১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মুক্তিযোদ্ধা সরকারী কর্মচারীর অবসর বয়স ৬৫ করার কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি

জনকণ্ঠ রিপোর্ট ॥ মুক্তিযোদ্ধা গণকর্মচারীর অবসরের বয়স ৬৫ করার আদালতের নির্দেশ দেয়ার পরও কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় উত্থাপনের জন্য এখনও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠায়নি। এ নিয়ে চাকরিরত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মুক্তিযোদ্ধা গণকর্মচারীর অবসর গ্রহণের বয়স ৬৫ করার জন্য হাইকোর্টের রিট নং-৩৫২৩/১৩ এর রায়ের কপি চলতি বছরের ১১ আগস্ট জনপ্রশাসন ও মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে প্রদান করা হয়। রায়ে ৬০ দিনের মধ্যে এটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়নি।

এর আগে মুক্তিযোদ্ধা গণকর্মচারীর অবসর গ্রহণের বয়স দুই দফা বাড়িয়ে ৬০ বছরে উন্নীত করা হয়। মহাজোট সরকার দায়িত্বগ্রহণের পর ২০১০ সালে মুক্তিযোদ্ধা গণকর্মচারীদের অবসর গ্রহণের সীমা ৫৭ থেকে দুই বছর বাড়িয়ে ৫৯ করা হয়। ২০১১ সালে প্রজাতন্ত্রের সাধারণ কর্মচারীর অবসর গ্রহণের সীমা দুই বছর বাড়ানো হয়। এতে মুক্তিযোদ্ধা গণকর্মচারীর সঙ্গে সাধারণ গণকর্মচারীর অবসর গ্রহণের সীমা একই হয়ে যায়। এর পর ২০১২ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের সীমা আরও এক বছর বাড়ানোর দাবি জনানো হয়। পরে আদালতে রিট দায়ের করা হয়।

এই রিটে মুক্তিযোদ্ধা গণকর্মচারীর অবসরের মেয়াদ ৬৫ বছর করার নির্দেশ দেয়া হয়। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ প্রাতিষ্ঠানিক ইউনিট কমান্ড সমন্বয় পরিষদের সভাপতি মোঃ হেদায়েতুলবারী বলেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধুর ডাকে স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ করি। আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে গিয়ে অনেকে শহীদ হয়েছেন। যুদ্ধে যাবার সময় কোন সুযোগ-সুবিধা প্রদানের শর্ত প্রদান করা হয়নি।

দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে নিহায়ত প্রয়োজনে আমরা এই দাবি জানিয়ে আসছি।’ তিনি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধারা বর্তমান সরকারের সঙ্গে থেকে উন্নয়নের অংশিদার হতে চায়। এদেশে বিচারপতি, অধ্যাপক ও বিজ্ঞানীরা ৬৫/৬৭ বছর পর্যন্ত চাকরি করছেন। পাশাপাশি জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তানও ৬৫ বছর পর্যন্ত চাকরি করবে এটাই স্বাভাবিক। সে লক্ষ্যে আদালত মুক্তিযোদ্ধাদের সরকারী চাকরিতে অবসর গ্রহণের বয়সসীমা বৃদ্ধির রায় প্রদান করেছে। অথচ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় মুক্তিযোদ্ধাদের বঞ্চিত করার টালবাহানা করছে।’