১৮ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফাঁসির দণ্ড মাথায় ৯ মামলা এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ॥ যুদ্ধাপরাধী বিচার

  • নিজামীর মামলার শুনানির দিন ৩ নবেম্বর

বিকাশ দত্ত ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত বিএনপি ও জামায়াতের ৫ শীর্ষ নেতার আপীল নিষ্পত্তির পর এখনও নয়টি মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এরই মধ্যে কাদের মোল্লা ও কামারুজ্জামানের দ- কার্যকর করা হয়েছে। সাকা ও মুজাহিদের মৃত্যুদ- বহাল রেখে আপীল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়েছে। এ দুটি মামলা এখন রিভিউয়ের অপেক্ষায়। অন্যদিকে নিজামীর মামলা শুনানির দিন ৩ নবেম্বর ধার্য আছে। পলাতক থাকায় ৫ আসামি আপীল করেননি। রাষ্ট্রপক্ষ একজনের মৃত্যুদ- চেয়ে আপীল করেছেন। দীর্ঘ ৫ বছর ৭ মাসে ২১টি মামলার রায় ঘোষণা করেছে ট্রাইব্যুনাল। শীঘ্রই আরও একটি মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনক্সা বাস্তাবায়ন, হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন সম্পত্তি ধ্বংস দেশত্যাগে বাধ্য করায় আলবদর বাহিনীর প্রধান বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের সাবেক মন্ত্রী জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান আমির মতিউর রহমান নিজামীর পরবর্তী শুনানির জন্য ৩ নবেম্বর দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। নিজামীর পরে রয়েছেন মীর কাশেম আলী। এর আগে আপীল বিভাগে যেসব মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা (মৃত্যুদ- কার্যকর), নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী (আমৃত্যু কারাদ-) ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামান (মৃত্যুদ- কার্যকর)। জামায়াতের নায়েবে আমির সাঈদীর সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদ- প্রদান করা হয়েছে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুজাহিদ (আপীলে মৃত্যুদ- বহাল) ও বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী (আপীলে মৃত্যুদ- বহাল)। আর আপীলে থাকা অবস্থাতেই জামায়াত সাবেক আমির গোলাম আযম ও বিএনপির সাবেক মন্ত্রী আবদুল আলীমের মৃত্যু হওয়ায় তাদের আপীলের নিষ্পত্তি হয়ে গেছে।

২১ মামলায় মোট ২৪ জনকে বিভিন্ন ধরনের দ- দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্যে ১৭ জনকে মৃত্যুদ-, একজনের যাবজ্জীবন কারাদ-, একজনকে ৯০ বছরের কারাদ- ও ৫ জনকে আমৃত্যু কারাদ- প্রদান করা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১, দশটি এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২, এগারোটি রায় প্রদান করেছেন। এ দ-ের বিরুদ্ধে আপীল বিভাগে নিষ্পত্তি হয়েছে ৫টি। নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে ৬। অপরদিকে পাঁচ মামলায় ৬ জন পলাতক রয়েছেন। এরা হলেন বাচ্চু রাজাকার ওরফে আবুল কালাম আজাদ, আশরাফুজ্জামান খান, চৌধুরী মঈনুদ্দিন, জাহিদ হোসেন খোকন, হাসান আলী, ফোরকান মল্লিক। এদের সবাইকে ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদ- প্রদান করেছেন।

অন্যদিকে আপীল নিষ্পত্তির অপেক্ষায় যে সমস্ত মামলা রয়েছে সেগুলো হলো, মতিউর রহমান নিজামী, মীর কাশেম আলী, আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত মোবারক হোসেন, জাতীয় পার্টির সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির নেতা (পলাতক) আব্দুল জব্বার (রাষ্ট্রপক্ষ) জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুস সুবহান ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের মাহিদুর রহমান এবং আফসার হোসেন চুটু। রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে সুপ্রীমকোর্ট অবকাশকালীন ছুটি শেষে এসব মামলা পর্যায়ক্রমে কার্যতালিকায় আসতে পারে। নিম্নে মামলাগুলোর বিবরণ দেয়া হলো।

মতিউর রহমান নিজামী ॥ মতিউর রহমান নিজামীর পরবর্তী শুনানির দিন ৩ নবেম্বর দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আদালত উভয়পক্ষের আইনজীবীদের লিখিতভাবে যুক্তিতর্কের সারসংক্ষেপ জমা দিতে বলে। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপীল বিভাগের চেঞ্চ এ আদেশ প্রদান করেছেন। বেঞ্চে অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। উল্লেখ্য, এর আগেও ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় চট্টগ্রামের একটি আদালত মতিউর রহমান নিজামীকে মৃত্যুদ- প্রদান করেছেন।

২০১৪ সালের ২৩ নবেম্বর দ- থেকে খালাস চেয়ে মতিউর রহমান নিজামীর পক্ষে আপীল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। এ আপীলের এ্যাডভোকেট অন রেকর্ড হচ্ছেন জয়নুল আবেদিন তুহিন। ৬ হাজার ২৫২ পৃষ্ঠার আপীলে মোট ১৬৮ যুক্তি দেখানো হয়েছে।

২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনক্সা বাস্তবায়ন, হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন সম্পত্তি ধ্বংস দেশত্যাগে বাধ্য করায় আলবদর বাহিনীর প্রধান বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের সাবেক মন্ত্রী ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার রায়ে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামি জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১৬ অভিযোগের মধ্যে আটটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় নিজামীকে মৃত্যুদ- প্রদান করেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক। ৪ অভিযোগে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ-ের আদেশ প্রদান করেন ট্রাইব্যুনাল। অপর চারটি অভিযোগে তাকে যাবজ্জীবন করাদ- দেয়া হয়। বাকি ৮ অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেয়া হয়েছে।

মীর কাশেম আলী ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বদর বাহিনীর তৃতীয় শীর্ষ নেতা তৎকালীন ইসলামী ছাত্র সংঘের সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রামের বাঙালী খান, জামায়াতের ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাশেম আলীকে ২০১৪ সালের ২ নবেম্বর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ-ের রায় প্রদান করেন ট্রাইব্যুনাল। মীর কাশেম আলীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১৪টি অভিযোগের মধ্যে হত্যা, অপহরণ নির্যাতনের ১০টি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ২ অভিযোগের মধ্যে একটিতে সর্বসম্মতিতে আরেকটি সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ-ের আদেশ দেয়া হয়। অপর ৮টি অভিযোগে সর্বমোট ৭২ বছর কারাদ- দেয়া হয়েছে। বাকি ৪টি অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেয়া হয়েছে। রবিবার চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ ভাবগাম্ভীর্য পরিবেশে জনার্কীণ আদালতে পীনপতন নীরবতার মধ্য দিয়ে এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মোঃ মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মোঃ শাহিনুর ইসলাম। ৩০-১১-১৪ ঃ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে মীর কাশেমের আপীল করেন।

মোবারক হোসেন ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর সাবেক রোকন আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজাকার কমান্ডার মোবারক হোসেনকে ২০১৪ সালের ২৪ নবেম্বর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- প্রদান করেছেন ট্রাইব্যুনাল। হত্যা, গণহত্যা, অপহরণ, জোরপূর্বক আটক রাখা, নির্যাতন, লুটপাটের পাঁচ অভিযোগের মধ্যে অভিযোগ-১ এ তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- এবং অভিযোগ-৩ এ যাবজ্জীবন কারাদ- প্রদান করা হয়েছে। অন্য তিনটি অভিযোগ-২, ৪, ৫ প্রমাণিত না হওয়াও আসামিকে খালাস প্রদান করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সম্প্রতি এ আদেশ প্রদান করেছে। ট্রাইব্যুনালে অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক। মোঃ মোবারক হোসেন ট্রাইব্যুনালের দ-ের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর আপীল দায়ের করেন।

সৈয়দ মোঃ কায়সার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত জাতীয় পার্টির সাবেক কৃষি প্রতিমন্ত্রী কায়সার বাহিনীর প্রধান সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারকে ২০১৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ-ের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৬টি অভিযোগের মধ্যে হত্যা-গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, আটক, মুক্তিপণ আদায়, অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠন এবং ষড়যন্ত্রের ১৪টি প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে ৭টি অভিযোগে ফাঁসি, ৪টিতে আমৃত্যু কারাদ-, ৩টিতে ২২ বছরের কারাদ- ও দুটি অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার জনাকীর্ণ আদালতে পিনপতন নীরবতার মধ্যে চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ প্রদান করেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মোঃ মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মোঃ শাহিনুর ইসলাম। সৈয়দ মোঃ কায়সার দ-ের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি আপীল দায়ের করেন।

এটিএম আজহারুল ইসলাম ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও আলবদর কমান্ডার এটিএম আজহারুল ইসলামকে ২০১৪ সালের ১০ ডিসেম্বর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ-ের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের ৬টি অভিযোগের মধ্যে হত্যা-গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, আটক, অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠনের ৫টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে ৩টি অভিযোগে ফাঁসি, ২টিতে ৩০ বছরের কারাদ- ও একটিতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেয়া হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ প্রদান করেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক। এটিএম আজহারুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালের দ-ের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি আপীল দায়ের করেন।

জব্বার ইঞ্জিনিয়ার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত পলাতক পিরোজপুরের রাজাকার কমান্ডার জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বারকে ২০১৫ সালের ২৪ ফেব্রুযারি আমৃত্যু কারাদ- প্রদান করেছেন ট্রাইব্যুনাল। আসামি জব্বারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনও আনা পাঁচটি অভিযোগের সবকটি প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে তারা। রায়ে আনা অভিযোগের মধ্যে এক, দুই, তিন এবং পাঁচে মৃত্যুদ- ও চার নম্বর অভিযোগে ২০ বছরের কারাদ- এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন রায়ে। আনাদায়ে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদ- প্রদান করা হয়েছে। অভিযোগ মৃত্যুদ- যোগ্য হলেও বয়সের বিবেচনায় তাকে এই দ- দেয়া হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক। এই রায়ের বিরুদ্ধে মৃত্যুদ- চেয়ে ২০১৫ সালের ২৫ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষ আপীল দায়ের করেছেন।

আব্দুস সুবহান ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির শান্তি কমিটি ও রাজাকার বাহিনীর সংগঠক আবদুস সুবহানকে ২০১৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুদ- দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। আসামির বিরুদ্ধে আনা ৮ ধরনের নয়টি মানবতাবিরোধী অভিযোগের মধ্যে গণহত্যা, হত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ষড়যন্ত্রের ৬টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে ১, ৪ ও ৬ নম্বর অভিযোগে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- প্রদান করেন ট্রাইব্যুনাল। ২ ও ৭ নম্বর অভিযোগ আমৃত্যু কারাদ- ও ৩ নম্বর অভিযোগে ৫ বছরের কারাদ- প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় ৫, ৮ ও ৯ নম্বর অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছেন আবদুস সুবহান। চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইুব্যুনাল-২ এই ঐতিহাসিক মামলায় রায় প্রদান করেছেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মোঃ মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মোঃ শাহিনুর ইসলাম। দ-ের বিরুদ্ধে সুবহান ২০১৫ সালের ১৮ মার্চ আপীল দায়ের করেন।

মাহিদুর রহমান এবং আফসার হোসেন চুটু ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের মাহিদুর রহমান এবং আফসার হোসেন চুটুকে ২০১৫ সালের ২০ মে আমৃত্যু কারাদ- প্রদান করেছেন ট্রাইব্যুনাল। স্বাভাবিক মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে থাকতে হবে। চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি বিচারপতি মোঃ মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মোঃ শাহিনুর ইসলাম। এ দ-ের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি মহিদুর আপীল করেন। চুটু করেননি।

সিরাজ মাস্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা-গণহত্যা, আটক, অপহরণ, নির্যাতন এবং শতাধিক বাড়ি-ঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাগেরহাটের কসাই রাজাকার কমান্ডার শেখ সিরাজুল হক ওরফে সিরাজ মাস্টারকে (৭২) ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট মৃত্যুদ- ও খান আকরাম হোসেনকে (৬১) আমৃত্যু কারাদ- প্রদান করেছেন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে বলা হয়, আসামি সিরাজের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা ছয়টি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। আর আকরাম দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন তিনটি অভিযোগের মধ্যে একটিতে। কসাই সিরাজকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়ে অথবা ফায়ারিং স্কোয়াডে গুলি করে যেভাবে সুবিধাজনক, সেভাবে মৃত্যুদ- কার্যকরের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। অন্যদিকে আকরামকে স্বাভাবিক মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কাটাতে হবে জেলখানায় চার দেয়ালে। চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় প্রদান করেছেন।