২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিদেশী খুনের পেছনে কারা খুঁজে বের করুন ॥ প্রধানমন্ত্রী

  • জাতিসংঘ সফর শেষে ওসমানী বিমানবন্দরে মতবিনিময়

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট অফিস ॥ বাংলাদেশে বিদেশী হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা রয়েছে, তাদের খুঁজে বের করতে গোয়েন্দাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘ সফর শেষে ফেরার পর ওসমানী বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতির সময় তিনি একথা বলেন বলে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমেদ কামরান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী আসার এক ঘণ্টা আগেই রংপুরে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা গুলি চালিয়ে হত্যা করে জাপানী নাগরিক হোসে কোনিওকে। তার ছয় দিন আগে ঢাকায় একইভাবে খুন হন ইতালির নাগরিক সিজার তাভেলা। সিলেটে প্রধানমন্ত্রীর যাত্রাবিরতির সময় তার সঙ্গে দেখা করতে যান বদরউদ্দিন কামরানসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও সংসদ সদস্যরা। ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানিয়ে কামরান উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, তাদের আলোচনায় বাংলাদেশে বিদেশী হত্যাকাণ্ডের বিষয়টিও এসেছে।

তিনি বলেন, ‘যে মুহূর্তে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিশ্বের মানুষের কাছে, বিশ্বের নেতৃবৃন্দের কাছে একটা সম্মানজনক জায়গায় পৌঁছেছে, সেই মুহূর্তে কিছু অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা, অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে। যেগুলো মূলত দেশের ভাবমূর্তিকে বিনষ্ট করার জন্যই। ‘তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন, কোন ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটুক, তা আমরা চাই না। এসবের একটা ব্যবস্থা হবে এবং কে বা কারা এগুলো ঘটাচ্ছে তা বের করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’ পাশাপাশি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সজাগ ও সতর্ক থাকতেও দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন বলে কামরান জানান।

রংপুরের কাউনিয়ার পল্লীতে জাপানের নাগরিক হোসে কুনিওকে মুখোশধারী তিন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলে এসে গুলি চালায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশকে জানিয়েছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার কূটনীতিকপাড়া গুলশানে ইতালির নাগরিক সিজার তাভেলাকে গুলি চালিয়ে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়।

বাংলাদেশে চলাচলে নিজ নিজ দেশের নাগরিকদের প্রতি পশ্চিমা দেশগুলোর সতর্কতা জারির মধ্যে তাভেলা হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গী দল আইএস বিবৃতি দিয়েছে বলে জঙ্গী হুমকি পর্যবেক্ষণকারী একটি ওয়েবসাইট দাবি করে। তবে সরকার তা নাকচ করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বরাত দিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান বলেন- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওসমানী বিমানবন্দরে অবতরণের পরই জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য আর্থ’ পুরস্কার এবং আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের দেয়া ‘আইসিটি এ্যাওয়ার্ড’ প্রাপ্তিতে তাকে সিলেটবাসীর পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়।

মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের দেয়া এ্যাওয়ার্ড এ দেশের মানুষের জন্য সম্মান বয়ে নিয়ে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন- দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মিলেমিশে কাজ করতে হবে। সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিতে গণমানুষের সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও সুসংগঠিত করতে হবে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকা-গুলোকে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশগ্রহণের পর যুক্তরাজ্যে ব্যক্তিগত সফর শেষে শনিবার বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের বিজি ০০২ ফ্লাইটটি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান, সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস, সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী।