২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আপীলের রায় রিভিউয়ের আবেদন জানাবে মুজাহিদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আপীল বিভাগের চূড়ান্ত রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন জানাতে নিজের আইনজীবীদের বলেছেন মৃত্যুদ-ে দ-িত জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ। শনিবার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তার সঙ্গে দেখা করে এসে আইনজীবী শিশির মনির সাংবাদিকদের একথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে আপীল বিভাগের রিভিউ চেয়ে আবেদন করবেন কিনা সে বিষয়ে এখনও নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানাননি মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদ-াদেশ পাওয়া সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী। তবে আগামী দু’একদিনের মধ্যে সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা রয়েছে তার। এর আগে বৃহস্পতিবার সাকা ও মুজাহিদের পক্ষে রিভিউ করা হবে মর্মে চীফ প্রসিকিউটর বরাবর নোটিস ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ১৬ জুন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও ২৯ জুলাই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর মামলার সংক্ষিপ্ত চূড়ান্ত রায় দেন আপীল বিভাগ। ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার এ দু’জনের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার দু’জনকে আপীল বিভাগের রায় অবহিত করে কারাগার কর্তৃপক্ষ। তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মৃত্যু পরোয়ানাও পড়ে শোনানো হয়।

এদিকে আইনজীবী শিশির মনির সাংবাদিকদের কারাগারের সামনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘তিনি (মুজাহিদ) রিভিউ আবেদন প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছেন।’

উনি শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন, মানসিকভাবেও অনঢ় ও অবিচল আছেন। উনি আমাদের আজকে নির্দেশনা দিয়েছেন, আমরা যেন রিভিউ আবেদন দায়ের করার প্রস্তুতি গ্রহণ করি।’ রায়ের একটি অনুলিপি মুজাহিদের কাছে দিয়েছেন জানিয়ে এই আইনজীবী বলেন, উনি বলেছেন, রায়টি পূর্ণাঙ্গভাবে পর্যালোচনা করবেন এবং রিভিউ আবেদন দায়ের করার পূর্বমুহূর্তে আরেকবার আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। উনি আমাদের বলেছেন, ‘যে অভিযোগে উনাকে মৃত্যুদ- দেয়া হয়েছে, উনি মনে করেন রাষ্ট্রপক্ষ উনার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ আনতে ব্যর্থ হয়েছে। উনি এটিও বলেছেন, আন্দাজ-অনুমানের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপক্ষ এ অভিযোগ উনার বিরুদ্ধে এনেছেন।’

‘উনি এটি আমাদের আবারও বলেছেন, ১৯৭২ সালে বুদ্ধিজীবী হত্যাকা- নিয়ে ৪২টি মামলা দায়ের হয়েছিল। ওই মামলার কোনটিতে তিনি আসামি ছিলেন না। এই বুদ্ধিজীবী হত্যাকা- নিয়ে ১৯৭২ সালে একটি তদন্ত কমিটি হয়েছিল। জহির রায়হান সাহেবকে আহ্বায়ক করে ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে সদস্য করে কমিটি গঠিত হয়েছিল। ওই কমিটির রিপোর্ট আজ পর্যন্ত রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে উপস্থাপন করেনি।’

প্রায় আধা ঘণ্টা মুজাহিদের সঙ্গে আলোচনায় শিশির মনিরের সঙ্গে ছিলেন নজরুল ইসলাম, মশিউল আলম, মতিউর রহমান ও গাজী তামিম। আপীল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন (রিভিউ) করতে ১৫ দিন সময় আছে মুজাহিদের হাতে। আপীল বিভাগ গত বুধবার মুজাহিদ ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর যুদ্ধাপরাধ মামলার চূড়ান্ত রায় প্রকাশ করে। ওইদিনই তা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দেয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী ট্রাইব্যুনাল বৃহস্পতিবার দুই ফাঁসির আসামির দন্ড কার্যকরে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে এবং তা কারা কর্তৃপক্ষের হাতে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মুজাহিদকে এবং কাশিমপুর কারাগারে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে সেই মৃত্যু পরোয়ানা পড়ে শোনায় কারা কর্তৃপক্ষ। এর মধ্য দিয়ে শুরু হয় রায় কার্যকরের প্রক্রিয়া। রিভিউ খারিজ হয়ে গেলে সেই রায়ের অনুলিপি কারাগারে পাঠানো হবে এবং কারা কর্তৃপক্ষ সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসামিদের ফাঁসি কার্যকর করবে।

সাকা চৌধুরী

আপীল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ের পুনর্বিবেচনা (রিভিও) চেয়ে আবেদন করবেন কি-না সে বিষয়ে এখনও নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানাননি মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদ-াদেশ পাওয়া সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী। তবে আগামী দু’একদিনের মধ্যে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা রয়েছে তার। শনিবার সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর কনিষ্ঠ আইনজীবী হুজ্জাতুল ইসলাম আলফেসানি এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আশা করি, আগামী দু’একদিনের মধ্যেই আমরা তার সিদ্ধান্ত জানতে পারব। তবে এর আগে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে তার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করতে হবে। কারা কর্তৃপক্ষ দেখা করার অনুমতি দিলে তবেই মনোনীত আইনজীবীরা তার সঙ্গে দেখা করতে যাবেন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত সাকা চৌধুরীর পরিবারের পক্ষ থেকে দেখা করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসেনি। ফলে কবে কখন কোন কোন আইনজীবী তার সঙ্গে দেখা করবেন সেটা এখনই বলতে পারছি না।