১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রিমান্ডে নির্যাতনে ওমর সিরাজের মৃত্যুর অভিযোগ

  • র‌্যাবের অস্বীকার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ র‌্যাব হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেডিক্যালে ভর্তিসহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সহকারী পরিচালক ওমর সিরাজের মৃত্যু হয়েছে। রিমান্ডে থাকা অবস্থায় বুকে ব্যথা অনুভব করলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানেই সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ বৃহস্পতিবার গভীর রাতে লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ওমর সিরাজের মৃত্যু হয়েছে। তবে নিহতের স্ত্রীর অভিযোগ র‌্যাবের নির্যাতনে তার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। আবেগতাড়িত হয়ে নিহতের স্ত্রী এমন অভিযোগ করছেন বলে র‌্যাব দাবি করেছে। রিমান্ডে ওমরকে নির্যাতন করা হয়নি বলেও র‌্যাব সদর দফতর দাবি করেছে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরী কমিশনের একটি কক্ষ থেকে ওমর সিরাজকে দুই সহযোগীসহ গ্রেফতারের পর থেকেই সারাদেশে মেডিক্যালে ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের আন্দোলন চলে আসছে। এ নিয়ে সারাদেশেই অসন্তোষ সৃষ্টিরও চেষ্টা চলছে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর আগারগাঁও ইউজিসি কার্যালয়ের একটি কক্ষ থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে সহকারী পরিচালক ওমর সিরাজ (৩৫), বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের স্টোরকিপার রেজাউল করিম (৩২) ও ঈশান ইমতিয়াজ হৃদয় (২২) নামে ৩ জনকে আটক করে র‌্যাব।

তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা, কৃষি ব্যাংকের অফিসার নিয়োগ, জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের সহকারী জজ নিয়োগসহ বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র, উত্তরপত্র, বিশেষ ডিভাইস, নগদ ২ লাখ টাকা, এক্সিম ব্যাংকের ৪ লাখ টাকার একটি চেক, বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানের সীল, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বইসহ নানা আলামত উদ্ধার হয়।

র‌্যাব জানায়, উদ্ধারকৃত ডিভাইসটির মাধ্যমে অভিনব কায়দায় প্রশ্নপত্র ফাঁস করা হত। মূল ডিভাইসটির সঙ্গে ছাত্রদের কানের কাছে চুলের ভেতরে লুকানো ছোট ডিভাইসগুলো ব্লু টুথের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকত। একজন ছাত্র দ্রুত প্রশ্নপত্র পেয়ে বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে বাথরুমে গিয়ে মোবাইল ফোনে স্ক্যান করে বা পুরো প্রশ্নপত্রটিই বাইরে পাঠিয়ে দিত। সেই প্রশ্নপত্রের দ্রুত সমাধান করত কতিপয় ছাত্র। এরপর সেই উত্তর মূল ডিভাইসের মাধ্যমে যুক্ত থাকা ব্লু টুথের মাধ্যমে পাঠানো হতো। যেসব ছাত্র প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকত, তাদের প্রত্যেকের কানের ওপরে চুলের ভেতরে ছোট বিশেষ ডিভাইস লাগানো থাকত। ব্লু টুথের মাধ্যমে উত্তর পাঠানোর পর তা শুনে তা লিখত প্রশ্নপত্র ফাঁসের চক্রের সঙ্গে জড়িত ছাত্ররা।

র‌্যাব জানায়, মূলহোতা মোঃ ওমর সিরাজকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেলে বুকে ব্যথা অনুভব করলে দ্রুত তাকে হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানেই সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। তার পিতার নাম মৃত ইসমাইল হোসেন। বাড়ি যশোর জেলার শার্শা থানাধীন শোয়ারপাড় গ্রামে। তিন ভাই এক বোনের মধ্যে ওমর দ্বিতীয় ছিলেন। তিনি প্রায় সাড়ে ৩ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে চাকরি করছিলেন।

শেরেবাংলানগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওয়াজেদ আলী সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর সিরাজের বাম হাতের কব্জিতে, ডান হাতের কনুইতে ও ডান কাঁধের পেছনে লম্বা কালো পুরনো দাগ রয়েছে।

নিহতের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন শম্পার অভিযোগ, র‌্যাবের নির্যাতনে তার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিহতের স্ত্রীর এমন অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করে র‌্যাবের লিগ্যাল এ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান জনকণ্ঠকে বলেন, আইন অনুযায়ী যথাযথ নিয়মানুযায়ী ওমর সিরাজকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। জিজ্ঞাসাবাদকালে ওমর সিরাজকে কোন প্রকার নির্যাতন করা হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদে কথোপকথনের এক পর্যায়ে ওমর সিরাজ অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ওমর সিরাজের মৃত্যু হয় বলে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি জানান। স্বাভাবিক কারণেই স্বামীর মৃত্যুতে শোকাহত ওমরের স্ত্রী আবেগতাড়িত হয়ে এমন অভিযোগ করতে পারেন বলেও র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলছেন।