২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বগুড়া-জামতৈল রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প হোঁচট খাচ্ছে বার বার

  • বাস্তবায়িত হলে সাশ্রয় হবে জ্বালানি ও সময়

সমুদ্র হক ॥ রেলপথে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর দূরত্ব দেড় শ’ থেকে দু’শ’ কিলোমিটার কমে তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা সময় এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের বগুড়া-জামতৈল ৭২ কিলোমিটার রেল লাইন নির্মাণের পরিকল্পনাটির বাস্তবায়ন প্রায় দেড় যুগ ধরে বার বার হোঁচট খাচ্ছে। যমুনায় বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণের সময়ই বগুড়া-জামতৈল রেললাইন বসানোর পরিকল্পনা গৃহীত হয়। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) জরিপ করে তা সমর্থন করে। পরে অজ্ঞাত কারণে ‘পরিবেশের’ বিষয়টি সামনে এনে তা স্থগিত করে বলা হয়, প্রস্তাবটি পরবর্তী অধ্যায়ে বিবেচনার জন্য রাখা হলো। এরপর বিবেচনার অধ্যায় আর আসেনি। সূত্রগুলো জানায়, ১৯৯৮ সালে বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতু চালু হওয়ার কিছুদিন পর ডুয়েল গেজ (মিটার গেজ ও ব্রডগেজ) রেলপথ নির্মাণ করে উত্তরের সঙ্গে পূর্বাঞ্চলের রেল যোগাযোগ স্থাপিত হয়। ঢাকা থেকে ঈশ্বরদী সান্তাহার পার্বতীপুর রেল জংশন স্পর্শ করে বগুড়া-জয়পুরহাট রংপুর দিনাজপুর লালমনিরহাট কুড়িগ্রাম নীলফামারী রাজশাহী হয়ে উত্তরের জেলাগুলোর মধ্যে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। বর্তমানে কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেন বিভিন্ন নামে ঢাকা থেকে ছেড়ে রাজশাহী লালমনিরহাট নীলফামারী সৈয়দপুর চিলাহাটি চলাচল করছে। ট্রেনগুলোকে ঈশ্বরদী হয়ে চলাচল করায় বাড়তি প্রায় ২শ’ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। মিটারগেজের ট্রেনগুলোকে ঈশ্বরদী হয়ে ১শ’ ৮৯ কিলোমিটার পথ ঘুরিয়ে সিরাজগঞ্জের জামতৈল পৌঁছতে হয়। ব্রডগেজ লাইনে ঘুরতে হচ্ছে ১শ’ ৪৯ কিলোমিটার পথ। এতে রেল ভ্রমণের যাত্রীদের পোহাতে হয় অনাকাক্সিক্ষত দুর্ভোগ। সময়, দুর্ভোগ ও জালানি খরচ খুব সহজেই সাশ্রয় হবে বগুড়া-জামতৈল ৭২ কিলোমিটার রেলপথ নির্মিত হলে। সূত্র জানায়, সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবেই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে না। রেলপথটি নির্মিত না হওয়ায় প্রতিবছর রেলের জ্বালানি খাতেই কয়েক শ’ কোটি টাকা বাড়তি খরচ হচ্ছে। এই পরিমাণ টাকা সাশ্রয়ে কয়েক দফায় সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়। বিশ্ব ব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও জাপানী অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান জাইকা ২০০৭ সালে রেল সংস্কারের শর্তে অন্তত ছয়টি প্রকল্পে ৪ হাজার ২শ’ কোটি টাকা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। যার মধ্যে বগুড়া-জামতৈল রেল লাইন স্থাপনের বিষয়টি ছিল। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এডিবি ফিজিবল স্টাডি শুরু করে। বগুড়া রেলস্টেশন ও সিরাজগঞ্জের জামতৈল রেল স্টেশনে কয়েক দফায় সম্ভাব্যতা যাচাই হয়। রেল লাইন কোন এলাকার কোন পথ দিয়ে বসানো হবে, কি পরিমাণ ভূমি অধিগ্রহণ করতে হবে, রেলের ভূমি যেখানে আছে তা থেকে কতটা নেয়া যাবে ইত্যাদি বিষয় মাপজোঁক করে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

সূত্র জানায়, বগুড়া থেকে শেরপুর উপজেলা হয়ে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত পুরনো যে সড়কটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে আছে তা সংস্কার করে রেল লাইন বসানো যায় কি না তাও ভেবে দেখা হয়েছে। বগুড়া-জামতৈল রেল লাইন বসানোর পর বগুড়ার বিদ্যমান রেল স্টেশনটিকে মাটিডালি পর্যন্ত সরিয়ে জংশনে পরিণত করে ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর রেল যোগাযোগ নিরবচ্ছিন্ন করার বিষয়টি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্ব পায়। এভাবে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ করে ভারতীয় ঋণে বাস্তবায়নের তালিকাভুক্ত হয়। সহযোগিতা করে এডিবি। হঠাৎ করে বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো যুক্তি তোলা হয়, আঞ্চলিক যোগাযোগের উন্নয়নে এই রেলপথ কাজে আসবে না (!)। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এবার সরাসরি হোঁচট খায়। এর আগে রেলওয়েকে আরও আধুনিকায়ন করে রেলপথ সংস্কারে দাতা সংস্থাগুলো পরামর্শ দেয়। বিশ্বজুড়ে স্বাচ্ছন্দ্য ভ্রমণে এবং পণ্য পরিবহনে রেলকে অধিক গুরুত্ব দেয়া হয়।