২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সিদ্ধান্তটি অযৌক্তিক

নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের বাংলাদেশে খেলতে না আসা অনভিপ্রেত। এ যেন বিনা মেঘে বজ্রপাত। বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রিয় মানুষের কাছে এ অনাকাক্সিক্ষত এবং দুঃখজনক সংবাদ। তার চেয়েও বড় কথা আমাদের দেশের জন্য বিষয়টি বিব্রতকর। এর ফলে ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হওয়ার শঙ্কাটিও উপেক্ষা করার নয়। কারণ বিষয়টি উন্নত বিশ্বে বাংলাদেশ সম্পর্কে ভুল বার্তা দিতে পারে। অথচ অস্ট্রেলীয় দলের সিদ্ধান্তটি একেবারেই অযৌক্তিক। বিশেষ করে বাংলাদেশ যখন তাদের ক্রিকেটারদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছিল। ঘটনাটি আকস্মিকই বলতে হবে। ঈদের ছুটির মধ্যে হঠাৎ করেই অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের জন্য বাংলাদেশ ভ্রমণে সতর্কতা জারি করে সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সরকারের পরামর্শে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য বোর্ডের নিরাপত্তা প্রধানকে জরুরী ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানো হয়। মূলত ওই সফরের পর বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে তার দেয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই সফর স্থগিতের সিদ্ধান্তটি নিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বোর্ড।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) পাঠানো ই-মেইলে সফর স্থগিতের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় সিএ। অথচ সেদিনই ঢাকা সফররত ব্রিটিশ এমপিরা বলেছেন, ইতালির নাগরিক সিজার তাভেলাকে হত্যার প্রেক্ষিতে এখানে ভ্রমণ সতর্কতা জারির মতো কোন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। বাংলাদেশ সম্পূর্ণ নিরাপদ বলেও মন্তব্য করেন তারা। ব্রিটিশ এমপিদের পর্যবেক্ষণ নিশ্চয়ই অস্ট্রেলিয়ার নীতি নির্ধারকদের বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট স্থগিতের সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। তাছাড়া এখানে আরও একটি বিষয় অনুধাবনযোগ্য। অস্ট্রেলিয়া সম্প্রতি যে ‘টেরর এ্যালার্ট ইনডেক্স’ প্রকাশ করেছে সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান ২৩ নম্বরে। ভারত আছে ৬ নম্বরে। বাংলাদেশের পরে ইংল্যান্ড এবং যুক্তরাষ্ট্র আছে ২৫-এ। এটি কিন্তু ওসব দেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রে বিবেচিত হতে দেখা যাচ্ছে না। স্পষ্টতই এটি বাংলাদেশের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ। অথচ অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ। সেদেশের ক্রিকেট দলের ভক্তের সংখ্যাও এদেশে কম নয়। স্মরণযোগ্য, স্বাধীনতার পর দেশীয় ক্রিকেটের ঊষালগ্নে বার বার এদেশে খেলতে এসেছে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)।

সাম্প্রতিক বাংলাদেশের ক্রিকেট তেজী বাঘের মতো গর্জে উঠছে। এমন সুবর্ণ সময়ে অস্ট্রেলিয়ার মতো ক্রিকেট পরাশক্তির সঙ্গে টেস্ট ম্যাচ দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও উপভোগ্য হয়ে উঠতে পারত। তাই অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের বাংলাদেশে না আসাটা আমাদের ক্রিকেটের জন্য আশাভঙ্গ হওয়ার মতোই ঘটনা। তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো নিরাপত্তা সঙ্কটের অপবাদটি। আমরা আশা করব, দেশটির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেই বাংলাদেশ সরকার এ নিয়ে যুক্তিপূর্ণ নিজ বক্তব্য তুলে ধরবে, যাতে সম্ভাব্য ভুল বোঝাবুঝির নিরসন হয়। সেই সঙ্গে সজাগ থাকতে হবে, যাতে নির্মল আনন্দ প্রাপ্তির জনপ্রিয় খেলাটির সূত্র ধরে কোন ধরনের রাজনৈতিক ক্রীড়ার অপচেষ্টা না হয়। মাঠের বাইরে থেকে অস্ট্রেলীয় নীতি নির্ধারকরা যে বাউন্সার ছুড়ে দিয়েছেন তার ভিন্নতর জবাব ভবিষ্যতে ব্যাটেবলে দেয়ার সুযোগ হারাবে না টাইগাররাÑ এমনটাই প্রত্যাশিত।