১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিএনপি নেতাকর্মী হতাশ আওয়ামী লীগ নিস্তেজ

  • চট্টগ্রামে বিবৃতি-প্রেস রিলিজে চলছে রাজনীতি

হাসান নাসির, চট্টগ্রাম অফিস ॥ একেবারেই নিস্তেজ অবস্থা চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে। ক্ষমতা বলয় থেকে ছিটকে পড়া বিএনপির নেতাকর্মী ও তৃণমূলের সমর্থকরা নিমজ্জিত গভীর হতাশায়। তারা রয়েছেন লন্ডন থেকে দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ফিরে আসার অপেক্ষায়। এছাড়া দলের নেতৃত্বে রদবদলের শঙ্কাও কাজ করছে নেতাদের মধ্যে। অপরদিকে, ক্ষমতাসীন থাকার সুবাদে আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংগঠনগুলো ফুরফুরে মেজাজে থাকলেও প্রকৃত অর্থে রাজনৈতিক কর্মকা- বলতে যা বোঝায় তা দৃশ্যমান নয়। ২০ দলীয় জোটের শরিক দল জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান চট্টগ্রামে বেশ শক্তিশালী মনে করা হলেও বর্তমানে দলটির কার্যক্রম একপ্রকার বন্ধ। আগ্রাসী এ দলটি এখন যেন নিজকে রক্ষায় ব্যস্ত। আর জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী না হলেও দলটির নেতারা ক্ষমতার কাছাকাছি থাকার অলীক স্বপ্নে বিভোর। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর যেটুকু কর্মকা- রয়েছে তা মূলত প্রেস রিলিজ ও বিবৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ। সংসদে না থাকলেও বড় দল হিসেবে স্বীকৃত বিএনপির অবস্থা বড়ই করুণ। স্থানীয় কর্মসূচী নেই, কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচীর কোন প্রভাবও চট্টগ্রামে প্রতিফলিত হতে দেখা যাচ্ছে না। দলের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্ম ও মৃত্যু দিবস এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলটির অভ্যন্তর থেকে শোডাউন-পাল্টা শোডাউন ছিল এতদিন চট্টগ্রামে অত্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাপার। কেননা, নেতারা একাধিক গ্রুপে বিভক্ত। কিন্তু বর্তমানে পাল্টাপাল্টি তো দূরের কথা স্বাভাবিক দিবসের কর্মসূচীতেও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দেখা মেলে না। নগরীর নূর আহমদ সড়কে অবস্থিত দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবনের সামনে এখন আর আগের মতো পুলিশ মোতায়েন দেখা যায় না। কারণ, শুধু কর্মী সমর্থকরাই নয় খোদ নেতারাও এখন কার্যালয়মুখী নয়। বিএনপির হতাশা এমনই পর্যায়ে পতিত হয়েছে যে, দলটির পক্ষে আর কার্যকর কোন আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব এ বিশ্বাসটি খোদ কর্মী সমর্থকদেরই নেই।

চট্টগ্রামে বিএনপি রাজনীতিতে এক ধরনের স্থবিরতা চলছে। মাঝেমধ্যে দুয়েকটি কর্মসূচী পালিত হলেও তাতে কর্মীদের সাড়া নেই। রাজনৈতিক কর্মকা- মূলত প্রেস রিলিজের মাধ্যমে প্রচারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। টেলিফোনেও নেতাদের পাওয়া যায় না আগের মতো। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তারা এখন ঘরে ফিরে যাওয়া কর্মীদের নানাভাবে সাহস দিয়ে চাঙ্গা করার চেষ্টায় রয়েছেন। দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া লন্ডন থেকে ফিরে কি নির্দেশনা প্রদান করেন সে অপেক্ষায় রয়েছেন নেতারা। একইসঙ্গে দলের নেতৃত্বে রদবদল আসছে কিনা তা নিয়েও রয়েছে হিসাব-নিকাশ। অপরদিকে, ক্ষমতাসীন দল হিসেবে আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সাহসে বলীয়ান হলেও সত্যিকারের রাজনৈতিক তৎপরতা বলতে যা বোঝানো হয়ে থাকে তার ছিটেফোঁটাও নেই। বিরোধী দলের আন্দোলন কিংবা হুংকার নেই, তাই প্রতিহতের কর্মসূচীও নেই। বিএনপি নিস্তেজ তাই আওয়ামী লীগও নিস্তেজ। দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা এবং সক্রিয় কর্মীরা আন্দোলনের চেয়েও বেশি ব্যস্ত এখন বৈষয়িক অর্জনে। চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে এমনিতেই দীর্ঘদিনের অভিযোগ এই যে, তারা যতটা না দলের আদর্শিক রাজনীতি করেন তার চেয়েও বেশি ব্যস্ত থাকেন অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে। নানা উপদলে বিভক্ত নেতৃত্ব একে অপরের মুখোমুখি।