২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিক্ষকদের অনুপস্থিতিতে অচল চরখড়িবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়

স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী ॥ তিস্তার বন্যা ও ভাঙ্গনের কবলে পড়া ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চরখড়িবাড়ি মধ্য সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টির শিক্ষকদের অনুপস্থিতিতে অচল হয়ে পড়েছে। বিদ্যালয়টি চালু দেখানো হলেও শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের অনুপস্থিতির কারণে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষকসহ দুই শিক্ষকের পোস্টিং রয়েছে। এছাড়া ন্যাশনাল সার্ভিসের মাধ্যমে তিন শিক্ষকের ওপর বিদ্যালয়টি পরিচালনা হলেও গত আগস্ট মাসে ন্যাশনাল সার্ভিসের কার্যক্রম শেষ হয়ে যাওয়ায় বিদ্যালয়টিতে লেখাপড়া প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। আর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ দু’জন শিক্ষক স্কুলে না গিয়ে বসে বসে তুলছেন সরকারের বেতন-ভাতা। প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগও দুর্গম চরাঞ্চলের ধুয়া তুলে উক্ত বিদ্যালয়ে কোনদিন পরিদর্শন করেননি।

জানা যায়, ১৯৬৪ সালে তিস্তাপাড়ের চরে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি স্থাপিত হয়েছিল। এরপর স্কুলটির ভবন নির্মাণ করা হয় ২০১২ সালে। বর্তমানে বিদ্যালয়টির মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৪৩ জন। আর এই শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দেয়ার জন্য দু’জন শিক্ষক কাগজে-কলমে থাকলেও তাও আবার অনুপস্থিত। বন্যার প্রবল ভাঙ্গনের কারণে বিদ্যালয়টি তিস্তা নদীর পানিতে তলিয়ে থাকতে দেখা যায়। ভাঙ্গনের কারণে বিদ্যালয় ভবনটি বর্তমানে দাঁড়িয়ে রয়েছে শূন্যের ওপর। যে কোন মুহূর্তে ভবনটি দেবে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিতে পাড়ে।

গত দুইদিন আগে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটিতে কোন শিক্ষক ছাড়াই প্রথম হতে তৃতীয় শ্রেণীর ৩৮০ জন কমলমতি শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলেছে। আর শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে ওই স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর কিছু ছাত্র! তারা জানায়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর ক্লাস বন্ধ রেখেছে প্রধান শিক্ষক। বিদ্যালয়টিতে গিয়ে কোন শিক্ষককে পাওয়া যায়নি। প্রথম দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী মনিরা আক্তার, সালমা আক্তার, আবদুস সোবহানসহ অনেকে জানায় তাদের বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রশান্ত কুমার রায়কে তারা চিনেন না। প্রশান্ত নামে স্যার থাকলেও কোনদিন স্যারকে তারা দেখেননি। তারা অভিযোগ করেন হেড স্যার (প্রধান শিক্ষক) মাসে ১/২ দিন আসেন দুপুরে।

নির্বাচিত সংবাদ