২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জনপ্রশাসনে বিসিএস নারী কর্মকর্তাদের পোশাক নির্ধারণ হচ্ছে

জনপ্রশাসনে বিসিএস নারী কর্মকর্তাদের পোশাক নির্ধারণ হচ্ছে
  • বেশিরভাগের পছন্দ সালোয়ার কামিজ

সমুদ্র হক ॥ জনপ্রশাসনে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) নারী অফিসারদের পোশাক নির্ধারণ করা হচ্ছে। এই লক্ষ্যে বিসিএস নারী অফিসারদের কাছে মতামত চেয়ে একটি ফরম পাঠানো হয়। সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে পূরণকৃত ফরম মন্ত্রণালয়ে জমা পড়েছে। বেশিরভাগই দাফতরিক কাজের পোশাক হিসেবে সালোয়ার কামিজকে পছন্দ করে মতামত দিয়েছেন। তবে অনেকে শাড়িও পছন্দ করেছেন। মতামত বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত দেয়া হবে।

বিসিএস নারী অফিসারদের পোশাক নির্ধারণে সংস্থাপন মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আকতারী মমতাজ এই কমিটির আহ্বায়ক। এর আগে বিসিএস পুরুষ অফিসারদের পোশাক নির্ধারণ করা হয়। ফুলসার্ট ইন করে প্যান্ট ও জুতোমোজা দাফতরিক কাজের নির্ধারিত পোশাক। বছর দুয়েক আগে প্রধানমন্ত্রী গ্রীষ্মে ফুলসার্টের পরিবর্তে হাফসার্ট পরিধানের পরামর্শ দেন। এভাবেই বিসিএস পুরুষ অফিসারদের পোশাক নির্ধারণ করা আছে। দিনে দিনে বিসিএস নারী অফিসারদের সংখ্যা বাড়ছে। বিষয়টি অনুধাবন করে দাফতরিক ও অনানুষ্ঠানিক পোশাক নির্ধারণের ভাবনা চিন্তা করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, রাষ্ট্রীয়, সরকারী অনুষ্ঠান, প্রত্যেক কর্মদিবসে দাফতরিক পোশাকের বিষয়ে নারী অফিসারদের জন্য কোন নির্দেশনা নেই। যে কারণে নারী অফিসারগণ কর্মক্ষেত্রে এবং বিভিন্ন সময়ে কোন অনুষ্ঠানে কি পোশাক পরবেন এ নিয়ে অনেক সময় দ্বিধার মধ্যে পড়েন। কর্মদিবসে পোশাকের নানা ধরন থাকে।

অনেক সময় মানানসই হয়ও না। প্রথম শ্রেণীর সরকারী নারী অফিসারের পরিধেয় পোশাকের ওপর স্মার্টনেস ব্যক্তিত্ব ফুটে ওঠে। একই সঙ্গে বেড়ে ওঠে পেশাদারিত্ব। আবার নারী অফিসাদের সরকারী কাজে মাঠে প্রান্তরে ঘুরতে হয়। এই সময় স্বচ্ছন্দে চলাফেরার পোশাক কাজের গতিকে বাড়ায়। সব মিলিয়ে বিসিএস নারী অফিসারদের পরিধেয় পোশাক কাজের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে।

্এই বিষয়গুলো বিবেচনায় এনে সংস্থাপন মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে মতামত জরিপের উদ্যোগ নেয়। মাস তিনেক আগে প্রশ্নমালা তৈরি করে মতামতের জন্য পাঠানো হয়। যেমন- কর্মক্ষেত্রে নারী অফিসারদের পেশাদারিত্ব ও ব্যক্তিত্ব প্রকাশে পোশাকের ভূমিকা আছে কি না? এমন প্রশ্নে বেশিরভাগই ইতিবাচক (হ্যাঁ সূচক) উত্তর দিয়েছেন। একই উত্তর দিয়েছেন পোশাক নির্ধারণে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট পোশাক থাকা দরকার। পোশাক নির্ধারণে অন্তত ৮৫ শতাংশের উত্তর ছিল সালোয়ার কামিজ। যুক্তি ছিল স্বচ্ছন্দে চলাফেরা করা যায়। শাড়ি পছন্দ করেছেন অনেকে। তবে আনুষ্ঠানিক নয় এমন ক্ষেত্রে সালোয়ার কামিজ ও শাড়ি দুই পরিধান করতে পারেন। পোশাকের রঙ কি এবং কেমন হতে পারে বা কেমন হওয়া উচিত এমন প্রশ্নে বেশিরভাগ উত্তর মিলেছে, মার্জিত রঙ। যা পরিধানে বেমানান ঠেকবে না। ঝলমলে উৎকট এমন রঙকে নেতি বাচক (না সূচক) উত্তর দিয়েছেন। এসব রঙে চোখে অমার্জিতের ছাপ পড়ে। পোশাকের সঙ্গে অলঙ্কার ব্যবহার যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুতেই মতামত দিয়েছেন।

জনপ্রশাসনের বিসিএস নারী কর্মকর্তাদের মতামত ঐচ্ছিক ভিত্তিতে চাওয়া হয়। তবে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার কথাও বলা হয়। বিসিএস নারী অফিসারদের পোশাক নির্ধারণ করা হলে তা হবে দেশে এই প্রথম। কয়েকজন নারী অফিসারের সঙ্গে কথা বললে তারা মন্তব্য দেন, পোশাক নির্ধারণের বিষয়টিতে তারা ভাল চোখেই দেখছেন। পোশাক নির্ধারণ থাকলে খুবই ভাল হয়। অনেক সময় কোন অনুষ্ঠানে যেতে কি ধরনের পোশাক পরে যাবেন এ নিয়ে ভাবতে হয়। রুচিশীল মার্জিত পোশাক ব্যক্তিত্বেকেই তুলে ধরে। এই বিষয়ে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ খোরশেদ আলম বললেন, জনপ্রশাসনে বিসিএস নারী অফিসারদের পোশাক নির্ধারণের উদ্যোগটি ভাল। তবে এটা ড্রেস কোড নয়। স্মার্ট পোশাক নারী পুরুষ উভয়েরই কাজের গতি বাড়ায়। পোশাক নিয়ে ওয়েবসাইটে অনেক তথ্য আছে। যেমন- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ফুল সার্ট ইন করে পরার পর কোন অবস্থায় ফুল হাত থ্রি কোয়র্টার করতে পারেন তারও নির্দেশনা আছে। মার্কিন সেক্রেটারি অব স্টেট ও সিনেটর কখন কোন পোশাক পরতে পারেন তারও কোড আছে।