১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজশাহীর বিএমডিএ’তে কোণঠাসা সরকার সমর্থকরা

  • বিএনপি জামায়াতের আধিপত্য

মামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী ॥ বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষিতে প্রাণ ফেরাতে রাজশাহীতে প্রতিষ্ঠিত হয় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)। শুরুতে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ছিলেন বিএনপি-জামায়াত জোটের তৎকালীন মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হকের ভাই ড. আসাদুজ্জামান। তার সময়ে বিএনপি-জামায়াত সমর্থক বিপুল কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়। সেই থেকে বিএমডিএ’তে আধিপত্য বিএনপি-জামায়াত জোটের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। এখনও সেই ধারা চলছে। নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি, প্রকল্প সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ এখন বিএনপি-জামায়াত জোটের ওই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাতে।

দীর্ঘসময় ধরে তারা বিএমডিএ’তে থেকে নির্বিঘেœ তাদের কর্মকা- চালিয়ে আসছে। সম্প্রতি তাদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন নির্বাহী পরিচালকও। তাদের দাপটে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তটস্থ এখনও। তবে বিএমডিএ’র নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান আকরাম হোসেন চৌধুরী জানান, বিএমডিএ কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে। তাই এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত কেবল কৃষিমন্ত্রী নিতে পারেন। তার কিছু করার নেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে বিএমডিএ’র তত্ত্বাবধায়ক আবদুস সালামের কাছে জিম্মি প্রশাসন বিভাগ। বিএনপি সমর্থক কর্মকর্তা আবদুল হালিম, আতাহার আলী ও রবিউল ইসলাম নিয়ন্ত্রণ করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি। বদলির ক্ষেত্রে নির্বাহী পরিচালক ও সচিবের নির্দেশও মানা হয় না। হিসাব শাখার রোকনুজ্জামান বিশ্বাস সিনিয়রিটি না মেনে এবং অডিট অফিসার ও হিসাবরক্ষণ অফিসার-২ পদ উপেক্ষা করে হিসাবরক্ষণ অফিসার-১ পদে পদোন্নতি নেন। তিনি সব প্রকল্পের বিল পাস করেন। বিএনপির কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত আশরাফুল ইসলামকে চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা জানান, আওয়ামী লীগের আগের ক্ষমতার সময়ে বিএমডিএ চেয়ারম্যান ছিলেন নুরুল ইসলাম ঠান্ডু। সে সময় কয়েকজন দলীয় সমর্থক হিসেবে পরিচিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রধান কার্যালয়ে বদলি করে আনা হয়। তবে তারা কখনও দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। অফিস সহকারীকে বসিয়ে পিয়ন, চালককে বাদ দিয়ে হেলপারকে দিয়ে কাজ করানো হয়।

রাজশাহী নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার জানান, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেও বিএমডিএ নিয়ন্ত্রণ করছে বিএনপি-জামায়াত জোটের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ নিয়ে তারা চেয়ারম্যানের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন; কিন্তু কোন লাভ হয়নি।

বিএমডিএ নির্বাহী পরিচালক কামাল উদ্দিন জানান, দীর্ঘসময় ধরে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী এখানে অবস্থান করছেন। তারা অবৈধ সুবিধা নিতে তাকে জিম্মি করে ফাইলে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছে। গত ২ সেপ্টেম্বর এ ঘটনা ঘটে।

বিএমডিএ’র একাধিক কর্মকর্তার দেয়া তথ্যানুযায়ী, নলকূপ স্থাপন প্রকল্পের পরিচালক আবদুর রশিদ, গ্রামীণ সড়ক প্রকল্পের পরিচালক আবুল কাশেম সরকার, ক্যাড প্রকল্পের পরিচালক শামসুল হোদা, অচালু নলকূপ সচলকরণ প্রকল্পের পরিচালক আবদুল লতিফ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রকল্পের পরিচালক শিবির আহমেদ, ভূ-উপরিস্থ পানি প্রকল্পের পরিচালক শমসের আলী ও শরীফুল হক বিএমডিএ’তে বিএনপি-জামায়াতপন্থী সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন। তারা ৫ থেকে ২০ বছর ধরে প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত।