২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আমিরের আগুন ঝরানো বোলিং

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বাইশ গজে ফিরেই বল হাতে ঝড় তুললেন মোহাম্মদ আমির। শুক্রবার মুলতানে ঘরোয়া ক্রিকেটের এক ম্যাচে (নন-ফাস্ট ক্লাস) ইনিংসে ৭ উইকেট নিলেন আইসিসির নির্বাসন কাটিয়ে ফেরা আলোচিত পাকিস্তানী পেসার। সুইং, কাটার, বাউন্সের পসরা সাজিয়ে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের নাজেহাল করে ছাড়লেন প্রতিভাবান বাঁহাতি। স্পট ফিক্সিং কলঙ্কের সূত্র ধরে সদ্য পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ওঠা ২৩ বছর বয়সী আমিরকে জাতীয় দলে ফেরানোর আগে বর্তমানে পুনর্বাসনে (রিহ্যাবিশন) রেখেছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। মাস খানেক আগে নির্বাসন ওঠার পর এটি ছিল আমিরের দ্বিতীয় লঙ্গার-ভার্সন ম্যাচ। স্থানীয় সাউদার্ন গ্যাস কর্পোরেশনের হয়ে মাঠে নেমে শক্তিধর পাকিস্তান স্টেট ব্যাঙ্কের বিপক্ষে ৬১ রান দিয়ে ইনিংসে ৭ উইকেট শিকার করেন। ম্যাচে তুলে নেন ১০ উইকেট! দুটি ম্যাচে আমিরের ঝুলিতে ওঠে ১৭ উইকেট। যেন আরও দুর্ধর্ষ হয়ে ফেরা। বল হাতে আগুনের গোলা ছোটানো বহুল আলোচিত-সমালোচিত তারকা আমির বলেন, ‘বোলিংটা দারুণ উপভোগ করছি। নিজের উন্নতি নিয়ে আমি সন্তুষ্ট। দিনের পর দিন আরও বেশি করে নিজেকে ফিরে পাচ্ছি। তাড়াহুড়ো নয়, ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে শাণিয়ে নিয়ে তবেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতে চান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখনই জাতীয় দলে ফেরা আমার লক্ষ্য নয়। ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলে আগে পুরোপুরি ছন্দ ফিরে পেতে চাই। তারপর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়ে ভাবব।’ আইসিসি কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞা ওঠার পর প্রথম লঙ্গার ভার্সন হলেও, এর আগে মার্চে স্বল্পদৈর্ঘের (টি২০) তে বল হাতে চমক দেখিয়েছিলেন। ফয়সালাবাদের এক সুপার এইট টি২০তে ম্যাচে রাওয়ালপিন্ডি রামসের হয়ে প্রথম বলেই সাজ্জাদ আলিকে পরিষ্কার বোল্ড করে দিয়েছিলেন। নিজের তৃতীয় ওভারে আরও ১টি। ২.১ ওভার বল করে ১৫ রান দিয়ে নিয়েছিলেন ২ উইকেট। এ্যাবোটাবাদ ফ্যালকনের বিপক্ষে ৬ উইকেটের সহজ জয় পেয়েছিল আমিরের রামস। ২০০৯ সালে পাকিস্তান জাতীয় দলের হয়ে ওয়ানডে ও টেস্ট অভিষেক। দুর্দান্ত বোলিং করে আগমনেই বিশ্বব্যাপী সাড়া জাগিয়েছিলেন। সঙ্গে টেলএন্ডে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের জন্য অনেকেই তার মাঝে কিংবদন্তির ছায়া দেখতেন। কি করতে কী হয়ে গেল, ২০১০-এ ইংল্যান্ড সফরে তৎকালীন অধিনায়ক সালমান বাট ও অপর পেসার মোহাম্মদ আসিফের সঙ্গে স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে পড়েন! আমিরের জাতীয় দলে ফেরা নিয়ে অবশ্য বিতর্ক রয়েছে। অপরাধের সময় বয়স কম (১৭ বছর) হওয়ায় আমিরকে পরিচর্যা করে পুনরায় জাতীয় দলে দেখতে চান সাবেক গতি তারকা শোয়েব আকতার।