২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এবার কোরবানিতে অর্ধেক চামড়াও সংগ্রহ হয়নি

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর ॥ কোরবানির পশুর পরিমাণ না কমলেও গত বছরের তুলনায় এবার অর্ধেক চামড়াও সংগ্রহ করতে পারেনি উত্তরবঙ্গের দ্বিতীয় বৃহত্তম দিনাজপুরের রামনগর চামড়ার বাজারের ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাজারে চামড়া সরবরাহ কম থাকার কারণেই তারা কাক্সিক্ষত চামড়া কিনতে পারেননি। আর বাজারে চামড়ার কম সরবরাহের কারণ হিসেবে সরকার ঘোষিত দামকেই দুষছেন তারা। দেশীয় বাজারমূল্য কম থাকায়, বিপুল পরিমাণ চামড়া ভারতে পাচার হয়ে যাবে- এমন আশঙ্কা সীমান্তবেষ্টিত এ জেলার ব্যবসায়ীদের।

উত্তরবঙ্গের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়ার বাজার দিনাজপুরের রামনগরের ২ শতাধিক ব্যবসায়ী গত বছর কোরবানিতে গরুর চামড়া কিনেছিলেন প্রায় ৪০ হাজার, আর ২৫ হাজার কিনেন ছাগলের চামড়া। এ বছর কোরবানির পশুর সংখ্যা বাড়লেও, এবার চামড়া কেনার চিত্র উল্টো। এবার কোরবানিতে এ বাজারের ব্যবসায়ীরা গরুর চামড়া কিনতে পেরেছেন মাত্র ১৭ হাজারের মতো। আর ছাগলের চামড়া কিনেছেন প্রায় ২০ হাজার। ব্যবসায়ীরা জানান, সরবরাহ কম থাকায় তারা চাহিদা অনুযায়ী চামড়া কিনতে পারেননি। গত ১০ বছরেও এত কম সরবরাহ দেখেননি বলে তারা জানান। চামড়া ব্যবসায়ী আব্দুল সাবের জানান, সরবরাহ কম থাকার কারণে বাধ্য হয়ে বেশি দামেই চামড়া কিনতে হয়েছে তাদের। ট্যানারি মালিকরা ক্রয়কৃত চামড়ার দাম না বাড়ালে আর্থিকভাবে লোকসান গুনতে হবে তাদের। ব্যবসায়ী হামিদুর রহমান জানান, সরকার এবার চামড়ার দাম কম নির্ধারণ করায়, বাজারে সরবরাহ কমেছে। আর এ জন্য কাক্সিক্ষত চামড়া পাননি তারা। বাজারে না আসা চামড়া ভারতে পাচারের আশঙ্কা করেন তিনি।

ব্যবসায়ীরা সরবরাহ কম থাকায় মূল্য বেশির কথা বললেও বাজারে চামড়া নিয়ে আসা বিক্রেতারা জানালেন উল্টো কথা। ব্যবসায়ীরা দাম না বলায় গত বছরের তুলনায় কমদামে চামড়া বিক্রি করতে হচ্ছে বলে জানালেন বিক্রেতারা। তারা জানান, কোরবানির আগে হঠাৎ করে চামড়ার কম মূল্য ঘোষণা করা হয়। যার ফলে বাজারে কম দামে চামড়া কিনছেন ব্যবসায়ীরা। এটি গরিবদের হক মারা হচ্ছে বলে তাদের অভিমত। গ্রামাঞ্চলে যারা বেশি মূল্যে চামড়া কিনছেন, সেসব মৌসুমী ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত পড়েছে। দিনাজপুর চামড়া ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি তৈয়ব উদ্দিন চৌধুরী জানান, এবারের কোরবানিতে মাত্র ৪০ শতাংশ চামড়া কিনতে পেরেছে দিনাজপুরের ব্যবসায়ীরা। বাকি চামড়া কোথায় গেল? এমন প্রশ্ন এই ব্যবসায়ী নেতার।