১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সরাসরি ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে চায় কমিশন

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ শেয়ার কারসাজির ঘটনা দ্রুত বিচার করতে পুঁজিবাজার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলা দায়ের করা আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড একচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এজন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনালের ক্ষমতা বাড়ানোরও উদ্যোগ নিয়েছে বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে এ্যাটর্নি জেনারেলের মতামত চেয়েছে বিএসইসি।

এ্যাটর্নি জেনারেলের মতামত পেলেই ট্রাইব্যুনালের বিচারক হুমায়ুন কবীরের (জেলা ও দায়রা জজ) কাছ থেকে বর্তমান আইনে বিচার কার্যক্রমে কী কী প্রতিবন্ধকতা পরিলক্ষিত হচ্ছে সে বিষয়ে মতামত নেওয়া হবে। সবার মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়গুলো অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আইন মন্ত্রণালকে অবহিত করা হবে। আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলেই আইন প্রণয়নের কাজ শুরু হবে।

বর্তমানে শেয়ারবাজারে যে কোনো কারসাজির ঘটনা বিচারের লক্ষ্যে নিম্ন আদালতে মামলা দায়ের করে বিএসইসি। নতুন এ আইন প্রণয়ন হলে বিএসইসি নিম্ন আদালতে না গিয়ে সরাসরি আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে। এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মো. সাইফুর রহমান জানান, শেয়ারবাজার সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। তবে বর্তমান আইনে এ ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলা দায়ের করা যাবে কী-না সে বিষয়টিতে কিছু বলা হয়নি। তাই ট্রাইব্যুনালকে আরও শক্তিশালী করতে কমিশন কাজ করে যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির পর গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী তখন নিম্ন আদালতে ১৫টি মামলা দায়ের করে বিএসইসি। এছাড়া ১৯৯২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত কারসাজির ঘটনায় এখন পর্যন্ত বিভিন্ন আদালতে ৫৩৫টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ২৫৩টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া নিম্ন আদালতে দায়ের করা অন্যান্য মামলার অধিকাংশই হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের কারণে বছরের পর বছর ঝুলে রয়েছে। বিচারিক কার্যক্রম ঝুলে থাকায় ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা।

এ অবস্থায় এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর চলতি বছরের ২১ জুন ১৭টি মামলা নিয়ে কার্যক্রম শুরুহয় এ আদালতের। একজন দায়রা জজকে বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে ছয় সদস্যের জনবল নিয়ে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ের ১৭ মামলাসহ এ পর্যন্ত নিম্ন আদালত থেকে এ আদালতে ২২টি মামলা স্থানান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে স্থগিত রয়েছে ১০টি মামলা এবং বিচারিক কার্যক্রম শেষে রায় হয়েছে তিনটির; যাতে শেয়ার কারসাজির দায়ে সাজা পেয়েছেন বিডি ওয়েল্ডিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ডেইলি ইন্ডাস্ট্রিজ পত্রিকার সম্পাদক ও চিক টেক্সটাইলের দুই পরিচালক। আর গুজব ছড়ানোর দায়ে সাজা হয়েছে মাহবুব সারোয়ার নামে একজনের। এ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে প্যারাগন লেদার, প্রিমিয়াম সিকিউরিটিজ, পিপলস লিজিং কোম্পানির শেয়ার কারসাজি ও শেয়ার প্লেসমেন্ট মামলাসহ মোট নয়টি মামলা।

এছাড়া সুপ্রিম কোর্টে থাকা বিচারাধীন মামলাগুলোও পর্যায়ক্রমে এ আদালতে স্থানান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ প্রসিকিউটর মোস্তাফিজুর রহমান দুলাল। তিনি বলেন, হাইকোর্ট থেকে পুরনো মামলাগুলো এ আদালতে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে। আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে এসব মামলা বিশেষ ট্রাইব্যুনালে এনে দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি শাহজিবাজার পাওয়ারের শেয়ার কারসাজির ঘটনায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে পুঁজিবাজার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সরসরি মামলা দায়ের করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। তবে আইনী বাধ্যবাধকতার কারণে সরাসরি ট্রাইব্যুনালে মামলা করার সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসে কমিশন। সে সময় সরাসরি মামলা করা প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারে কমিশন।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও পুঁজিবাজার বিশেজ্ঞ আবু আহমেদ বলেন, নিম্ন আদালতে না গিয়ে সরাসরি বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মামলার দায়ের করার আইন প্রণয়ন হলে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত হবে। ফলে মামলাগুলো দীর্ঘদিন ঝুলে থাকবে না।