১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যুক্তরাষ্ট্রে কলেজে সন্ত্রাসী হামলা

বিশ্বে সন্ত্রাসী হামলা বিপজ্জনকহারে বাড়ছে। বিশ্ব ক্রমেই যেন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হচ্ছে। ধর্মীয় উপাসনালয় থেকে শুরু করে সভা-সমাবেশ, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, আবাসিক এলাকা, এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এই সব সন্ত্রাসী হামলা থেকে রেহাই পাচ্ছে না। বিগত সময়ে নাইজিরিয়ায় স্কুলছাত্রীদের অপহরণ, পাকিস্তানের পেশোয়ারে একটি স্কুলে জঙ্গী হামলার পর বৃহস্পতিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অরিগন অঙ্গরাজ্যের একটি কমিউনিটি কলেজে রক্ত ঝরাল সন্ত্রাসীরা। এদিন বন্দুকধারীর গুলিতে কমপক্ষে ১৫ শিক্ষার্থী নিহত এবং ২০ জন আহত হয়। কলেজটি পোর্টল্যান্ড থেকে ২৮১ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। এখানে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী পড়ালেখা করে। এ হামলার ঘটনায় এক বন্দুকধারীকে আটক করা হয়েছে। এসব ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটছে যখন আমেরিকাসহ বিশ্বের প্রায় সকল দেশ নিজেদের নিরাপত্তা জোরদার করছে। এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘৃণিত হামলার বিরুদ্ধে আরও সোচ্চার হওয়া দরকার। এসব সন্ত্রাসী হামলা প্রতিরোধে বিশ্বের শান্তিপ্রিয় মানুষকে ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করার বিকল্প নেই।

এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে হামলার পর থেকে ক্রমে ক্রমে সন্ত্রাসী ঘটনা বাড়ছে। গত দেড় দশকে এসব হামলায় নিহতের সংখ্যা আগের চেয়ে বহু গুণ বেড়েছে। ২০১৩ সালে সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ হারিয়েছে ১৮ হাজার মানুষ, যা ২০১২ সালের চেয়ে ৬০ শতাংশ বেশি। ২০১৪ সালে ১৩ হাজার ৫০০টি সন্ত্রাসী হামলায় প্রায় ৩৩ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। নিহতের তালিকায় ২৪ মার্কিন নাগরিকও ছিল। ২০১৪ সালে সিরিয়া, ইরাক, নাইজিরিয়া, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে সবচেয়ে বেশি সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। আইএস, বোকো হারাম, তালেবান আর আল কায়েদা এজন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী। ২০১৪ সালে সবচেয়ে ভরাবহ ২০টি সন্ত্রাসী হামলার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পাকিস্তানের পেশোয়ারে একটি স্কুলে তালেবানদের হামলা। এ হামলায় শিশুসহ কমপক্ষে ১৫০ জন নিহত হয়। সন্ত্রাসবাদ দমনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু এসব পদক্ষেপের প্রভাব খুব একটা দেখা যাচ্ছে না; তার বড় প্রমাণ নিজ দেশকে যখন তারা এসব সন্ত্রাসী হামলা থেকে রক্ষা করতে পারছে না। অরিগনের রোজবার্গ শহরের আম্পকুয়া কমিউনিটি কলেজে এ ঘটনা তার আরেকটি দৃষ্টান্ত। বিশ্বে এখন আলোচিত বিষয় সন্ত্রাস। এই সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণের অন্যতম ক্ষমতা যাদের হাতে তারা বিশ্বের সুপার পাওয়ার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি নিয়ে শুধু কথাই বলে না, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে কাজ করছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নিয়ে তাদের মাথাব্যথাও রয়েছে। তবে বিস্মিত হতে হয় এই ভেবে যে, যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দেশের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বললেও নিজেদের খারাপ পরিস্থিতি নিয়ে তাদের কোন কথা বলতে দেখা যায় না।

একথা সত্য যে, সন্ত্রাসবাদ এমন এক পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে যা কেবল নিন্দা প্রকাশ বা দুঃখ প্রকাশের মাধ্যমে নির্মূল করা সম্ভব নয়। এর জন্য দরকার বাস্তবমুখী পদক্ষেপ। আগে দরকার এর কারণগুলোর অনুধাবন। সন্ত্রাস কোন ভৌগোলিক সীমারেখা মানে না, তাই কোন দেশের একক প্রচেষ্টায় তা নির্মূলও করা সম্ভব নয়। এর জন্য দরকার সম্মিলিত প্রচেষ্টা। যুক্তরাষ্ট্রের অরিগন অঙ্গরাজ্যের কমিউনিটি কলেজে যে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতের ঘটনা ঘটেছে তার সঠিক তদন্ত হোক ও দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক- এটাই জরুরী।