২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আরও আট নতুন মামলা আসছে ট্রাইব্যুনালে

  • যুদ্ধাপরাধী বিচার

বিকাশ দত্ত ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আরও আটটি নতুন মামলা আসছে। ইতোমধ্যে চীফ প্রসিকিউটর এসব মামলা তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউটরদের মধ্যে বণ্টন করে দিয়েছেন। এছাড়া আগের ১৭টির মধ্যে ১০ মামলা শুনানির বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে নেত্রকোনা জেলার মুসলিম লীগ নেতা আতাউর রহমান ননি ও নেজামে ইসলামের ওবায়দুল হক তাহেরের মামলাটি প্রায় শেষের দিকে। চলতি মাসেই ননী-তাহেরের মামলাটি যুক্তিতর্কের জন্য দিন ধার্য হতে পারে বলে প্রসিকিউশন আশা করছে। হবিগঞ্জের দুই সহোদর ও তাদের চাচাত ভাই মহিবুর রহমান ওরফে বড় মিয়া, মজিবুর রহমান ওরফে আঙ্গুর মিয়া ও আব্দুর রাজ্জাকের মামলাও আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ২১ অক্টোবর পরবর্তী দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রসিকিউশন সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

ট্রাইব্যুনালে যে আটটি নতুন মামলা আসছে তার মধ্যে রয়েছে নেত্রকোনার খলিলুর রহমান, শরীয়তপুরের সোলায়মান মোল্লা, ময়মনসিংহের রেজাউল কবির ওরফে আক্কাস মৌলভী, নেত্রকোনার হেদায়েত উল্লা ওরফে আনজু, বাগেরহাটের আকরাম খাঁ, যশোরের এএসএম আমিন উদ্দিন, সাতক্ষীরার খালেক ম-ল ও ময়মনসিংহের এম এ হান্নান। এছাড়া আগে আরও দু’দফায় ১৭ মামলা ট্রাইব্যুনালে এসেছে, যার মধ্যে ১০ মামলা শুনানির বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। মামলাগুলোর মধ্যে ২০১৪ সালের ২ নবেম্বর দশটি মামলা প্রসিকিউটরদের তদন্ত করার দায়িত্ব দেয়া হয়। যার মধ্যে রয়েছে মৌলভীবাজারের আলাউদ্দিন চৌধুরী, মাওলানা আকমল আলী, মতিন মিয়া, কক্সবাজারের মহসীন হায়দার চৌধুরী, সালামত উল্লা খান ওরফে আঞ্চুবর পঁচাইয়া রাজাকার, নেত্রকোনার আব্দুল খালেক তালুকদার, আলবদর কমান্ডার শামসুল হক, রাজাকার কমান্ডার নেছার আলী, রাজাকার কমান্ডার ইউনুস মৌলভী, রাজাকার আজিজ, রাজাকার আব্দুল মতিন ও রাজাকার আজিজ (হাবলু)। মোঃ রিয়াজ উদ্দিন ফকির, আবু ছালেহ মোঃ আজিজ মিয়া ঘোড়া মারা আজিজ, হবিগঞ্জের মহিবুর রহমান ওরফে বড় মিয়া, ময়মনসিংহের আবুল ফালাহ মুহাম্মদ ফাইজ্জুল্লাহ। দ্বিতীয় ধাপে চলতি বছরের ৩১ মার্চ আরও ৭ মামলা প্রসিকিউশনের হাতে দেয়া হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে হবিগঞ্জের লিয়াকত আলী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সৈয়দ মোহাম্মদ হোসাইন ওরফে হোসেন, গোপালগঞ্জের এনায়েত মোল্লা, পটুয়াখালীর আয়নাল খাঁ, পটুয়াখালীর মোঃ আশ্রাব আলী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এমদাদুল হক ওরফে টাক্কাবালী।

এসব মামলার মধ্যে দশটি মামলা ট্রাইব্যুনালে শুনানি ও বিভিন্ন আদেশের জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। নেত্রকোনার অপর মামলায় দুই রাজাকার ওবায়দুল হক তাহের ও আতাউর রহমান ননীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ১৯তম সাক্ষীর জবানবন্দীর জন্য ৫ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এ মামলাটির যুক্তিতর্ক শীঘ্রই শুরু হবে বলে প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়াও ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার গ্রেফতারকৃত রিয়াজ ফকির ও পলাতক ওয়াজউদ্দিনের বিরুদ্ধে (ফরমাল চার্জ) আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন ১২ নবেম্বর দাখিলের জন্য নির্দেশ দেযা হয়েছে। নেত্রকোনার ৭ রাজাকারের বিরুদ্ধে ১৫ নবেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জামালপুরের ৮ রাজাকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ৭ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। শরীয়তপুরের সোলায়মান মোল্লা ওরফে সলেমান মৌলভী ও পলাতক ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। অন্যদিকে যশোরের ৬ রাজাকারের আত্মসমর্পণ করতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার গ্রেফতারকৃত রিয়াজ ফকির ও পলাতক ওয়াজউদ্দিনের বিরুদ্ধে (ফরমাল চার্জ) আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন ১২ নবেম্বর দাখিল করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ময়মনসিংহের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য এম এ হান্নান ও তার ছেলে সাজ্জাদসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর পুলিশ এম এ হান্নান ও তার ছেলে সাজ্জাদসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ রবিবার এম এ হান্নানসহ অন্যদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হতে পারে। অন্যদিকে পটুয়াখালী জেলার পাঁচজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মামলার পাঁচ আসামিরা হলো- এছহাক সিকদার, আব্দুল গনি, মোঃ আউয়াল, আব্দুস সাত্তার প্যাদা ও সোলায়মান মৃধা। মামলার তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন জমার দেয়ার জন্য আগামী ১ ডিসেম্বর দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।