২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রিপেইড মিটার বসাতে রিজার্ভ থেকে অর্থ চায় পিডিবি

  • ৫০ কোটি ডলার ঋণের ব্যবস্থা করে দিতে বিদ্যুত বিভাগকে অনুরোধ

রশিদ মামুন ॥ প্রি-পেইড মিটার স্থাপনে দাতাদের আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হয়ে রিজার্ভ থেকে টাকা চাইছে বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। পিডিবি সম্প্রতি বিদ্যুত বিভাগে দেয়া এক চিঠিতে সহজ শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার ঋণের ব্যবস্থা করে দিতে অনুরোধ জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, অর্থায়ন নিশ্চিত না হওয়ায় বিদ্যুত সাশ্রয়ী প্রি-পেইড মিটার স্থাপন বাধার মুখে পড়েছে। বিদ্যুত বিভাগ বলছে পর্যায়ক্রমে সকল গ্রাহককে প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আনা হবে। তবে প্রথমধাপে ৪৩ লাখ গ্রাহকের প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের উদ্যোগ পয়সার অভাবে বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বিদ্যুত বিভাগ সূত্র জানায়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) মাধ্যমে প্রকল্পের অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু গত ১০ মাস ধরে প্রকল্পটি ইআরডিতে পড়ে রয়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় চার হাজার ৫০০ কোটি কোটি টাকার প্রকল্পের জন্য ইআরডি কোন অর্থের সংস্থান করতে পারেনি। অন্যদিকে প্রকল্পটির মেয়াদ ২০১৮ সালে শেষ হওয়ার কথা। এখনও অর্থায়ন নিশ্চিত না হওয়ায় আদৌ নির্দিষ্ট সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

প্রি-পেইড মিটারিং ব্যবস্থায় গ্রাহক ব্যবহারের আগেই বিদ্যুত বিল পরিশোধ করে। এক্ষেত্রে বিতরণ কোম্পানির মিটার রিডিং, বিল প্রণয়ন এবং আদায় এর কোন ঝামেলা থাকে না। গ্রাহক চাইলেও নির্দিষ্ট সীমার উপরে বিদ্যুত ব্যবহার করতে পারবে না। প্রি-পেইড মিটারে যতক্ষণ টাকা থাকবে ততক্ষণই গ্রাহক বিদ্যুত ব্যবহার করতে পারবে। গ্রাহক দোকান থেকে মোবাইল কার্ডের মতো কার্ড ক্রয় করে নিজেই রিচার্জ করে নিতে পারবেন। অর্থ শেষ হয়ে আসার আগেই গ্রাহকে মিটার সঙ্কেত দেবে, যাতে গ্রাহক ব্যবহারে সাশ্রয়ী হবে। প্রধানমন্ত্রী সবশেষ গত এপ্রিলে বিদ্যুত বিভাগে অফিস করার সময়ও সকল গ্রাহককে পর্যায়ক্রমে প্রি-পেইড মিটারের আওতায় বিদ্যুত সরবরাহের নির্দেশ দেন।

পিডিবির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রি-পেইড মিটারিং কার্যক্রমে দাতারা উৎসাহ দেখাচ্ছে না। এজন্য গত ১০ মাসেও ইআরডি অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে পারেনি। ফলে সকল গ্রাহককে প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আনার সরকারী পরিকল্পনা আলোর মুখ দেখছে না। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে বিদ্যুত বিভাগকে অনুরোধ করা হয়েছে।

বিদ্যুত বিভাগ সূত্র বলছে, পিডিবির সচিব মোঃ জহুরুল হক গত ২১ সেপ্টেম্বর বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম ৬টি জোনে ৩৯ লাখ গ্রাহকের প্রি-পেইড মিটার ক্রয় ও স্থাপন কাজ বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়ন করার বিষয়ে পিডিবির আগ্রহের কথা জানিয়ে বিদ্যুত সচিবকে চিঠি দেন।

ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশের বিদ্যুত বিতরণ সংস্থায় আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সকল গ্রাহকের মিটার প্রি-পেইড মিটার করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও বিদ্যুত প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে পিডিবি যে প্রকল্প হাতে নিয়েছে তা বাস্তবায়নের জন্য ওই চিঠিতে রিজার্ভ থেকে সহজ শর্তে ৫০০ মিলিয়ন ডলার ঋণের ব্যবস্থা করে দিতে অনুরোধ করা হয়।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের ছয়টি অঞ্চলে প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে পিডিবি। ২০১৮ সালের মধ্যে এসব মিটার লাগানো হবে। এতে মোট সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে চার হাজার ৫৯২ কোটি টাকা।