১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ ঠেকাতে

বাংলাদেশ নামক অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে জঙ্গীবাদের উত্থান ও বিস্তার ঘটানোর প্রচেষ্টা বহুদিন ধরেই চলছে। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতাসীন হওয়ার পর দেশে জেএমবি নামক জঙ্গী সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। বাংলা ভাই নামক জঙ্গীরা প্রকাশ্যে মানুষ হত্যা শুরু করে সরকারী ছত্রছায়ায়। শাসকরা এদের অস্তিত্ব স্বীকারই করেনি। এরপরই হরকাতুল জিহাদসহ আরও কয়েকটি জঙ্গী সংগঠনকে মাঠে নামানো হয় বিশেষ ভবনের তত্ত্বাবধানে। এরা শেখ হাসিনাকে হত্যার টার্গেট করে। গোপালগঞ্জে বোমা বিস্ফোরণের আগেই তা উদ্ঘাটিত হয়। তারপর ১৭ ও ২১ আগস্ট দেখেছে বাংলাদেশ। বিশেষ ভবনের তত্ত্বাবধানে মন্ত্রী, সরকারী সংস্থা মিলে জঙ্গীদের সঙ্গে নিয়ে হামলা চালানো হয়েছিল, যা সর্বজনবিদিত। এসব মামলার রায় প্রকাশ হয়নি। যেদিন তারা ময়মনসিংহে সিনেমা হলে বোমা মেরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চারদের অভিযুক্ত করে জেল জুলুম নির্যাতন চালিয়েছিল। সেই বিএনপি-জামায়াত জোটের তত্ত্বাবধানে ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালের গোড়ায় জঙ্গী ও সন্ত্রাসী তৎপরতা চালানোর কথা দেশবাসী জানে। যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার এবং মামলা হতে রেহাই পাওয়ার জন্য এরা জঙ্গী ও সন্ত্রাসী সৃষ্টি করে মাঠে নামিয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠনগুলো বিএনপি-জামায়াত জোটের পক্ষ হয়ে মানুষ হত্যা করে, বোমাবাজিসহ নাশকতা চালিয়েছে। এদের গুপ্ত হত্যার পরিধি বিস্তৃত হওয়ার আগেই শেখ হাসিনার সরকার তাদের দমন করতে পেরেছে। এই জঙ্গীরা আশ্রয় পায় বিএনপি-জামায়াতের কাছে। এই জোটের বিরুদ্ধে তারা কিছু বলে না, বরং তাদের ক্রীড়নক হিসেবেই কাজ করে আসছে। বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া জঙ্গী ও সন্ত্রাসীদের নেত্রী হিসেবে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন বলে সরকারী নেতারা বারবার বলে আসছেন। জঙ্গীবাদ শিক্ষার বিরুদ্ধে। তাই বেগম জিয়ার জোট এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময় হরতাল-অবরোধ ডেকে বানচাল করতে চেয়েছে পরীক্ষা। জামায়াতের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত কোচিং সেন্টারগুলোর অর্থ যে জঙ্গী খাতে ব্যয় হয় তা নিশ্চিত করা হয়নি যদিও। বাংলাদেশে জঙ্গীবাদের বিস্তার ঘটানোর চেষ্টাটি জান্তাশাসক জিয়াউর রহমান ও এরশাদ আমলেই ঘটেছে। তখন ফিলিস্তিন, লিবিয়াতে যুবকদের পাঠানো হতো প্রশিক্ষণের জন্য। লিবিয়া ফেরতরা দেশে এসে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের নিয়ে গড়া ফ্রিডম পার্টির সশস্ত্র শক্তিতে পরিণত হয়েছিল। যাদের বেগম জিয়াও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন। সেসব ইতিহাসের অংশ। সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের বিস্তার এভাবেই ঘটানো হয়, যা বেগম জিয়া জামায়াতের সহায়তায় বিস্তৃত করেছেন। শেখ হাসিনা জনগণকে নিয়ে এদের দমন করেছেন। এদেশের পরিস্থিতি যখন স্বাভাবিক, তখন হঠাৎ অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা, এমনকি দক্ষিণ আফ্রিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে বাংলাদেশকে নিরাপত্তাজনিত সমস্যাক্রান্ত দেশ হিসেবে উপস্থাপিত করার কার্যকারণ অবশ্যই রয়েছে। মার্কিন বলয়ের দেশগুলো কী চাচ্ছে, তাদের নাগরিকদের নিরাপত্ত, নাকি জঙ্গীবাদের ঘাঁটি বানানোর নামে বাংলাদেশকে এক ধরনের গিনিপিগ দেশে পরিণত করতে? যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য নিজেরাই জঙ্গী উৎপাদক। ব্রিটেন থেকে রীতিমতো অর্থ পাঠানো হয় জঙ্গীদের কাছে। এসব বন্ধ করার জন্য শেখ হাসিনা দিন কয়েক আগে ব্রিটিশদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। এর কদিন পরই ব্রিটেনের ভিন্ন সুর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘে তার ভাষণে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ ঠেকাতে সবাইকে এক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্ব নেতৃবৃন্দ এই আহ্বানে সাড়া দিলে জঙ্গীবাদ দমন সম্ভব হতে পারে।