২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হত্যা মামলায় পলাতক, তবু মাস শেষে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর!

  • বরিশালে জামায়াত নেতার কীর্তি ॥ এলাকায় উত্তেজনা

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ হত্যা মামলার প্রধান আসামি হয়ে দীর্ঘ একমাসেরও অধিক সময় ধরে আত্মগোপনে থাকা মাদ্রাসার প্রভাষক ও প্রভাবশালী জামায়াত নেতা নিজ প্রতিষ্ঠানের হাজিরা খাতায় ও বিল ভাউচারে স্বাক্ষর দেয়ার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ নিয়ে যেকোন সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। ঘটনাটি উজিরপুর উপজেলার হস্তিশু- ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ওই মাদ্রাসার আরবী প্রভাষক ও স্থানীয় প্রভাবশালী জামায়াত নেতা আবু বক্কর সেলিম মিয়ার বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি নিয়ে ব্যাপক অর্থবাণিজ্যের অভিযোগে একাধিকবারের তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলেও রহস্যজনক কারণে তার বিরুদ্ধে আজও কোন ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হয়নি। সেক্ষেত্রে ম্যানেজিং কমিটির কতিপয় প্রভাবশালী সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া গত ১৮ আগস্ট ঘুমন্ত আট মাসের শিশুকন্যা মরিয়ম হত্যা মামলার প্রধান আসামি হয়ে প্রভাষক আবু বক্কর সেলিম মিয়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে নিজ এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করেন।

ওই গ্রামের ইমরান হোসেন অভিযোগ করেন, একই বাড়ির প্রভাবশালী জামায়াত নেতা প্রভাষক আবু বক্কর সেলিম মিয়া ও তার সহযোগীরা পূর্ব বিরোধের জেরধরে ১৮ আগস্ট রাতে তার আট মাসের ঘুমন্ত শিশুকন্যা মরিয়মকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে আবু বক্কর সেলিম মিয়াসহ ৫ জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পর থেকে পুলিশ রহস্যজনক কারণে আসামিদের পক্ষাবলম্বন করে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের নামে বিভিন্ন ধরনের হয়রানি করে আসছে। ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে থাকা প্রধান আসামি আবু বক্কর সেলিম মিয়া ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুরে আকস্মিকভাবে মাইক্রোবাসযোগে মাদ্রাসায় এসে হাজিরা খাতা ও বিল ভাউচারে স্বাক্ষর করেন। এখবর মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে শত শত গ্রামবাসী জড়ো হয়ে মাদ্রাসা ঘেরাও করতে আসার পূর্বেই প্রভাষক আবু বক্কর সেলিম মাইক্রোবাসযোগে দ্রুত মাদ্রাসা ত্যাগ করে ফের আত্মগোপন করেন। ইমরান হোসেন আরও অভিযোগ করেন, হত্যা মামলার প্রধান আসামি আবু বক্কর সেলিমের মাদ্রাসায় আসার বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানো সত্ত্বে¡ও রহস্যজনক কারণে আসামি গ্রেফতারে পুলিশ কোন পদক্ষেপই গ্রহণ করেনি।

বৃহস্পতিবার মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ মফিজুর রহমান বলেন, আরবী প্রভাষক আবু বক্কর সেলিম মিয়া গত ২২ আগস্ট এক মাসের জন্য মেডিক্যাল ছুটির আবেদন করেছেন, যা আজও ম্যানেজিং কমিটির সভায় অনুমোদন দেয়া হয়নি। সেই থেকে মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থেকে পরবর্তীতে গত ২১ সেপ্টেম্বর দুপুরে তিনি (আবু বক্কর সেলিম) মাদ্রাসায় উপস্থিত হয়ে পুনরায় হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। তিনি আরও জানান, গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুরে মাইক্রোবাসযোগে আবু বক্কর সেলিম মাদ্রাসায় উপস্থিত হয়ে পুনরায় হাজিরা ও বিল ভাউচারের খাতায় স্বাক্ষর করেছেন। তবে ওইদিন তিনি অফিসের কাজে বাইরে থাকায় মাদ্রাসার দায়িত্বে ছিলেন উপাধ্যক্ষ মোঃ মনওয়ার হোসাইন। ম্যানেজিং কমিটির অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থাকা এবং হাজিরা ও বিল ভাউচারে স্বাক্ষর দেয়ার ব্যাপারে অধ্যক্ষ বলেন, মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির অনুমতি নিয়েই সব কিছু করা হচ্ছে। তবে খুব শীঘ্রই ম্যানেজিং কমিটির সভা হচ্ছে না বলেও অধ্যক্ষ উল্লেখ করেন।

এ ব্যাপারে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ঢাকায় বসবাসরত সৈয়দ মাইনুল হকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত প্রভাষক আবু বক্কর সেলিম মিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আরবী প্রভাষক আবু বক্কর সেলিম মিয়ার সার্টিফিকেট জালিয়াতি, শিক্ষক নিয়োগের নামে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়াসহ অন্যান্য সকল অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির কাছের লোক হওয়ায় বরাবরেই তিনি (সেলিম) সকল অনিয়ম ও দুর্নীতি করেও পার পেয়ে যাচ্ছেন। এসব ঘটনায় মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সবুরসহ স্থানীয় বাসিন্দারা মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উর্ধতন কর্মকর্তাদের বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ভুক্তভোগীরা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দুর্নীতিবাজ প্রভাষক আবু বক্কর সেলিম মিয়াকে চাকরিচ্যুত, বর্তমান মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠনের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্মকর্তা ও হত্যার ঘটনার মূল রহস্য বের করার জন্য প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।