১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দিনাজপুরে জঙ্গী গ্রুপের ৩০ জনকে খুঁজছে পুলিশ, নজরদারি বৃদ্ধি

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর ॥ নিষিদ্ধ ঘোষিত ইসলামী জঙ্গী সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীনসহ (জেএমবি) বিভিন্ন নামে প্রচারিত জঙ্গী সংগঠনের ৩০ জন সক্রিয় জঙ্গী সদস্যকে খুঁজছে পুলিশ। এদের মধ্যে অনেককে গ্রেফতার করলেও আদালতের বিচারে এবং জামিনে মুক্তি পেয়ে পলাতক রয়েছে। জেলার স্পর্শকাতর স্থান ও জনবহুল এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মোঃ রুহুল আমিন জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে পুনরায় বিভিন্ন নামে জঙ্গী সদস্যরা সক্রিয় হয়ে নাশকতামূলক কর্মকা- চালানোর চেষ্টা করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় জঙ্গী সদস্যদের গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে। সেই লক্ষ্যেই সারাদেশে জঙ্গী সদস্যদের নাশকতা কার্যক্রম ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থান রেলওয়ে স্টেশন, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারী ডিগ্রী কলেজ, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, সদর হাসপাতাল, পার্বতীপুর উপজেলার বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুত কেন্দ্র ও কয়লা খনি এবং মধ্যপাড়া কঠিন শিলা প্রকল্প, হিলি স্থলবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়াও শহরে পুলিশ, র‌্যাব সদস্যদের টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

সূত্রটি জানায়, গত ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট বেলা ১১টায় সারাদেশের মতো দিনাজপুর শহরের জঙ্গী সংগঠনের সদস্যরা একযোগে ১১টি স্থানে ১২টি বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। ওই মামলায় পুলিশ তদন্ত করে ৮ জন সক্রিয় জঙ্গী সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলাটি দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৩ আদালতে দীর্ঘ সময় ধরে বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সর্বশেষ ২০১২ সালের ৩১ অক্টোবর ওই আদালতের বিচারক মোঃ গাজী রহমান ৮ জন আসামির মধ্যে কারাগারে আটক ৭ জনকে খালাসের রায় দিয়ে পলাতক আসামি আফজাল আবেদিনকে ১০ বছর সশ্রম কারাদ- এবং ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদ-ের রায় প্রদান করেছিলেন। এই চাঞ্চল্যকর মামলার কারাদ-প্রাপ্ত আসামি আফজাল আবেদিন শহরের ক্ষেত্রিপাড়া মহল্লার জয়নাল আবেদিন মধুর পুত্র। ঘটনার পর থেকেই সে পুলিশের গ্রেফতার এড়িয়ে পলাতক রয়েছে। আফজাল ২০০১ সালে জেলা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে সভাপতি পদে ছিল। গত ১০ বছরও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি। মহল্লাবাসীরা জানায়, ৩ বছর আগে আফজালের পিতা জয়নাল আবেদিন মারা যাওয়ার পর তার দাফন কার্য এবং পরবর্তীতে কুলখানিতে আফজালের উপস্থিতি দেখা গেছে। সূত্রটি জানায়, এখনও মাঝে মধ্যে তাকে বাড়িতে যাতায়াত করতে দেখা যায়।

এদিকে দিনাজপুরে নাশকতা ও জঙ্গী সংক্রান্ত হত্যা ঘটনায় বিচারাধীন ২টি মামলার বিচার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে পাবলিক প্রসিকিউটর, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে তদারকি করার নির্দেশ দিয়ে চিঠি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দিনাজপুরের পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাডভোকেট হামিদুল ইসলাম জানান, জেলার বিরামপুর ও ঘোড়াঘাট উপজেলায় সংঘটিত নাশকতা ও হত্যা ঘটনায় ২টি জঙ্গী সংক্রান্ত মামলা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মামলা ২টি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। কয়েকজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সরকারী সাক্ষীরা চাকরির কারণে ঘটনাস্থল পরিবর্তন হওয়ায় তাদের আদালতে হাজির করতে সময় লাগছে। এরপরও সাক্ষীদের আদালতে হাজির হয়ে সাক্ষ্য নেয়ার জন্য পুলিশের মাধ্যমে সমন এবং ওয়ারেন্ট দিয়ে যোগাযোগ চলছে।

২৮ সেপ্টেম্বর শীর্ষ জঙ্গী শহিদুল ইসলামকে আদালতে হাজির করা হয়। ওই মামলায় অপর ২ জঙ্গী রফিকুল ইসলাম ও শাহিনুর ইসলাম ঢাকায় অন্যান্য মামলায় জেল কারাগারে আটক থাকায় তাদের কারা কর্তৃপক্ষ ধার্য তারিখে আদালতে হাজির করতে পারেনি। ফলে আইনগত জটিলতার কারণে ৩ জন সাক্ষী আদালতে হাজির করা হলে তাদের সাক্ষ্য নেয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে। বিচারক আগামী ধার্য তারিখে ওই ২ জন শীর্ষ জঙ্গীকে ঢাকা কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে হাজির করার জন্য দিনাজপুর জেল সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন। অপর শীর্ষ জঙ্গী ভাগ্নে শহীদের মামলাটি ২ নবেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ২টি মামলা একই দিনে দিন ধার্য করে বিচার কার্য দ্রুত সম্পন্ন করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। জানা যায়, ২০০৮ সালের ৪ ডিসেম্বর ঘোড়াঘাট উপজেলার কশিগাড়ী গ্রামের জঙ্গী শহিদুল ইসলামের বাড়ি তল্লাশি করে আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক, গামবুট ও জিহাদী বই-লিফলেট উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় র‌্যাব এর ডিএডি আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করা হয়। ওই মামলায় ৪ জন শীর্ষ জঙ্গীর বিরুদ্ধে আদালতে পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করলে বিচার কার্য শুরু হয়।

অপর মামলাটি ২০১০ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর বিরামপুর উপজেলার দুর্গাপুর আমবাগানের পাশে বীমা কর্মকর্তা মোস্তাকিম বিল্লাকে জেএমবি’র সদস্যরা আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে গুলি করে হত্যা করে। এই ঘটনায় নিহত মোস্তাকিম বিল্লার মামা আব্দুল্লাহ মিয়া বাদী হয়ে বিরামপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। ওই মামলাটি তদন্ত শেষে জেএমবির উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডার আনোয়ার হোসেন ওরফে খোকা ওরফে ভাগ্নে শহীদ এবং শীর্ষ মহিলা জঙ্গী দিনাজপুর সরকারী কলেজের বাংলা বিভাগের অনার্সের ছাত্রী বদরুন নাহার লিমুকে আসামি করে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ভাগ্নে শহীদ গ্রেফতার হলেও বদরুন নাহার লিমু এখনও পলাতক রয়েছে। সম্প্রতি মামলা ২টি গুরুত্ব দিয়ে নিস্পত্তি করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দিনাজপুরে চিঠি দেয়া হয়েছে।