২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নিষেধাজ্ঞা মানছে না কেউ, মা ইলিশ ধরা চলছেই

নিষেধাজ্ঞা মানছে না কেউ, মা ইলিশ ধরা চলছেই

মোয়াজ্জেমুল হক, চট্টগ্রাম অফিস ॥ দেশের সাগর উপকূলবর্তী এলাকার প্রজনন ক্ষেত্রগুলোতে হামলে পড়েছে ইলিশ শিকারিরা। অবাধে নিধন হচ্ছে মা ইলিশ। ফলে এ মাছের প্রজনন ও বংশ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। সরকার গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র পনেরো দিন ইলিশ ধরার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তা যেন মানতেই চাইছে না। দাদন ব্যবসায়ীদের ইন্ধনে ইলিশ শিকারিরা বিভিন্নভাবে ইঞ্জিনচালিত নৌকাযোগে প্রতিদিন এ মাছ ধরা অব্যাহত রেখেছে। সরকারী নির্দেশ কার্যকর করতে কোস্টগার্ড প্রতিনিয়ত যে পাহারা দিচ্ছে তা অপর্যাপ্ত হওয়ার কারণে সরকারী আদেশ কার্যকর সম্পূর্ণভাবে সম্ভব হচ্ছে না। গত একসপ্তাহে প্রায় ৮শ’ মণ মা ইলিশ চোরাপথে ধরা পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সংক্রান্তে গ্রেফতার হয়েছে তিন শতাধিক জেলে। সরকারী নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের কাজে নিয়োজিত কোস্টগার্ড সূত্রে জানানো হয়েছে, উপকূলজুড়ে কোস্টগার্ডের লজিস্টিক সাপোর্টের স্বল্পতা রয়েছে। যে কারণে সম্পূর্ণভাবে মা ইলিশ নিধন বন্ধে যে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে তা কার্যকর সফলতা বয়ে আসছে না।

মৎস্য বিশেষজ্ঞ সূত্রে জানানো হয়েছে, সমুদ্র উপকূলবর্তী সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে ইলিশ প্রজননের ভর মৌসুম শুরু হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, পিরোজপুর, বরগুনা, আন্ধারমানিক, তেঁতুলিয়া, পটুয়াখালী, ভোলা, হাতিয়া, নোয়াখালী, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ও সাঙ্গু নদী এবং কক্সবাজারের কুতুবদিয়া ও মহেশখালী চ্যানেলে। এ সময় সাগর থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে মা ইলিশের দল ডিম ছাড়তে আসা শুরু করেছে। এ অবস্থায় সরকারী নির্দেশ অমান্য করে জেলেরা এ মা ইলিশ ধরার কাজে রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু করে দিয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্স এ্যান্ড ফিশারিজের অধ্যাপক সাইদুর রহমান শুক্রবার জনকণ্ঠকে জানান, প্রজননকালে মা ইলিশকে সুরক্ষা দিতে পারলে এক বছরেই এর উৎপাদন দ্বিগুণে উন্নীত হতে বাধ্য। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে মাছের প্রজনন বৃদ্ধিতে মা মাছ শিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করার রেওয়াজ রয়েছে। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা ও উপকূলের বিভিন্ন নদ-নদীতে ইলিশ প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে গবেষণার মাধ্যমে।

গবেষণা অনুযায়ী একটা পরিপূর্ণ মা ইলিশ কমপক্ষে ১০ লাখ ৩০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১৯ লাখ ১৪ হাজার অর্থাৎ গড়ে ১৪ লাখ ডিম ছাড়তে সক্ষম। সে হিসেবে হাজারে হাজারে মা ইলিশ কত কোটি কোটি ডিম দিতে সক্ষম তা গণনা করাও মুষ্কিল। সাগরের রুপালি সম্পদ হিসেবে খ্যাত মৎস্য সম্পদ। এরমধ্যে ইলিশ অন্যতম। এটি একদিকে যেমন সুস্বাদু, অন্যদিকে এর বাণিজ্যিক রফতানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আহরণের সুবিধাও বিদ্যমান। কিন্তু সরকারপক্ষে মাছের প্রজননকাল সময়কে এর ধরা থেকে সমপূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। গত জুন-জুলাই থেকে ৬৫ দিন পুরো বঙ্গোপসাগরে সকল ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু এ নিষেধাজ্ঞা কতটুকু কার্যকর হয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ট্রলারসহ উচ্চ অশ্বশক্তির বোটগুলো সাগর চষে বেড়িয়েছে। আহরণ করেছে দেদার বিভিন্ন ধরনের মাছ। এর ওপর প্রতিবেশী দেশ ভারত, মিয়ানমার এবং থাইল্যান্ডের চোরাগোপ্তা মাছ শিকার কোনকালেই বন্ধ করা যায়নি। এখনও অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গর এলাকায় ৬০ মণ ইলিশসহ ১৬০ জেলেকে আটক করেছে কোস্টগার্ড। জব্ধ করা হয়েছে ১২টি ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকা। এর আগে সন্দ্বীপ চ্যানেলে ধরা হয় ৬শ’ মণ ইলিশ। গ্রেফতার হয় ৩৮ জেলে। জেলেদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহাজনদের থেকে নেয়া দাদনের টাকা পরিশোধে তারা সরকারী আদেশ নির্দেশ উপেক্ষা করে মৎস্য আহরণে নেমে পড়ে। অন্যথায় মহাজনের দাদনের অর্থ পরিশোধ করতে তাদের সর্বশান্ত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞদের মতে, সংশ্লিষ্ট মহাজনদের চিহ্নিত করে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার ব্যবস্থা করা সময়ের দাবি।

পুলিশ ও ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়া ॥ বরিশাল থেকে খোকন আহমেদ হীরা জানান, মা ইলিশ রক্ষায় সরকারী নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে খোদ কতিপয় পুলিশ সদস্য ও ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় বরিশালের বিভিন্ন নদীতে চলছে নির্বিচারে মা ইলিশ নিধন। এসব মাছ বিক্রি হচ্ছে নদীসংলগ্ন ঝোপঝাড়ে।

অভিযোগ রয়েছে, মা ইলিশ নিধনের সময় জেলেদের আটক করা সত্ত্বেও রাজনৈতিক চাপে বিপাকে পড়তে হচ্ছে মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের। এছাড়া মা ইলিশ নিধনে কতিপয় পুলিশ সদস্যদের জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে প্রশাসনে প্রকাশ্য বিরোধ দেখা দিয়েছে। গত তিনদিনে জেলায় ৭৪ জন জেলেকে জেল-জরিমানা ও ৫ লক্ষাধিক মিটার কারেন্ট জাল উদ্ধার করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মুলাদীর মেঘনার মোহনা আর জয়ন্তি নদী ও মেহেন্দিগঞ্জের গবিন্দপুরের মেঘনা নদীতে নির্বিচারে চলছে মা ইলিশ নিধন। এসব ইলিশ রাতেই বিক্রি হচ্ছে নদীপাড়ের ঝোপঝাড়ের মধ্যে। প্রশাসনের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে মেঘনার মোহনা থেকে শরিয়তুল্লাহ নামের এক ব্যক্তিকে মা ইলিশ নিধনে জড়িত থাকার দায়ে আটক করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা রাতভর শরিয়তুল্লাহকে ছাড়িয়ে নিতে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগ করেন। নেতাকর্মীদের দমাতে স্থানীয় চেয়ারম্যানকেও হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে।

অপরদিকে, মেহেন্দিগঞ্জের গোবিন্দপুরের মেঘনায় আ’লীগ নেতা আলতাফ হোসেন ওরফে আলতু সিকদারের নেতৃত্বে চলছে মা ইলিশ নিধনের মহোৎসব। অভিযোগ রয়েছে, আলতাফ সিকদার এতই প্রভাবশারী যে স্থানীরা তো দূরের কথা প্রশাসনও তাকে সমীহ করেন। ফলে তার নেতৃত্বে মা ইলিশ নিধন করা হলেও কেউ কোন টু-শব্দ পর্যন্ত করতে পারছেন না। স্থানীয় একাধিক জেলেরা জানান, আলতাফ সিকদারের মাছ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বাসায় উপঢৌকন হিসেবে পাঠানো হয়। যে কারণে তার বিরুদ্ধে কেউ কোন কথা বলেন না। বৃহস্পতিবার সকালে মেঘনা নদীতে দস্যুতার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আলতাফ ও মোতালেব দেওয়ানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। ওই ঘটনার জেরধরে আলতাফ ও তার সহযোগীরা প্রতিপক্ষের দুটি বসতঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেঘনা নদীর বিশাল এলাকা দখল করে ইলিশ মাছ শিকার করে আসছে আলতাফের লোকজনে। তার দখলকৃত নদীর অংশে মোতালেবের লোকজনে জাল ফেলার জের ধরে সংঘর্ষ হয়।

প্রজননের দিনক্ষণ নিয়ে ভিন্নমত ॥ বাউফল থেকে কামরুজ্জামান বাচ্চু জানান, তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশ শিকার বন্ধে সরকারের চলমান নিষেধাজ্ঞা ভেস্তে যেতে বসেছে। প্রয়োজনীয় লোকবল, যানবাহনের অপ্রতুলতা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে এমনটি হচ্ছে। অপরদিকে সরকার ঘোষিত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধকালীন সময়ে ইলিশের ডিম ছাড়ার প্রকৃত সময় নয় বলেও মতামত ব্যক্ত করেছেন অভিজ্ঞজনরা। বাউফলের পূর্ব সীমান্তের কালাইয়া, নাজিরপুর, কেশবপুর ও ধুলিয়া এবং ভোলা জেলার লালমোহন, বোরহান উদ্দিন ও ভোলা সদরের পশ্চিম সীমান্ত ঘেঁষে মেঘনার অববাহিকা প্রমত্তা তেঁতুলিয়া নদী প্রবহমান। এ নদীর বাউফল অংশে ধুলিয়া থেকে বগি পয়েন্ট পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার এবং ভোলার লালমোহন থেকে ভোলা সদর পর্যন্ত প্রায় ৬০ কিলোমিটার এলাকায় ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত সরকার ইলিশ শিকার নিষিদ্ধ করেন। কর্মকর্তারা নদীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে আসা যাওয়ার ফাঁকে অসাধু জেলেরা নদীতে জাল ফেলে মা ইলিশ শিকার করে নিচ্ছেন। মৎস্য অধিদফতরের নিজস্ব কোন যানবাহন নেই। ভাড়া করা ট্রলারে নদীতে টহল দিতে হচ্ছে। তাদের যাতায়াত পর্যবেক্ষণ করার জন্য মাছ শিকারিদের বিভিন্ন পয়েন্টে লোক বসানো রয়েছে। তারা টহল টিমের গতিবিধি লক্ষ্য করে মোবাইলের মাধ্যমে জেলেদের কাছে খবর পৌঁছে দেন। ফলে অভিযান ভেস্তে যাচ্ছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, বাউফলের শৌলা, বগি, ধুলিয়া, মমিনপুর ও নাজিরপুর এলাকায় বিপুলসংখ্যক জেলেরা ইলিশ শিকার করছে। অভিযোগ রয়েছে, কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে প্রভাবশালী মহল জেলেদের দিয়ে ইলিশ শিকার করাচ্ছেন। শিকার করা ইলিশ গোপনে গ্রামে গ্রামে ফেরি করে প্রতিহালি ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি করছেন। অবিক্রীত ইলিশ বিশেষ প্রক্রিয়ায় মাটির নিচে মজুদ করছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে, এই অবরোধকালীন সময়ে ইলিশের ডিম ছাড়া নিয়ে অভিজ্ঞ জেলেরা ভিন্নমত ব্যক্ত করেছেন। উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের প্রবীণ জেলে বাদশা মিয়া বলেন, আশ্বিনী পূর্ণিমার ২-৩ দিন আগে ও ২-৩ দিন পরে মা ইলিশের ডিম ছাড়ার প্রকৃত সময়। এবছর ওই পূর্ণিমার দিন হচ্ছে ২৭ অক্টোবর। যে কারণে সরকার ঘোষিত অবরোধের এ সময়টায় বেশিরভাগ মা ইলিশ ডিম ছাড়বে না। তাই অবরোধের তারিখ দেয়া উচিত ছিল ৫ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত। এ ডিম পরিপূর্ণ হতে আরও ৮ থেকে ১০ দিন সময় লাগবে। তাই অবরোধের সময় ৯ অক্টোবর থেকে বাড়িয়ে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত করা উচিত।

তেঁতুলিয়া নদীতে শুক্রবার দুপুরে কোস্টগার্ড অভিযান চালিয়ে প্রায় ২ লাখ মিটার কারেন্ট জাল ও দুই মণ মা ইলিশ আটক করেছে। আটককৃত জালের মূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা।

মুন্সীগঞ্জ থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচলনা করে ২২ জেলেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অবৈধভাবে মা ইলিশ ধরা ও কারেন্ট জাল রাখার অপরাধে ৫ ব্যক্তিকে ১ বছর করে কারাদ-, ১৭ জনকে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। ভ্রম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও লৌহজং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবুল কালাম শুক্রবার সকালে এ দ-াদেশ দেন।

ঈশ্বরদী থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, পাকশী পদ্মা নদীর উভয়পাড়ে চলছে জাটকা শিকারের মহোৎসব। এ কারণে সরকারের মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি সংক্রান্ত উদ্যোগ ভেস্তে যেতে বসেছে। শুক্রবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাড়াঘাট, আড়মবাড়িয়া, বাহিরচর, মসলেমপুর ও হার্ডিঞ্জ ব্রিজের উভয়পাড়ে বিপুলসংখ্যক নৌকা ও টলার মাছ শিকারের কাজে ব্যবহার হচ্ছে।

চাঁদপুর ॥ নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, চাঁদপুর নৌ-সীমানায় মা ইলিশ রক্ষার্থে নিয়মিত অভিযানে আটক ১০ জেলেকে ১ বছর করে কারাদ- দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শুক্রবার বিকেল ৩টায় চাঁদপুর নৌপুলিশ ফাঁড়িতে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লিটুস লরেন্স সিরান এ দ-াদেশ দেন। দ-প্রাপ্তরা হচ্ছেন : তালিমুদ্দিন মাল (৩০), স্বপন (১৮), জয়নাল আবেদীন (২৭), সাইফুল চোকদার (২৫), মেজবাহ উদ্দিন (৩৫), নাছির মিয়া (১৮), আক্তার হোসেন (২৫), জলিল (৫৫), সালাহ উদ্দিন (২৫) ও হাসম আলী বেপারী (২৫)।

সিদ্ধিরগঞ্জ ॥ নারায়ণগঞ্জের নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, আড়াইহাজারে মেঘনা নদী থেকে মা ইলিশ মাছ ধরার সময় ৩ জেলেকে আটক করে প্রত্যেককে ১০ দিনের করে কারাদ- দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভ্রাম্যমাণ আদালত জেলে কাবুল, আলম ও কাউসারকে এ সাজা প্রদান করেন।

ভোলা ॥ নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইলিশ ধরার অপরাধে ভোলায় ১২ জেলেকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১০ কেজি ইলিশ মাছ ও ১০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। পরে আটকৃত জেলেদের ৮ দিন করে কারাদ- দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শুক্রবার সকাল ১০টায় ভ্রাম্যমাণ আদলতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাদব সরকার এ রায় দেন।