২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জাপানী নাগরিক হত্যায় উদ্বেগ, এমপি লিটনকে গ্রেফতার দাবি বিএনপির

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জাপানী নাগরিক হত্যার ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মুখপাত্র ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন। তিনি বলেন, শাসকদল দেশকে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছে। শনিবার দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। শুক্রবার গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে একজন সংসদ সদস্য পাখি শিকারের মতো গুলি করে এক শিশুকে পঙ্গু করে দিয়েছে অভিযোগ করে তিনি ওই সংসদ সদস্যকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান।

রিপন বলেন, গত সোমবার ঢাকার গুলশানে এক ইতালীয় নাগরিককে গুলি করে হত্যার ৫ দিনের মাথায় শনিবার রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় হোসে কুনিও নামে এক জাপানী নাগরিককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এই ২ বিদেশী হত্যাকা-ের ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দোষীদের ধরে বিচারের আওতায় এনে কঠিন শাস্তি প্রদানের দাবি জানাচ্ছি। তিনি বলেন, বিনা ভোটের সংসদ সদস্যদের মধ্যে অনেকেই নিজেদের আইনের উর্ধে ভাবছেন। এ কারণেই সুন্দরগঞ্জের মতো বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটছে।

রিপন বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজে মানুষ এখন ঘরে-বাইরে আর কোনভাবেই নিরাপদ বোধ করছে না। বিনা ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও শাসকদলের ক্যাডাররা সারাদেশে যেভাবে তা-ব ও নৈরাজ্য বিস্তার করছে তাতে এখন মায়ের পেটের শিশু যেমন নিরাপদ থাকেনি, সাধারণ মানুষসহ অবুঝ শিশুরাও তাদের সন্ত্রাসের শিকারে পরিণত হচ্ছে প্রতিদিন। তিনি বলেন, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য শাহ আলমকে বৃহস্পতিবার রাতে জবাই করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আমরা এ হত্যাকা-ের বিচার চাই।

আসাদুজ্জামান বলেন, শাসকদলের দুর্বৃত্তপনা, অস্ত্রবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলবাজির দৌরাত্ম্যে আজ সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। দেশে সুশাসনের কোন বালাই নেই, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অসহায় হয়ে পড়েছে। আর সরকার বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচী পালনে সারাদেশে ব্যাপক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে চলেছে এবং ক্রমেই একদলীয় কর্তৃত্ব¡বাদী শাসনব্যবস্থাকে পাকাপোক্ত করার পথে অগ্রসর হচ্ছে।

রিপন বলেন, এ সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোন নৈতিক ভিত্তি নেই। এ কারণেই আমরা অবিলম্বে সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে একটি নতুন নির্বাচন আয়োজনের পথ সুগম করে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি দ্রুত নির্বাচনের দাবি করছি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিদেশে বসে ২০১৯ সালের পূর্বে নির্বাচন নয় বলার পর শাসকদলের দুর্বৃত্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এ কারণে জনজীবনে আজ নাভিশ্বাস উঠছে। এর ফল শুভ নয়। কর্তৃত্ববাদী শাসনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতির পেক্ষাপটে দেশের নাগরিকরা এখন নিরাপত্তাহীন।

এক প্রশ্নের জবাবে রিপন বলেন, আমাদের দল পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় সারাদেশে গ্রাম-ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ে যে কাউন্সিল অনুষ্ঠানের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে তাকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য সরকার কখনও কখনও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে নির্বিচারে ব্যবহার করছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ দলীয় ক্যাডারদের দিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে আমাদের কাউন্সিল অনুষ্ঠানে হামলা করছে। শুক্রবার লক্ষ্মীপুর জেলায় সাবেক সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন নিজানের বাড়িতে একটি ইউনিয়ন পর্যায়ের সম্মেলনে হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক হাসিবুর রহমানের গাড়ি ভাংচুর করেছে। বিএনপি কর্মী আবু তাহের দোলন, করিম, মানিকসহ ৫ জন আহত হয়েছে ওই হামলার ঘটনায়। বিএনপির পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করাই এর লক্ষ্য। আমরা এভাবে সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা করছি এবং তাদের গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট সানাউল্লা মিয়া, সহ-দফতর সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম, সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।

তোপের মুখে আগের দিনের বক্তব্য অস্বীকার করেছেন রিপন ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ পুরস্কার পাওয়ায় বিএনপি খুশি বলে মন্তব্য করার মাত্র একদিন পর অবস্থান পরিবর্তন করলেন বিএনপির মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন। শুক্রবার দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রিপন বলেন, প্রধানমন্ত্রী পুরস্কার পাওয়ায় বিএনপি খুশি। সংবাদ মাধ্যমে তার এ বক্তব্য প্রকাশ হওয়ার পর তোপের মুখে পড়েন রিপন। তোপের মুখেই শনিবার একই স্থানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমি এ ধরনের কোন কথা বলিনি। তবে আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি সরকারের ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যবসায়ীর মালিকানাধীন প্রচারমাধ্যম বিরোধী দলের দেয়া বক্তব্য-বিবৃতি বিকৃত করে প্রকাশ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। অর্থাৎ আমরা যা বলছি না তা তারা নিজেদের মনের মাধুরি মিশিয়ে ভিন্নভাবে প্রচার করছে।

নির্বাচিত সংবাদ