১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অনুমোদনহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের রমরমা বিক্রি

  • চট্টগ্রামে তেরো ফার্মেসি সিলগালা

মাকসুদ আহমদ, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রামে অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে ফার্মেসি মালিকরা রাতারাতি বিত্ত বৈভব গড়ে তুলছে। অনুমোদনহীন ফার্মেসি খুলে রমরমা ব্যবসার পেছনে রয়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ফিজিশিয়ান স্যাম্পল বিক্রি। এছাড়া রয়েছে অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রি। নগরীর অলিগলিতে ড্রাগ লাইসেন্স না নিয়েই চলছে অবাধে ওষুধ ব্যবসা। এমনকি এসব ফার্মেসিতে ড্রাগ লাইসেন্সের শর্তানুযায়ী ফার্মাসিস্ট থাকার কথা থাকলেও তাও মানা হচ্ছে না। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের কবলে পড়ে মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এমন অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন মাস ধরে চলছে টানা অভিযান। অভিযানে প্রায় সাত লাখ টাকা জরিমানা আদায়সহ ১৩টি ফার্মেসি সিলগালা করা হয়েছে। এছাড়াও দুই ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে ৬ মাসের দ- দেয়া হয়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির দায়ে। ১৯৪০ সালের ওষুধ বিক্রি আইনের শর্তানুযায়ী, ফার্মেসি ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা শর্ত অবজ্ঞা করায় জেল জরিমানা ও ফার্মেসি সিলগালা করে দেয়ার অভিযানে রয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুহুল আমিন।

অভিযোগ রয়েছে, জীবন রক্ষার জন্য ওষুধের প্রয়োজন। কিন্তু সে ওষুধ নিয়েই চলছে অবৈধ ব্যবসা। মেয়াদোত্তীর্ণ, অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রির অন্তরালে ব্যবসায়ীরা ড্রাগ লাইসেন্সের শর্ত মানছেন না। ফলে ব্যাঙের ছাতার মতো ফার্মেসি খোলা হচ্ছে।

ফার্মেসি খোলার আগে মালিককে ড্রাগ লাইসেন্স নিতে হয়। সরকারী ফি অনুযায়ী ৬ থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকার মধ্যে ড্রাগ লাইসেন্স পাওয়ার কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষ এক্ষেত্রে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। প্রতি দুবছর অন্তর নবায়নের ক্ষেত্রে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা সরকারী ফি দিতে হয়। অথচ পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ড্রাগ লাইসেন্সের শর্তানুয়ায়ী প্রত্যেক ফার্মেসিতে একজন ফার্মাসিস্ট সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালনের কথা রয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে লাইসেন্সি কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও উৎকোচ আদায়ের কারণে যত্রতত্র গড়ে উঠছে ফার্মেসি। সরকারের পক্ষ থেকে ১৫০টি ওষুধের নাম ও কার্যতালিকা বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেকেই এ ব্যবসার আওতায় থাকলেও বর্তমানে তা মানা হচ্ছে না। ফলে মেয়াদোত্তীর্ণ, ভেজাল ও অবৈধ পথে আসা ওষুধ ও বাচ্চাদের খাবার বিক্রি হচ্ছে ফার্মেসিগুলোতে।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুহুল আমিন জানান, মেয়াদোত্তীর্ণ ও অবৈধভাবে বিদেশী ওষুধ বিক্রিসহ ফুড সাপ্লিমেন্ট বিক্রির অপরাধে জেল জরিমানা ও ফার্মেসি সিল করে দেয়া হচ্ছে। এতে করে অসাধু ফার্মেসি মালিকরা সচেতন হওয়ার পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সেবন থেকে রক্ষা পাবেন রোগীরা।