১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চামড়া নিয়ে কারসাজি

  • আরিফুর সবুজ

কারসাজিতে কে যে কত পারঙ্গম, তারই যেন প্রতিযোগিতা হয়েছিল চামড়া ব্যবসাকে ঘিরে। ট্যানারি মালিক, চামড়ার আড়তদার, ফড়িয়া, মৌসুমী ব্যবসায়ী সবপক্ষই কারসাজি করেছেন। একে-অপরকে ঠকিয়েছেন, আবার দূষছেনও। ফলে এবার কোরবানির ঈদ মৌসুমে চামড়া ব্যবসায়ে দেখা যায় লেজেগোবরে অবস্থা। ব্যবসায়ীরা কারসাজি করতে গিয়ে অন্যকে ডুবিয়েছেন, নিজেও ডুবেছেন। যাকে বলে অতি লোভে তাঁতি নষ্ট। তাদের কারসাজির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী চামড়া শিল্প খাতটি।

ট্যানাররা কাঁচা চামড়ার দাম খুব কম নির্ধারণ করেছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার দাম কম এমন অজুহাত দেখিয়ে ট্যানাররা গত তিন বছর ধরে চামড়ার দাম ক্রমাগত হ্রাস করে আসছেন। ২০১৩ সালে ঢাকার জন্য প্রতি বর্গফুট চামড়ার দাম ছিল ৮৫ থেকে ৯০ টাকা। ২০১৪ সালে সেই দাম হ্রাস করে ব্যবসায়ীরা নির্ধারণ করে ৭০ থেকে ৭৫ টাকায়। আর এবার কাঁচা চামড়ার বর্গফুটপ্রতি দাম নির্ধারিত হয়েছে মাত্র ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়। তিন বছরে চামড়ার দাম কমেছে ৩৫ টাকা। যেখানে সব কিছুর দামের উর্ধগতি সেখানে ট্যানাররা চামড়ার দাম কমিয়েছে। এই কম দাম নির্ধারণ আসলে প্রকৃত চামড়া ব্যবসায়ীদের ঠকানোর উদ্দেশ্যে এমনটাই দাবি করছেন প্রকৃত চামড়া ব্যবসায়ীরা। মৌসুমী ব্যবসায়ীরা বেশি দামে বিভিন্ন এলাকা থেকে কিনেছেন। এবং তাদের চামড়াগুলো ট্যানারদের অনেকেই ভাড়া করা ফড়িয়াদের দিয়ে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম দিয়ে কিনেছেন, এমন অভিযোগের তীর প্রকৃত চামড়া ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা ট্যানারদের দিকে ছুড়ে দিয়েছেন।

আবার মৌসুমী ব্যবসায়ীরা দূষছেন আড়তদারদের। একদিকে আড়তদাররা নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দামে চামড়া কিনতে চেয়েছে, অন্যদিকে কৃত্রিম যানজট তৈরি করেছে। চামড়া নষ্ট হয়ে বেশি ক্ষতি হয়ে যাওয়ার ভয়ে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে কেনা দামের চেয়ে অনেক কম দামে আড়তদারদের কাছে বিক্রি করেছেন। একে তো বেশি দাম দিয়ে চামড়া কিনেছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা, তন্মধ্য লবণ ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে লবণের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে মণপ্রতি তিন থেকে চার শ’ টাকা দাম বাড়ানোয় মৌসুমী ব্যবসায়ীদের খরচ অনেক বেড়ে গিয়েছিল। আড়তদাররা কম দাম হাঁকায় ঘুরে ঘুরে কোথাও কাক্সিক্ষত দামে বিক্রি করতে না পেরে বাধ্য হয়ে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা লোকসানে চামড়া বিক্রি করেছেন।

আড়তদার ও ট্যানারি মালিকরা চামড়া কম দামে ক্রয়ের কারণ হিসেবে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের চামড়া সংরক্ষণের অনভিজ্ঞতাকে দূষছেন। শুধু তাই নয়, তারা এমন পরিস্থিতির জন্য মৌসুমী ব্যবসায়ীদের দিকেই ছুড়ে দিয়েছেন অভিযোগের তীর। প্রথম দিকে মৌসুমী বিক্রেতারা নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে চামড়া বিক্রি করতে চেয়েছিল যে দামে ট্যানারি মালিক ও আড়তদারদের পক্ষে চামড়া কেনা সম্ভব ছিল না। এভাবে একে অপরকে দূষেছেন, কারসাজি করেছেন। এমনিতেই এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কোরবানি কম হয়েছে, তন্মধ্যে কারসাজির কারণে চামড়ায় পচন ধরে প্রায় দশ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়ে গেছে। এতে কারসাজিকারীরা সাময়িকভাবে লাভবান হলেও, ক্ষতি হয়েছে দেশের চামড়া শিল্পের।