২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এসো ধুইয়া চরণ শিশিরে এসো অরুণ কিরণ রথে...

এসো ধুইয়া চরণ শিশিরে এসো অরুণ কিরণ রথে...
  • শরত বন্দনা চারুকলায়

মোরসালিন মিজান

শরতের সীমা ভাদ্র ও আশ্বিন মাস পর্যন্ত। প্রথম মাসের পুরোটা এরই মাঝে গত হয়েছে। আশ্বিনেরও যাই যাই। এই যখন অবস্থাাাপা তখন শুক্রবার রাজধানীতে শরত উৎসবের আয়োজন করল সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী। ছায়ানটের পর এটি ছিল দ্বিতীয় আয়োজন। চারুকলার বকুলতলায় আয়োজিত উৎসবকে বলা চলে শরত বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা। বরাবরের মতোই গান নাচ কবিতার ভাষায় বন্দনা করা হলো শরতের। বিভিন্ন সংগঠনের শিল্পীরা দলীয় পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে ছিলেন। অপেক্ষাকৃত পরিচিতদের ছিল একক পরিবেশনা। প্রকৃতিপ্রেমী, উৎসব প্রিয় মানুষের অংশগ্রহণে বেশ কেটেছে গোটা দিনটা।

শুরুটা হয়েছিল সেই সক্কাল বেলায়। সাতটার সামান্য বেশি যখন ঘড়িতে, উৎসবের হয়ে উঠেছিল বকুলতলা। শরতের আকাশ থেকে নীল সাদা নিয়ে পোশাকে মেখেছিলেন শিল্পীরা। তার পর একক ও দলীয় পরিবেশনা। প্রায় সব পরিবেশনা থেকেই প্রিয় ঋতুর নানা দিক তুলে ধরার প্রয়াস। সেইসঙ্গে ছিল বাংলা মায়ের রূপ বর্ণনা। সমবেত পরিবেশনার শুরুতে স্ব-ভূমি লেখক শিল্পী কেন্দ্রের শিল্পীরা ষড়ঋতুর বাংলাদেশকে বর্ণনা করে। নজরুল থেকে গেয়ে যানÑ এ কি অপরূপ রূপে মা তোমায় হেরিনু পল্লী-জননী।/ ফুলে ও ফসলে কাদা মাটি জলে ঝলমল করে লাবনি...। সুর সপ্তকের শিল্পীরা নজরুল থেকে বেছে নেন সেই প্রিয় গানÑ এসো শারদ প্রাতের পথিক এসো শিউলি-বিছানো পথে।/ এসো ধুইয়া চরণ শিশিরে এসো অরুণ-কিরণ-রথে...। আয়োজক সংগঠনের শিল্পীরা বাংলাদেশের বন্দনা করে গানÑ নমঃ নমঃ নমো বাঙ্লাদেশ মম/ চির-মনোরম চির মধুর ...। ছোটদের অংশগ্রহণও ছিল চোখে পড়ার মতো। সুর বিহারের ক্ষুদে শিল্পীরা রবীন্দ্রনাথ থেকে গেয়ে শোনায়Ñ শরতে আজ কোন্ অতিথি এল প্রাণের দ্বারে।/ আনন্দগান গা রে হৃদয়, আনন্দগান গা রে। একক সঙ্গীতে শরত বন্দনা করেন সালমা আকবর, বিজন চন্দ্র মিস্ত্রি, বিমান চন্দ্র বিশ্বাস, আশিকুর রহমান, মাহজাবিন রহমান শাওলি, ইসরাত জাহান মিম প্রমুখ।

উৎসব যেহেতু, নাচটা না হলেই নয়। আয়োজনজুড়ে ছিল বেশ কয়েকটি নাচ। নৃত্যম, নটরাজ, নৃত্যজন, স্পন্দন, বাংলাদেশ একাডেমি অব ফাইন আর্টসের পরিবেশনা বেশ উপভোগ করেন দর্শক। প্রতিটি কোরিওগ্রাফি উপভোগ করেছেন দর্শক। নৃত্যশিল্পীরা উৎসবের রং ছড়িয়ে দেন গোটা এলাকায়।

কবিতায়ও ছিল শরত বন্দনা। নায়লা তারাননুম চৌধুরী কাকলির কণ্ঠে ছিলেন রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ। কবি থেকে নিয়ে আবৃত্তি শিল্পী উচ্চারণ করেনÑ গাহি মানবে জয়!/Ñকোটি কোটি বুকে কোটি ভগবান আঁখি মেলে জেগে রয়...! চমৎকার আবৃত্তি করেন বেলায়েত হোসেনও। সমবেত

পরিবেশনা নিয়ে আসেন শ্রুতিঘরের শিল্পীরা।

প্রথম পর্বের শেষভাগে ছোট করে ছিল শরতের আলোচনা। গোষ্ঠীর সভাপতি ড. হায়াৎ মামুদের সভাপতিত্বে কথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ.আ.ম.স. আরেফিন সিদ্দিক, নিগার চৌধুরী প্রমুখ।

প্রায় একই রকম আয়োজন ছিল বিকেলের পর্বে। এ সময় এমনিতেই লোকসমাগম বেশি হয়। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় লোকসমাগম বেড়ে কয়েকগুণ হয়েয়েছিল। ফলে শেষটা ছিল আরও বেশি প্রাণবন্ত।