২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নাইক্ষ্যংছড়িতে পাহাড় কেটে বহুতল ভবন নির্মাণ

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার ॥ পার্বত্য নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদের বহিষ্কৃত চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা তোফায়েল আহমদ বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অমান্য করে পাহাড় কেটে বহুতল ভবন নির্মাণ করে চলেছে। সামান্য জায়গা কিনে হাসপাতাল এলাকায় টিএ্যান্ডটি বিভাগের কোটি টাকা মূল্যের সরকারী সম্পদ দখল করে এ দালান নির্মাণ করে চলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দুটি মামলায় কক্সবাজার আদালতে চার্জশীট গৃহীত হওয়ায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। অবৈধ অস্ত্র-গুলি নিজ হেফাজতে রাখা এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতসহ অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর-লুটতরাজ ও ক্ষয়ক্ষতির অপরাধে ফৌজদারি দ-বিধিমতে আদালতের হাকিম শুনানি শেষে তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেছেন। আদালতে অভিযোগ গঠনের ওই তথ্য গোপন রেখে উপজেলা চেয়ারম্যানের চেয়ার আঁকড়ে ধরে ক্ষমতার দাপটে তিনি কিছুদিন ধরে পাহাড় কেটে ঐ দালান নির্মাণ শুরু করেন বলে জানা গেছে। অথচ নির্বাচনী হলফনামায় তিনি তার নিকট মোট জমা সাত লাখ টাকা বলে উল্লেখ করলেও চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে দালান নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় বিভিন্ন কানাঘুষা চলছে।

দালান নির্মাণকল্পে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতরের কাছ থেকে কোন ধরনের অনুমতি নেননি বলে জানা গেছে। প্রকাশ্যে পাহাড় কেটে দালান নির্মাণে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম শাহেদুল ইসলাম জানান, পাহাড় কাটার বিষয়ে কাউকে অনুমতি দেয়া হয়নি। জানা গেছে, প্রায় একমাস ধরে এক্সকাভেটর দিয়ে কয়েক শ’ ফুট উঁচু পাহাড় কেটে পরিবেশ প্রতিবেশের ক্ষতি করলেও রহস্যজনক কারণে কেউ তাকে বাধা দেয়নি। নির্মাণাধীন ওই বাড়িতে যাওয়ার জন্য রাস্তা নির্মাণ ও কালভার্ট স্থাপনের জন্য টেলিফোন এক্সচেঞ্জের জায়গাও দখলে নিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ইতোপূর্বে অভিযোগ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নাইক্ষ্যংছড়ি টেলিফোন এক্সচেঞ্জ ইনচার্জ দিদারুল আলম। উপজেলা পরিষদের অপসারিত চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমদ পাহাড় কাটার বিষয় সত্য নয় দাবি করে জানান, ওই জায়গায় তার একটি টিনের বাড়ি ছিল। সেটি ভেঙ্গে নতুন করে বিল্ডিং নির্মাণ করা হচ্ছে।