২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সিডনিতে গুলির ঘটনায় সন্ত্রাসবাদের যোগসূত্র মিলেছে

  • হামলাকারী কিশোর কুর্দী বংশোদ্ভূত

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ সিডনির নিউসাউথ ওয়েলস রাজ্য পুলিশের সদর দফতরের সামনে গোলাগুলির ঘটনার সঙ্গে ‘সন্ত্রাসবাদের যোগসূত্র’ রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। হামলার সময় হামলাকারী কিশোর ধর্মীয় স্লোগান দিচ্ছিল। অস্ট্রেলীয় পুলিশ শনিবার দাবি করেছে, ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোর শুক্রবার যে হামলা চালিয়েছে তার সঙ্গে ‘সন্ত্রাসবাদের সম্পর্ক’ রয়েছে। ওই হামলায় পুলিশ বিভাগের একজন কর্মী ও বন্দুকধারী কিশোরও নিহত হয়। খবর বিবিসি অনলাইনের।

ইরানে বসবাসরত এক ইরাকী কুর্দী পরিবারে জন্ম ওই কিশোরের। মনে করা হচ্ছে ছেলেটি একাই শুক্রবারের হামলায় অংশ নিয়েছিল। তবে তার নাম এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

কিন্তু হামলায় নিহত পুলিশ কর্মীর নাম প্রকাশ করা হয়েছে। তার নাম কার্টিজ চেং। তিনি নিউসাউথ ওয়েলস পুলিশের অর্থ বিভাগে ১৭ বছর কাজ ধরে কাজ করছিলেন। অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল এ হামলার ঘটনাকে ‘জঘন্য’ এবং ঠা-া মাথার খুন বলে আখ্যা দিয়েছেন। পাশাপাশি মুসলিম সম্প্রদায়কে এ বিষয়ে দোষারোপ না করার আহ্বান জানান তিনি। শনিবার মেলবোর্নে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সহিংসতা। সুতরাং এটি সন্ত্রাসবাদী ঘটনা।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অবশ্যই সমগ্র মুসলিম সম্প্রদায়কে এ ঘটনার জন্য নিন্দা করব না। সত্য তো এই যে, অত্যন্ত ক্ষুদ্র একটি অংশই সহিংস চরমপন্থী।’

ম্যালকম টার্নবুল বলেন, সত্যিই বিষয়টি দুঃখজনক যে, মাত্র ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর ওই হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এ সময় তিনি পরিবার, সম্প্রদায় এবং ধর্মীয় নেতাদের উদ্দেশে বলেন, তরুণরা যাতে এভাবে সন্ত্রাসবাদে আর না জড়ায় সেদিকে আপনাদের সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র অস্ট্রেলিয়া ইরাক ও সিরিয়ায় ইসলামী জঙ্গীদের বিরুদ্ধে মার্কিন নেতৃত্বাধীন অভিযানে যুক্ত রয়েছে।

নিউসাউথ ওয়েলসের পুলিশ কমিশনার এন্ড্রু শিপিওনি শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি তার (নিহত হামলাকারী) কর্মকা- ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সম্পর্কিত।’ তিনি যোগ করেন, ওই কিশোর পুলিশের কাছে কিংবা সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকর্তাদের কাছে অপরিচিত ছিল। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার এবিসি নিউজের খবরে বলা হয়, শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ কমিশনার শিপিওনিকে উদ্ধৃত করে পত্রিকাটি লিখেছে, অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারী পুলিশের ওই কর্মীকে গুলি করে বেরিয়ে যাওয়ার সময় অন্য পুলিশ সদস্যদের দিকে গুলি ছুড়তে থাকে। জবাবে কয়েকজন পুলিশ কনস্টেবল পাল্টা গুলি ছুড়লে হামলাকারীও নিহত হয়। ‘আমি এ ঘটনার কিছু ভিডিও দেখেছি। এটি একটি বর্বর হত্যাকা-’- বলেন শিপিওনি।

গোলাগুলির পরপরই পুলিশ ওই এলাকা ঘিরে ফেলে এবং হেলিকপ্টারে করে ওই এলাকায় টহল শুরু হয়। গত বছর অস্ট্রেলিয়ায় ইসলামী জঙ্গীবাদীদের মাথাচাড়া দিয়ে উঠার শঙ্কার মধ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে সতর্কতা জারি করা হয়। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে সিডনির একটি ক্যাফেতে প্রায় ১৭ ঘণ্টার জিম্মি সঙ্কটের অবসান ঘটে পুলিশের রক্তাক্ত অভিযানের মধ্য দিয়ে।

নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়ার ৭০ জন নাগরিক মধ্যপ্রাচ্যে জঙ্গী-বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। আর ওই সব উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে অস্ট্রেলিয়ায় থেকে বিভিন্ন সহযোগিতা বা সমর্থন দিচ্ছে প্রায় ১০০ নাগরিক।

নির্বাচিত সংবাদ