২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আত্মীয়েকে দিয়ে থানায় অস্ত্র জমা, এমপি লিটনের গা-ঢাকা

  • হত্যা চেষ্টার অভিযোগে মামলা

নিজস্ব সংবাদদাতা, গাইবান্ধা, ৩ অক্টোবর ॥ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার গোপালচরণ গ্রামের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র শাহাদত হোসেন সৌরভকে গুলিবিদ্ধ করার ঘটনায় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে আসামি করে শনিবার রাতে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। সৌরভের বাবা সাজু মিয়া বাদী হয়ে ছেলেকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে ৩২৬ ও ৩০৭ ধারায় এই মামলা দায়ের করেন। শুক্রবার রাত থেকে সংসদ সদস্য গা-ঢাকা দিয়েছেন। অপরদিকে সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন তার আত্মীয়ের মাধ্যমে শনিবার সন্ধ্যায় তার ব্যবহৃত লাইসেন্সকৃত একটি পিস্তল ও একটি শটগান সুন্দরগঞ্জ থানায় জমা দিয়েছেন। সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) জিন্নাত আলী মামলা দায়ের ও অস্ত্র জমা দেয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। এদিকে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে স্কুলছাত্র সৌরভের পায়ে গুলির ঘটনায় ওই এলাকার মানুষের মাঝে উত্তেজনা ও এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। ঘটনার প্রতিবাদে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে সুন্দরগঞ্জ পৌর মেয়র ও ৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল্যাহ আল মামুন জানিয়েছেন।

জেলা প্রশাসক আব্দুস সামাদ বলেন, গুলির ঘটনাটি সত্যি। এর যথেষ্ট তথ্য-উপাত্ত ঘটনাস্থলে পাওয়া গেছে। পুলিশ ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের পিস্তল ও শটগানের লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার সকালে বাড়িসংলগ্ন সুন্দরগঞ্জ-বামনডাঙ্গা সড়কে সৌরভকে নিয়ে প্রাতভ্রমণ করছিলেন তার চাচা শাহজাহান আলী ওরফে সাজা মিয়া। সকাল পৌনে ৬টার দিকে সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম পাজেরো গাড়িতে করে তার বাড়ি বামনডাঙ্গা থেকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শহরে যাচ্ছিলেন। তিনি সুন্দরগঞ্জ-বামনডাঙ্গা সড়কের ব্র্যাক মোড় গোপালচরণ এলাকায় গাড়ি থামান। এমপি গাড়িতে বসেই জানালা দিয়ে সৌরভের চাচা শাহজাহান আলীকে ইশারা করে ডাকেন। কিন্তু তিনি ভয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। সংসদ সদস্য ক্ষিপ্ত হয়ে ব্যক্তিগত পিস্তল দিয়ে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এতে সৌরভের ডান পায়ে দুইটি ও বাম পায়ে একটি গুলি লাগে। স্থানীয় জনগণ গুলিবিদ্ধ শিশুটিকে উদ্ধার করে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সে ওই হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের ১৮ নম্বর শয্যায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।