২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সিরিয়া যুদ্ধের নতুন মোড়

  • সিআইএ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিদ্রোহীদের শিবিরে রুশ বিমান হামলা ॥ শত শত ইরানী সেনা পৌঁছেছে

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সরকারের সাহায্যে একটি বড় ধরনের স্থল অভিযানে যোগ দিতে শত শত ইরানী সৈন্য সিরিয়ায় পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার বিভিন্ন লেবাননী সূত্র একথা জানায়। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ যে আরও আঞ্চলিক ও সর্বব্যাপী হওয়ার দিকে মোড় নিচ্ছে এটি তারই ইঙ্গিত। রাশিয়ার যুদ্ধবিমানগুলো দ্বিতীয় দিনের হামলায় সিআইএ’র প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিদ্রোহীদের শিবিরে বোমাবর্ষণ করেছে বলে গোষ্ঠীর কমান্ডার জানিয়েছেন। এতে স্নায়ুযুদ্ধের পর থেকে এই প্রথমবার মস্কো ও ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যের কোন সংঘাতে বিরোধী অবস্থান গ্রহণ করল। খবর ইয়াহু নিউজ।

এদিকে, হোয়াইট হাউস বলেছে, সিরিয়ায় জঙ্গীদের বিরুদ্ধে রুশ বিমান হামলা ছিল ‘বাছবিচারহীন’ এবং তা রাশিয়াকে আরও গভীরভাবে সঙ্কটে জড়িয়ে ফেলবে। মুখপাত্র হোম আর্নেস্ট বলেন, রাশিয়া সিরীয় বিরোধীদের উপর এলোপাতাড়ি বিমান হামলা চালাচ্ছে। এর আগে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেন, রাশিয়া মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের মতো একই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। মস্কো সিরীয় সামরিক বাহিনীর শক্তি বৃদ্ধির চেষ্টা করছে এই ধারণা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, রাশিয়া আল কায়েদাভুক্ত সংগঠন আল-নুসরা ফ্রন্টসহ অন্যান্য সন্ত্রাসীবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও হামলা চালাবে। দুই দেশের সামরিক বাহিনী যখন পরস্পর বিরোধী লক্ষ্য নিয়ে সমান্তরাল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে, সে সময় সিনিয়র মার্কিন ও রুশ কর্মকর্তারা ভিডিও কনফারেন্স করে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে প্রধানত বৈমানিকদের বিপন্মুক্ত রাখার বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে পেন্টাগন জানিয়েছে। পেন্টাগন মুখপাত্র পিটার কুক বলেন, আমরা স্বচ্ছতার সঙ্গে বলেছি, আমাদের ন্যূনতম অগ্রাধিকার হলো সিরিয়ার আকাশসীমার বৈমানিকদের নিরাপদ অভিযান পরিচালনার সুযোগ দেয়া। লেবাননী দু’টি সূত্র বার্তা সংস্থাকে জানিয়েছে, বড় ধরনের স্থল অভিযান চালানোর জন্য গত ১০ দিনে অস্ত্রশস্ত নিয়ে শত শত ইরানী সৈন্য সিরিয়ায় পৌঁছেছে। আসাদের লেবাননী হিজবুল্লাহ মিত্রবাহিনী এবং ইরাকের শিয়া মিলিশিয়া যোদ্ধারা ইরানীদের সহায়তা করবে। রাশিয়া তাদের বিমান ছত্রছায়া জোগাবে। একটি সূত্র জানায়,‘ইরানী স্থলবাহিনীর অগ্রগামী অংশ সিরিয়ায় পৌঁছাতে শুরু করেছে। সুনির্দিষ্টভাবে লড়াইয়ে অংশ নিতে এসব সৈন্য ও অফিসাররা এসেছে। তারা উপদেষ্টা নয়। তাদের শত শত সদস্যের সঙ্গে সাজ-সরঞ্জাম ও অস্ত্রশস্ত্র আছে। আরও লোক ও অস্ত্র আসবে।’ এ পর্যন্ত আসাদের জন্য সামরিক সহায়তা এসেছে সামরিক উপদেষ্টাদের আকারে। ইরান সিরীয় সরকারী বাহিনীর পাশাপাশি লড়াই করার জন্য ইরাকী ও কিছুসংখ্যক আফগানসহ শিয়াপন্থী মিলিশিয়া যোদ্ধাদেরও সমাবেশ ঘটিয়েছে। মস্কো বলেছে, তারা আইএস অবস্থানগুলোর উপর আঘাত হেনেছে। তবে, হামা ও হোম শহরের কাছকাছি যেসব এলাকায় তারা হামলা চালিয়েছে সেগুলোর বেশিরভাগই প্রতিদ্বন্দ্বী বিদ্রোহী জোটের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেÑ যাদের প্রতি আইএসের বিপরীতে আরব রাষ্ট্রসমূহ এবং তুরস্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের সমর্থন রয়েছে। ফ্রি সিরিয়ান আর্মির অংশ লিওয়া শুকুর আল-জাবাল বিদ্রোহী গোষ্ঠীর প্রধান হাসান হজ আলী এই বার্তা সংস্থাকে বলেছেন, রুশদের লক্ষ্যবস্তুর একটি ছিল ইদলিব প্রদেশে তাদের গোষ্ঠীর ঘাঁটি। দু’টি পৃথক অভিযানে সেখানে প্রায় ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। তার যোদ্ধাবাহিনীকে সিআইএ কাতার ও সৌদি আরবে এমন একটি কর্মসূচীর অংশ হিসেবে প্রশিক্ষণ দিয়েছে ওয়াশিংটনের কথা অনুযায়ী যার লক্ষ্য আইএস ও আসাদ উভয়ের বিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা করা। হজ আলী বলেন, রাশিয়া প্রত্যেককে চ্যালেঞ্জ করে বলছে, বাশারের কোন বিকল্প নেই। তিনি বলেন, তার গ্রুপের সদস্যরা, যারা একসময় সিরীয় বিমানবাহিনীর পাইলট হিসেবে কাজ করেছেÑ তারা রুশ জঙ্গী বিমানগুলোকে শনাক্ত করেছে।

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, মস্কো আইএসকে লক্ষ্যবস্তু করছে। রুশ বিমানবগুলো ফ্রি সিরিয়ান আর্মির স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছেÑ তিনি নির্দিষ্টভাবে একথা অস্বীকার না করে বলেছেন, রাশিয়া তাদের সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীরূপে বিবেচনা করে না বরং তাদের সিরিয়ায় একটি রাজনৈতিক সমাধানের অংশ হিসেবে গণ্য করে।

ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জোস আর্নেস্ট বলেন, ‘সিরিয়ার বিরোধী শক্তিগুলোর উপর নির্বিচার সামরিক তৎপরতা চালানো রাশিয়ার জন্য বিপজ্জনক হবে।’ তিনি বলেন, এটি সিরিয়ার অভ্যন্তরে সাম্প্রদায়িক সংঘাতকেই দীর্ঘায়িত করবে। এতে রাশিয়ার আরও গভীরভাবে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। রাশিয়া বলেছে, দ্বিতীয় দিনের বিমান হামলায় তারা আইএসের গোলাবারুদের গুদাম ও কম্যান্ড কেন্দ্রগুলোর উপর আঘাত হেনেছে। একটি সিরীয় সামরিক সূত্র বৃহস্পতিবার বলেছে, লড়াইয়ের গতিপথে রুশ সামরিক সহায়তা ‘বড় ধরনের পরিবর্তন’ নিয়ে আসবে, বিশেষ করে উন্নততর গোয়েন্দা সামর্থ্যরে দ্বারা যা সুনির্দিষ্টভাবে বিদ্রোহীদের লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সাহায্য করবে।

নির্বাচিত সংবাদ