২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘মহিমা তব উদ্ভাসিত...’ সুরের ধ্বনিতে সংবর্ধিত প্রধানমন্ত্রী

‘মহিমা তব উদ্ভাসিত...’ সুরের ধ্বনিতে সংবর্ধিত প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বিমানবন্দর থেকে গণভবন। সর্বত্রই এক অন্যরকম পরিবেশ। দীর্ঘ প্রায় ১৪ কিলোমিটার সড়কের দু’পাশ যেন জনারণ্য। চারদিকে উৎসবের আমেজে শুধু মানুষ আর মানুষ। জনতার ঢলে যেন জনসমুদ্র রাজপথ। শত শত পুলিশ, র‌্যাব, সোয়াত, গোয়েন্দা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা বলয়। আর নিরাপত্তায় এসএসএফ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছুই টেকেনি তীব্র জনস্রোতের কাছে। প্রখর রৌদ্র উপেক্ষা করে মানুষের তীব্র স্রোত নেমেছিল এই সুদীর্ঘ সড়ক পথে। লাখো মানুষ এ দীর্ঘপথে মানবঢাল রচনা করে শনিবার দেশে ফিরে আসা প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে পুষ্পবৃষ্টি আর হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসায় সিক্ত করেন।

জাতিসংঘের ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’ ও ‘আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার’- এই দুটি বিরল আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করায় সুদীর্ঘ এ পথে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা দলের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণ প্রধানমন্ত্রীকে এক অন্যরকম গণসংবর্ধনা দেয়। ফুল ছিটিয়ে, বাদ্য বাজনার তালে সেøাগানে সেøøাগানে আর রক্তস্নাত জাতীয় পতাকা উড়িয়ে বরণ করেন নেন তাঁদের প্রিয় নেত্রীকে। গণভবনেও উষ্ণ অভ্যর্থনায় সিক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

অভূতপূর্ব সংবর্ধনা এবং মানুষের আবেগ, শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় সিক্ত প্রধানমন্ত্রী আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায়ের পাশাপাশি দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। আবেগাপ্লুত প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা জাতির সম্মান, মানুষের সম্মান। এই অর্জন জনগণের, জনগণের প্রাপ্য এই পুরস্কার। দুটি পুরস্কারই পুরো জাতির ও দেশের জন্য সম্মানের।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদান শেষে দেশে ফেরার পর তাঁকে সংবর্ধনা জানাতে শনিবার এভাবেই হাজার হাজার মানুষ পথে নেমে এসেছিলেন। আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীকে ব্যাপক সংবর্ধনার এই কর্মসূচী নির্ধারিত ছিল দুুপুর দেড়টায়। কিন্তু সকাল ১১টা থেকেই বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত সুদীর্ঘ পথের দু’ধারে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানুষ দাঁড়িতে থাকেন প্রধানমন্ত্রীকে গণসংবর্ধনা জানাতে। দুপুর একটার মধ্যে মানুষের তীব্র স্রোতে দীর্ঘ ১৪ কিলোমিটার এই পথের কোথাও এতটুকুও ফাঁক ছিল না। হাতে হাত ধরে কণ্ঠে সেøাগান, আর হাতে রক্তস্নাত জাতীয় পতাকা, ফুলের পাপড়ি নিয়ে বাদ্য-বাজনার তালে তালে দীর্ঘ এই পথ প্রকম্পিত করে রাখেন লাখো মানুষ। আয়জনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নেতারাও মানুষের এমন অবিশ্বাস্য ঢল দেখে স্বীকার করতে বাধ্য হন- এত মানুষ রাজপথে নামবে তা তাঁরা কল্পনাও করেননি।

রাজধানী ছাড়াও গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, কেরানীগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আশুলিয়া, কুমিল্লাসহ আশপাশের এলাকা থেকে আওয়ামী লীগসহ ১৪ দল এবং সহযোগী-ভাতৃপ্রতিম ও সমমনা সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা সমবেত হতে থাকেন নির্ধারিত আট রুটের পথের দু’ধারে। সরকারী দলের এমপিদের নেতৃত্বে বিশাল বিশাল শো-ডাউন সবার নজর কাড়ে। শুধু ১৪ দলই নয়, সকল পেশাজীবী, শিল্পী, সাহিত্যিক, আইনজীবী, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার সর্বস্তরের মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে রাজপথে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। রাজপথের পাশাপাশি দীর্ঘ এ পথের দু’ধারে বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন উঁচু বিল্ডিংয়ে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার মানুষ হাতনেড়ে প্রদানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান।

জাতীয় ও দলীয় পতাকা এবং ব্যানার-ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড, পোস্টার ও বেলুনসহ ফুল হাতে সমবেত এসব মানুষ দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থেকেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য। রাস্তার দুই ধারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরে বড় বড় বিলবোর্ড ও ব্যানার শোভা পেয়েছে। আর প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে সমবেত মানুষ গান ও বিভিন্ন ধরনের বাদ্য-বাজনার পাশাপাশি সেøাগানে সেøাগানে মুখর রেখেছেন গোটা এলাকা। মাইকে বেজেছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণসহ মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন দেশাত্মবোধক সঙ্গীত। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গণভবনমুখী সড়ক জনারণ্যে পরিণত হয়। মানুষের ভিড়ে বেলা ১২টা থেকে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষকে তীব্র দুর্ভোগেও পড়তে হয়েছে।

দুপুর ১টা ৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভিভিআইপি ফ্লাইট ‘আকাশ প্রদীপ’ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ঢাকায় পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীকে বর্ণাঢ্য ও আন্তরিক গণসংবর্ধনা দেয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, এবং ঢাকা সিটির দুই মেয়রসহ আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতৃব্ন্দৃ প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান তোফায়েল আহমেদ, বেগম মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাহারা খাতুন, ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, এইচ টি ইমাম, তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ইকবাল সোবহান চৌধুরী, মাহবুবউল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, কামরুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান খান কামাল, আহম মোস্তফা কামাল, নুরুল ইসলাম নাহিদ, আনিসুল হক, আবদুল মতিন খসরু, ফারুক খান, এবি তাজুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান সিরাজ, অসীম কুমার উকিল, মৃণাল কান্তি দাস, মির্জা আজম, নসরুল হামিদ বিপু, তারানা হালিম, ইসমত আরা সাদেক, জুনাইদ আহমেদ পলক, মেহের আফরোজ চুমকি, এস এম কামাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, সিলেটের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমেদ কামরান প্রমুখ।

বিমাবন্দরের অনুষ্ঠানিকতা শেষে বেলা দেড়টায় গণভবনের উদ্দেশে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় রাজপথে থাকা লাখো জনতা বাঁধাভাঙ্গা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন এবং তুমুল করতালি, ফুল ছিটিয়ে, বেলুন উড়িয়ে এবং সেøাগানে সেøাগানে অভিনন্দিত করেন প্রধানমন্ত্রীকে। তাঁদের কণ্ঠে ছিল, ‘শেখ হাসিনার জন্য, বাংলাদেশ ধন্য’, ‘যোগ্য পিতার যোগ্য কন্যা, শেখ হাসিনা শেখ হাসিনা’, ‘জামায়াত-শিবির রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’, শেখ হাসিনার সরকার বার বার দরকার’ ইত্যাদি সেøাগান।

তীব্র জনস্রোতের কারণে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির বহর ধীরে ধীরে এগুতে থাকে গণভবনের উদ্দেশে। বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত দীর্ঘপথে প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে মানুষের ভালবাসা ও শুভেচ্ছার জবাব দেন। পথে পথে মানুষের ভালবাসা ও শুভেচ্ছায় সিক্ত প্রধানমন্ত্রী দুপুর সোয়া ২টায় পৌঁছান গণভবনে। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরের সামনে গাড়িবহরের সামনে একটি খোলা জীপে করে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা নিয়ে তোফায়েল আহমেদ, মোহাম্মদ নাসিম, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, হাজী সেলিমসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা নেতৃত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে গণভবন পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে আসেন।

এছাড়া সংবর্ধনার বিভিন্ন রুটে নেতৃত্ব দিয়েছেন ১৪ দলের নেতা শরীফ নুরুল আম্বিয়া, দিলীপ বড়ুয়া, শিরীন আখতার, নুরুর রহমান সেলিম, এস কে সিকদার, অসীত বরণ রায়, ইসমাইল হোসেন, এ কে এম রহমতুল্লাহ এমপি, সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি, কামাল আহমেদ মজমুদার এমপি, হাবিবুর রহমান মোল্লা এমপি, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এমপি, আসলামুল হক আসলাম এমপি, সানজিদা খানম এমপি, ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ এমপি, জাহিদ আহসান রাসেল এমপি, ডা. এনামুর রহমান এমপি প্রমুখ। একইসঙ্গে যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ ও যুব মহিলা লীগের বড় বড় শোডাউনও ছিল উল্লেখ করার মতো।

গণভবনে ব্যতিক্রমী সংবর্ধনা ॥ বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারে উপচেপড়া উচ্ছ্বসিত মানুষের হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসায় সিক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী যখন তাঁর সরকারী বাসভবনে এসে পৌঁছান তখন তাঁকে বরণ করা হয় এক অন্যরকম আবহে। লেখক, চিত্রশিল্পী, শিল্পী, সাহিত্যিক, ক্রিকেটার, এভারেস্ট বিজয়ী, চিত্র পরিচালকসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অসংখ্য মানুষ, দলীয় নেতাকর্মী এবং দেশের বিশিষ্টজনেরা গানে গানে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নেন।

প্রধানমন্ত্রী গাড়ি থেকে নামার পর ফুল নিয়ে এগিয়ে যান সাব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৈয়দ হকের কুশল বিনিময়ের সময় যোগ দেন চিত্রশিল্পী হাশেম খান। এ সময় খ্যাতনামা রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা প্রধানমন্ত্রীকে আলিঙ্গন করে গেয়ে উঠেন আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে গানটি থেকে ‘মহিমা তব উদ্ভাসিত.....’ কলিটি। এ সুর ছড়িয়ে পড়ে কণ্ঠে কণ্ঠে। বন্যার সঙ্গে গলা মিলিয়ে ‘বিশ্বজগত মণীভূষণ বেষ্টিত চরণে’, ‘গ্রহতারক চন্দ্রতপন ব্যাকুল দ্রুত বেগে’, ‘করিছে পান, করিছে স্নান, অক্ষয় কিরণে’ গান গেয়ে উঠেন সুধীজন। গান আর মুহুর্মুহু আনন্দধ্বনিতে মুখরিত হয়ে গোটা গণভবন। এমনই এক মায়াবী ভালবাসায় আবদ্ধ প্রধানমন্ত্রী আবেগে স্তব্ধ হয়ে থাকেন কিছুক্ষণ।

গান শেষ হওয়ার পর আবেগাপ্লুত প্রধানমন্ত্রী শুধু এটুকু বলেন, ‘সবই জনগণের প্রাপ্য।’ এই আনন্দক্ষণে সেখানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের ইকবাল হাবিব, এভারেস্ট বিজয়ী মুসা ইব্রাহিম ও নিশাত মজুমদার, চিত্র পরিচালক আশরাফ শিশির, ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন, বাংলাদেশ ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা, টেস্ট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম, বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান, ক্রিকেটার তাসকিন আহমেদ প্রমুখ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আবদুস শহীদ এমপি, চীফ হুইপ আসম ফিরোজও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহরের সঙ্গে গণভবনে প্রবেশ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজম, অসীম কুমার উকিল, মৃণাল কান্তি দাস প্রমুখ। এরপর প্রধানমন্ত্রী গণভবনের মিটিং রুমে গিয়ে সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। দীঘ ভ্রমণের ক্লান্তিকে উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রী বিশিষ্টজনদের সঙ্গে বেশ কিছু সময় কাটান। এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটা জাতির সম্মান, মানুষের সম্মান।’

প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানানোর পর সৈয়দ শামসুল হক বলেন, এটি তাঁর (শেখ হাসিনা) নেতৃত্বের বিজয়। এটি তাঁর আরেকটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ কতটা এগিয়ে যাচ্ছে তার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এই ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’ সম্মানানা ও ‘আইসিটি এ্যাওয়ার্ড’।

কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশ ও জনগণের জন্য নিরলস কাজ করছেন, এটা তার কাজের পুরস্কার। প্রধানমন্ত্রী শুধু দেশের জন্য নয়, বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের জন্য কাজ করছেন। এ পুরস্কার নিপীড়িত বিশ্বের। রিজওয়ানা চৌধুরী বন্যা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ পুরস্কার দেশের অর্জন, মানুষের অর্জন, তৃতীয় বিশ্বের অর্জন, যারা পরিবেশের জন্য কাজ করছেন তাদের অর্জন। এ সম্মাননা জাতি হিসেবে আমাদের আরও গৌরবান্বিত ও সম্মানিত করেছে।

মাশরাফি বিন মর্তুজা ও মুশফিকুর রহীম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ সম্মাননা লাভ দেশের মানুষের জন্য আনন্দের। সবাই সমানভাবে একাগ্রতার সঙ্গে কাজ করলে দেশ আরও এগিয়ে যাবে। আনন্দে উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও গণভবনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা প্রাণবন্ত এ অনুষ্ঠানের সার্বিক তদারকি করেন।

তীব্র যানজটে দুর্ভোগ ॥ প্রধানমন্ত্রীকে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে ঘিরে মানুষের ঢলের কারণে শনিবার বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত রাস্তায় তীব্র যনজটের সৃষ্টি হয়। সংবর্ধনার কারণে ফার্মগেট, মহাখালী, বনানী, খিলক্ষেত থেকে কুর্মিটোলা বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়কে গাড়ি সকাল থেকেই ছিল ধীর। প্রধানমন্ত্রীর ফেরার পর দুপুর একটা থেকে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ যান চলাচল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়ে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ঈদ শেষে ঘরে ফেরা মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।

ঈদের ছুটির পর গত কয়েকদিন রাজধানীতে যানজট ছিল না বললেই চলে। শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও যানজটে পড়তে হয়। সকাল থেকে বিমানবন্দর সড়কে বাড়তে থাকে যানবাহনের চাপ। বেলা ১১টার মধ্যে বদলে যায় মহাখালী-বনানী-এয়ারপোর্ট রোডের চিত্র। হাজার হাজার মিছিলের তোড়ে পুরো এলাকা কার্যত স্তদ্ধ হয়ে যায়। মানুষের স্রোতের কারণে খিলক্ষেত এলাকায় সারি সারি বাস দাঁড়িয়ে পড়ে। একই সময় উত্তরা এলাকায় সৃষ্টি হয় যানজট।