১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সূচকের মিশ্রাবস্থা থাকলেও লেনদেন বেড়েছে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ঈদের ছুটির পরবর্তী দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়লেও সূচকের মিশ্রাবস্থা দেখা গেছে। সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হওয়া চার কার্যদিবসের দুই কার্যদিবস কমছে সূচক। আর বাকী দুই কার্যদিবস সূচক বাড়লেও এর মাত্রা অনেক কম ছিল। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানের সার্বিক সূচক বা ডিএসইএক্স সামান্য বাড়লেও কমেছে বাকি দুই সূচক। পাশাপাশি কমেছে বেশীরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। তবে সপ্তাহিক ব্যবধানে বেড়েছে লেনদেন।

সাপ্তাহিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সপ্তাহ শেষে ডিএসইর সার্বিক সূচকটি বেড়েছে ০.০৮ শতাংশ বা ৩.৩৬ পয়েন্ট, ডিএসই শরিয়াহ সূচক কমেছে ০.৭৫ শতাংশ বা ৮.৯০ পয়েন্ট এবং ডিএসই৩০ সূচক কমেছে ০.৪৯ শতাংশ বা ৯.০৮ শতাংশ। সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হওয়া ৩২৭টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৩৯টির, কমেছে ১৬৫টির, দর অপরিবর্তিত রয়েছে ২১টির এবং লেনদেন হয়নি ২ টির। আর টাকার অংকে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৭৪৯ কোটি ৮১ লাখ ৩ হাজার ৪২৪ টাকা।

এর আগের সপ্তাহ শেষে ডিএসইর সার্বিক সূচক বা ডিএসইএক্স ০.৭০ শতাংশ বা ৩৩.৮৪ পয়েন্ট, ডিএসই শরিয়াহ সূচক বেড়েছিল ০.৩৭ শতাংশ বা ৪.৩৭ পয়েন্ট এবং ডিএসই৩০ সূচক বেড়েছিল ০.৬৬ শতাংশ বা ১২.২৩ পয়েন্ট। আর টাকার অংকে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৩০২ কোটি ৩৬ লাখ ২৮ হাজার ৪৪৮ টাকা। সে হিসেবে আলোচিত সপ্তাহে ডিএসইতে টাকার অংকে লেনদেন বেড়েছে ৩৪.৩৬ শতাংশ বা ৪৪৭ কোটি ৪৪ লাখ ৭৪ হাজার ৯৭৬ টাকা।

আলোচিত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪৫ কোটি ১২ লাখ ৬ হাজার ৫৪৬টি। আগের সপ্তাহে যার পরিমাণ ছিল ২৯ কোটি ৪১ লাখ ৯৬ হাজার ৫৮২টি। সে হিসেবে ডিএসইতে গত সপ্তাহে শেয়ার লেনদেন কমেছে ৫৩.৩৭ শতাংশ।

এদিকে গত সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধনের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। সপ্তাহ শেষে ডিএসইর বাজার মূলধনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৯১৬ কোটি ৯০ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৭ টাকা। আগের সপ্তাহশেষে যা ছিল ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩১ কোটি ৩১ লাখ ৩৮ হাজার ২৬১ টাকা। সে হিসবে আলোচিত সপ্তাহ বাজার মূলধন কমেছে ০.৫৪ শতাংশ।

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে ‘এ’ ক্যাটাগরির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৯২.৭৭ শতাংশ, ‘বি’ ক্যাটাগরির ২.৭৩ শতাংশ, ‘এন’ ক্যাটাগরির ৩.৮৯ শতাংশ এবং ‘জেড’ ক্যাটাগরির ০.৬১ শতাংশ।

এদিকে সাপ্তাহিক ব্যবধানে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) কমেছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমানে ডিএসইর পিই রেশিও অবস্থান করছে ১৬.৩৭ পয়েন্টে। যা আগের সপ্তাহের শুরুতে ছিল ১৬.৫১ পয়েন্ট। অর্থাৎ সাপ্তাহিক ব্যবধানে রেশিও কমেছে ০.১৪ পয়েন্ট বা ০.৮৫ শতাংশ।

খাতভিত্তিক পিই’র হিসাবে ব্যাংক খাতের পিই অবস্থান করছে ৭.৫০ পয়েন্টে, আর্থিক খাতের ১৭.৫৫, প্রকৌশল খাতের ২৫.৬৭, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের ৩৪.৮৮, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ১৩.০৯, পাট খাতের ১৬৬.২৭, বস্ত্র খাতের ১১.২৭, ওষুধ ও রসায়ন খাতের ২২.৭৭, সেবা ও আবাসন খাতের ৩৯.২২, সিমেন্ট খাতের ৩২.০২, তথ্য প্রযুক্তি খাতের ১৯.৩২, চামড়া খাতের ৬৮.৪২, সিরামিক খাতের ২৯.৩২, বীমা খাতের ১৫.৮২, বিবিধ খাতের ৩০.৩৫, পেপার ও প্রকাশনা খাতের ১৭.৪২, টেলিযোগাযোগ খাতের ১৯.১০ এবং ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের পিই রেশিও অবস্থান করছে ১৫.৬১ পয়েন্টে।

সাপ্তাহিক লেনদেনের সেরা কোম্পানিগুলো হলো : ফার কেমিক্যাল, সাইফ পাওয়ার টেক, গ্রামীন ফোন, স্কয়ার ফার্মা, ইসলামী ব্যাংক, বিএসআরএম স্টিল লিমিটেড, আইডিএলসি ফাইনান্স, বে´িমকো ফার্মা, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট ও সামিট এলায়েন্স পোর্ট লিমিটেড।

দরবৃদ্ধির সেরা কোম্পানিগুলো হলো : এআইবিএল ১ম মিউচুয়াল ফান্ড, প্রিমিয়ার সিমেন্ট, এনসিসিবিএল ১ম মিউচুয়াল ফান্ড, সাইফ পাওয়ার টেক, এমবিএল ১ম মিউচুয়াল ফান্ড, আরামিট লিমিটেড, পেনিনসুলা চট্টগ্রাম, এ´িম ব্যাংক ১ম মিউচুয়াল ফান্ড, ডিবিএইচ ১ম মিউচুয়াল ফান্ড ও বিডি ফাইনান্স।

দর হারানোর সেরা কোম্পানিগুলো হলো : ৭ম আইসিবি মিউচুয়াল ফান্ড, জুটস স্পিনার্স, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড, এ্যাপেক্স স্পিনিং, ৩য় আইসিবি, এ্যাপেক্স ট্যানারি, এ্যাপেক্স ফুডস, নদার্ন জুটস, ইমাম বাটন ও আরএকে সিরামিক।