনানী এলাকায় নেতৃত্বে থাকবেন কামাল আহমেদ মজুমদার এমপি। কাফরুল থানার সর্বস্তরের মানুষ এ এলাকায় অংশ নেবেন। বনানী থেকে জাহাঙ্গীর গেট এলাকায় গুলশান, বনানী ও তেজগাঁও থানা আওয়ামী লীগসহ সকল সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসমূহের নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন। জাহাঙ্গীর গেট থেকে র‌্যাংগস ভবন পর্যন্ত এলাকায় নেতৃত্ব দেবেন আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি ও আসলামুল হক আসলাম এমপি। তেজগাঁও, কোতোয়ালি, সূত্রাপুর ও মিরপুর থানা আওয়ামী লীগসহ এ এলাকায় সর্বস্তরের মানুষ গণসংবর্ধনায় অংশ নেবেন।

এছাড়া র‌্যাংগস ভবন থেকে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় নেতৃত্ব দেবেন জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, ডাঃ মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, কামরুল ইসলাম এমপি, হাজী মোহাম্মদ সেলিম এমপি। মোহাম্মদপুর, লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচর থানা আওয়ামী লীগসহ এ এলাকার সর্বস্তরের মানুষ সেখানে অংশ নেবেন। জাতীয় সংসদ ভবন থেকে গণভবন পর্যন্ত এলাকায় নেতৃত্বে থাকবেন ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এমপি। ধানম-ি, নিউমার্কেট, কলাবাগান ও হাজারীবাগ থানা আওয়ামী লীগসহ এসব এলাকার সর্বস্তরের মানুষ রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনাকে গণসংবর্ধনা জানাবেন। এছাড়া এসব রুটে সুবিধামতো স্থানে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশ নেবেন। নির্ধারিত ৮টি রুটে সাড়ে ১২টার সময় স্ব স্ব জায়গায় জাতীয় পতাকা হাতে অবস্থান নিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কেউ রাস্তার মাঝখানে দাঁড়াতে পারবেন না। যানজট এড়াতে রাস্তার দুই পাশে শৃঙ্খলা বজায় রেখে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে।

আজ দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭০তম অধিবেশনে যোগদান শেষে আজ শনিবার লন্ডন হয়ে দেশে ফিরছেন। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৫ মিনিটে নিউইয়র্ক জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী লন্ডনের উদ্দেশে রওনা হন। লন্ডনের স্থানীয় সময় রাত ৮টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ফ্লাইটটি লন্ডন হিথ্রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোঃ আবদুল হান্নান বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হোটেল ক্ল্যারিজে যান। সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশীদের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। লন্ডনে একদিনের যাত্রাবিরতি শেষে শুক্রবার লন্ডনের স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে (বিজি ০০২) লন্ডন হিথ্রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী স্বদেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভিভিআইপি ফ্লাইটটি সিলেট হয়ে আজ বেলা দেড়টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। সিলেটে যাত্রাবিরতিকালে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

নিউইয়র্ক সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭০তম অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেন। ভাষণে তিনি সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস জঙ্গীবাদকে মানবসভ্যতার অস্তিত্বের প্রতি হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করে এ দুটি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচীর (ইউনেপ) নির্বাহী পরিচালক আচিম স্টেইনারের কাছ থেকে পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ এ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন। ২৬ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) মহাসচিব হুলিন ঝাওয়ের কাছ থেকে ‘আইসিটি টেকসই উন্নয়ন’ পুরস্কারও গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

একই দিনে তিনি যোগ দেন জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সম্মানে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন আয়োজিত সংবর্ধনা ও ভোজসভায়। শেখ হাসিনা ২৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বশান্তি রক্ষা সম্পর্কিত এক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে কো-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তৃতা করেন। ২৯ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আয়োজিত আইএসআইএল ও সহিংস জঙ্গীবাদ শীর্ষক সম্মেলনে যোগ দেন।

নিউইয়র্ক সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ব্যস্ত সময় কাটান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পাশাপাশি শেখ হাসিনা ২৫ সেপ্টেম্বর কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের ফোরামে ‘গার্লস লিড দ্য ওয়ে’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। ২৪ সেপ্টেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ডাচ্ প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে এবং নেদারল্যান্ডসের রানী ম্যাক্সিমাসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন।

নির্বাচিত সংবাদ