২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রূপপুর পরমাণু বিদ্যুত কেন্দ্রের সমীক্ষা শেষ, এ বছরই চূড়ান্ত চুক্তি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের সমীক্ষার কাজ শেষ হয়েছে। পরমাণু শক্তি কমিশন এবং সরকারের কাছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় আনবিক সংস্থা রোসাটম প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সমীক্ষায় নেতিবাচক কিছু পাওয়া যায়নি। রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণে কোন প্রতিবন্ধকতা নেই বলে সমীক্ষা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। রোসাটম আশা করছে চলতি বছরের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপনে সরকারের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি করা সম্ভব হবে। আর বিদ্যুত কেন্দ্রটি ২০২২ সালে উৎপাদন শুরু করবে। শনিবার ঢাকায় হোটেল সোনারগাঁওয়ে এক মিট দ্য প্রেসে রোসাটম নিযুক্ত বাংলাদেশ প্রকল্পর ইনচার্জ ম্যাক্সিম ভি ইলোচিসেভ এসব কথা জানিয়েছেন।

ম্যাক্সিম সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, প্রকল্পে ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এই প্রযুক্তি অধিকতর নিরাপদ এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক। তিনি বলেন আমরা ভিভিইআর-১০০০ প্রযুক্তি দেয়ার প্রস্তাব করেছিলাম কিন্তু বাংলাদেশ সরকার ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তির প্রতি বেশি আগ্রহী। তিনি বলেন, আপনারা নিশ্চই এখন কেউ আশির দশকের গাড়িতে চড়তে চাইবেন না। ম্যাক্সিম বলেন, জাপানে ফুকুশিমা পরমাণু বিদ্যুত কেন্দ্রে দুর্ঘটনার পর কিভাবে পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্রকে আরও নিরাপদ করা যায় তা নিয়ে আমরা চিন্তা করছি এবং সেভাবে কাজও করা হচ্ছে। প্রযুক্তি সর্বদা পরিবর্তনশীল। যে কোন দুর্ঘটনা ঘটলে এ ধরনের প্রযুক্তির ৭২ ঘণ্টার নিজস্ব প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার সক্ষমতা রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, আমরা ভূমিকম্প এবং বন্যা উভয় আশঙ্কা মাথায় রেখেই সমীক্ষা করেছি। এ ধরনের বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপনে পরিবেশগত বিষয় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিবেশগত সমীক্ষা করেছি। আমরা সাধারণ মানুষকে নিশ্চিত করতে চাই এখানে আমরা একটি উন্নত প্রযুক্তির নিরাপদ বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করতে যাচ্ছি। সাধারণ মানুষের ভয় বা ক্ষতির কোন আশঙ্কা নেই।

ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করে ইলোচিসেভ বলেন, রাশিয়ান ফেডারেশন এবং আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থার অনুমোদন রয়েছে এই প্রযুক্তিতে। ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তির এক হাজার ৪০০ রিএ্যাক্টর বছর চলানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমরা রাশিয়াতে এই নতুন প্রযুক্তির বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করছি। এখন অনেক দেশকেই আমরা এই প্রযুক্তি নিতে অনুরোধ করছি।

প্রকল্প ব্যয় নিয়ে ম্যাক্সিম এখনই কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তিনি বলেন, এখনও বিষয়টি দরকষাকষির পর্যায়ে রয়েছে। সঙ্গত কারণে প্রকল্প ব্যয় কি হবে তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। প্রত্যেকটি প্রকল্পেরই নিজস্বতা রয়েছে। একটি প্রকল্প থেকে আরেকটি প্রকল্প আলাদা। মূল্য নির্ধারণে অনেক বিষয় প্রাধান্য পায়।

পরিবেশগত সমীক্ষার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এখানের পরিবেশের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। এখানের নদীর পানি দিয়ে বিদ্যুত কেন্দ্রটি পরিচালিত হবে। পানি ঠা-া করার জন্য শীতলীকরণে পৃথক ব্যবস্থা থাকবে। আর এই শিতলীকরণ প্রক্রিয়া কোন অবস্থাতে তেজস্ক্রিয়তা ছড়ায় না।

তিনি বলেন, আমরা অত্যন্ত আশাবাদী প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে। বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে ইতিবাচক সহায়তা পাওয়ার জন্য তিনি সরকার এবং পরমাণু শক্তি কমিশনকে ধন্যবাদ জানান। ম্যাক্সিম বলেন, আমরা আশা করছি চলতি বছরের মধ্যে সরকারের সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের চূড়ান্ত চুক্তি হবে। চূড়ান্ত চুক্তির পরই আমরা বিভিন্ন মালপত্র কেনার প্রক্রিয়া শুরু করব। তবে চুক্তিতে দেরি হলে প্রকল্প পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করলেও জানান, এতে প্রকল্প ব্যয়ে খুব বেশি হেরফের হবে না। আমরা ইতোমধ্যে প্রকল্পের ডিজাইনের কাজও করেছি। মিট দ্য প্রেসে রাশিয়ান ফেডারেশনের ঢাকায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আলেকজেন্ডার নিকোলায়েভ বলেন, আমরা রূপপুর প্রকল্পের অগ্রগতিতে আশাবাদী। দুই সরকারই প্রকল্পের কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে বদ্ধপরিকর। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশের জ্বালানির সঙ্কট দূর হবে।

মিট দ্য প্রেসে রোসাটম এবং রূপপুর প্রকল্পের সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। সম্প্রতি ম্যাক্সিম ভি ইলোচিসেভকে বাংলাদেশ প্রকল্পের ইনচার্জ নিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি শিক্ষা জীবন শেষ করে ২০০১ সাল থেকে পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে কাজ করছেন। তিনি এনআইএইপির ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করছেন।