১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সেতার ও সরোদ কর্মশালা ‘সঙ্গীত অবয়ব’ শুরু

সেতার ও সরোদ কর্মশালা ‘সঙ্গীত অবয়ব’ শুরু
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ উমহাদেশের শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের বরেণ্য দুই শিল্পী প-িত তেজেন্দ্রনারায়ণ মজুমদার ও প-িত কুশল দাশ। প্রথমজন সরোদের সুরেলা শব্দধ্বনিতে রাঙিয়ে তোলেন শ্রোতার অন্তর। আর দ্বিতীয়জনের সেতারের স্নিগ্ধ সুর মূর্ছনায় মোহাবিষ্ট হন সঙ্গীতানুরাগীরা। জন্মসূত্রে বাঙালী ভারতের প্রখ্যাত এই উচ্চাঙ্গসঙ্গীত শিল্পীদ্বয় এখন অবস্থান করছেন রাজধানী ঢাকায়। এ দেশের ধ্রুপদী সঙ্গীত শিক্ষার্থীদের সেতার ও সরোদ বাদন শেখাতে তাঁদের এই আগমন। শনিবার থেকে শিল্পীদ্বয়ের পরিচালনায় শুরু হলো ‘সঙ্গীত অবয়ব’ শীর্ষক সেতার ও সরোদাবিষয়ক কর্মশালা। মনন বিকাশে সঙ্গীত-ঐতিহ্যের গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিকতা নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে যৌথভাবে কর্মশালার আয়োজন করেছেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।

শরতের বিকেলে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে তিন দিনব্যাপী এই কর্মশালর সূচনা হয়। কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন একাডেমির সঙ্গীত ও নৃত্যকলা বিভাগের পরিচালক সোহরাব উদ্দিন, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী, প-িত তেজেন্দ্রনারায়ণ মজুমদার, প-িত কুশল দাস ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সভাপতি আবুল খায়ের।

প-িত কুশল দাস বলেন, গত বছর আমি বেঙ্গলের উচ্চাঙ্গসঙ্গীত উৎসবে এসেছিলাম। ওই সঙ্গীতাসরে শ্রোতার সংখ্যা দেখে আমি অভিভূত হয়েছি। যে দেশে ধ্রুপদী সঙ্গীতের এত শ্রোতা, সেখানে এই ধরনের সেতার-সরোদ কর্মশালায় সাড়া পড়বে, এটাই স্বাভাবিক। সেই সূত্রে গান-বাজনার চর্চাটাও ভাল হবে।

প-িত তেজেন্দ্রনারায়ণ মজুমদার বলেন, এই কর্মশালা আমার জন্য একটা বড় সুযোগ। অনেকটা ঋণ পরিশোধের মতো। কারণ, আমার জন্ম ও কর্ম কলকাতায় হলেও এদেশের পাবনা শহর হচ্ছে আমার আদি নিবাস। ফলে এই দেশের প্রতি রয়েছে আমার রক্তের ঋণ। এদেশের উচ্চাঙ্গসঙ্গীতের ঐতিহ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, উমহাদেশের শাস্ত্রীয় সঙ্গীত যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে তার সিংহভাগ কৃতিত্ব এদেশে জন্মানো শিল্পীদের। বাংলাদেশের শ্রোতাদের প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশ করে শিল্পী বলেন, শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রতি এদেশের শ্রোতাদের মধ্যে উন্মাদনা দেখেছি পৃথিবীর অন্য কোথাও তেমনটা দেখা যায় না। বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসঙ্গীত উৎসবে ৬০/৬৫ হাজার শ্রোতা রাতভর গান শুনেছে। যে দেশে এমন শ্রোতা আছে সে দেশে কেন শিল্পী তৈরি হবে না? সম্ভাবনার ক্ষেত্রটি সৃষ্টি হলেও প্রস্ফুটিত হওয়ার সুযোগটি তৈরি হচ্ছে না। ধ্রুপদী সঙ্গীত হচ্ছে গুরুমুখী বিদ্যা এবং সঙ্গীতের অন্য শাখার ভিত গড়ে দেয়। আশা করি একদিন এদেশের শিল্পীরাও উচ্চাঙ্গসঙ্গীত পরিবেশন করে মুগ্ধ করে রাখবে শ্রোতাদের।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসাদুজ্জামান নূর বলেন, শৈশবে আমাদের শহরের বিশটি বাড়িতে হারমোনিয়াম বাজত। এখন সেখানে প্রায় একটি বাড়িতেও হারমোনিয়াম বাজে না। এখন সঙ্গীতচর্চার বদলে এসএমএসের মাধ্যমে যে শিল্পী নির্বাচন করা হয়। দীর্ঘমেয়াদি চর্চার পরিবর্তে সবাই চ্যানেলের প্রতিযোগিতার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। এখন শিক্ষার্থীরা সেতার, সরোদ, এস্রাজ, বাঁশি বাজানো না শিখে বিদেশী বাদ্য শেখার প্রতি বেশি আগ্রহী হয়। অথচ দেশের কোন দল যখন বিদেশে কোন পরিবেশনায় অংশ নেয় তখন বিদেশীরা গিটার, কি-বোর্ড দেখলে বিরক্ত হয়। বরং তারা আমাদের ঢোলের বাজনায় মুগ্ধ হয়। আর একতারা, দোতারা, বাঁশি কিংবা ঢোল ছাড়া জমে না বাংলা গান। তিনি আরও বলেন, শুধু ঢাকা নয়, প্রতিটি জেলায় ছড়িয়ে দিতে সংস্কৃতিচর্চা। জেলা পর্যায়ে যন্ত্রসঙ্গীত শেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে। আবুল খায়ের লিটু ঘোষণা দেন, আগামী ডিসেম্বর মাসে বেঙ্গল সঙ্গীতপরম্পরায় উপমহাদেশের কিংবদন্তি বংশীবাদক হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া বাঁশি বাজানোর প্রশিক্ষণ দেবেন। চার দফায় তিনি এই তালিম দেবেন। লিয়াকত আলী লাকী বলেন, অশুরের প্রবাহ থেকে বাঁচতে হলে দরকার সুরের শক্তি।

উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে হয় শুরু কর্মশালা। কর্মশালায় সেতার ও সরোদ বাদনের করণকৌশল উপস্থাপনের পাশাপাশি শাস্ত্রীয় যন্ত্রসঙ্গীতের ইতিহাস, বাদনশৈলী ও রীতি, সমকালীন চর্চা ও সঙ্গীত নিয়ে আলোচনা হয়। আজ রবিবার বিকেল ৫টায় শিল্পকলার আবৃত্তি, সঙ্গীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তন ও ২০৩ নং মহড়া কক্ষে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে।

জন্মশতবর্ষে ওস্তাদ মোমতাজ আলী খান স্মরণ ॥ বাংলা লোকগানের কিংবদন্তি এক শিল্পী ওস্তাদ মোমতাজ আলী খান। তার সৃষ্ট লোকসঙ্গীতের সুর ও বাণী ধারণ করেছে চিরায়ত বাংলার রূপ। স্বদেশের গ-ি পেরিয়ে বিদেশেও সমাদৃত হয়েছে তার গান। শনিবার শরতের সন্ধ্যায় স্মরণ উপমহাদেশের প্রখ্যাত এই লোকসঙ্গীত শিল্পীকে। শিল্পীর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে গাওয়া হলো তার রচিত ও সুরারোপিত গান। সেই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হলো তাকে নিবেদিত আলোচনা সভা। শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সাংস্কৃতিক সংগঠন লোকাঙ্গন।

দুই পর্বে বিভক্ত এ স্মরণানুষ্ঠানে প্রথম পর্বে ছিল আলোচনা সভা। এতে প্রধান অতিথির ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত সচিব ও বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক কাজী আখতার উদ্দিন আহমেদ।

বন্যার গান ও রণজিতের কবিতাপাঠ ॥ রাজধানীর গুলশানের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে (আইজিসিসি) শনিবার আজ গান শোনালেন রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। পরিবেশন করেন নিজের ও শ্রোতাদের পছন্দের রবীন্দ্রসঙ্গীত। একই অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি ও পাঠ করেন সাবেক সংস্কৃতি সচিব রণজিৎ কুমার বিশ্বাস। সবার জন্য উন্মুক্ত এ আয়োজনটি দর্শক-শ্রোতারা দারুণ উপভোগ করেন।