২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বরখাস্ত চেয়ারম্যান তোফায়েল জঙ্গী আশ্রয়দাতা

নিজস্ব সংবাদদাতা, বান্দরবান, ৩ অক্টোবর ॥ এক সময়ের শিবির ক্যাডার থেকে রোহিঙ্গা জঙ্গীদের নিরাপদ আশ্রয়দাতা হয়ে ওঠেন দেশব্যাপী আলোচিত রামু সহিংসতার নায়ক বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমদ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর উত্তম বড়ুয়া ফেসবুকে ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করে ছবি ট্যাগ করেছে এমন গুজব ছড়িয়ে পরলে উগ্রবাদীরা রামুর ১২টি বৌদ্ধ বিহার,৩০টি বৌদ্ধ বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় স্থানীয় জামায়াত নেতা তোফায়েল আহমদ ও তার ভাগিনা মুক্তাদিরের সংশ্লিষ্টতা পায় গোয়েন্দারা। তোফায়েল ছাত্রজীবনে শিবিরের কর্মী ছিলেন। ১৯৯৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটের নৃশংস আট ছাত্রলীগ নেতা খুনের অন্যতম আসামি হয়েও তিনি খালাস পেয়ে যান। রামুর সহিংস ঘটনার নেপথ্যে থাকা এই দুর্দর্ষ শিবির ক্যাডারের জোরালো ভূমিকা রাখার প্রমাণ পায় তদন্ত্র কমিটি। ১২ সালের জুলাই মাসে দুবাইয়ে পনেরো দিন অবস্থান করে আরএসও’র ১৪ সদস্যের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেন। এ কারণে রামুর ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি তদন্ত কমিটির কাছে জোরালো মনে হয়।

ধর্ম অবমাননার বিতর্কিত ছবিটি ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ আগেই উত্তম বড়ুয়ার ফেসবুকে সংযুক্ত (ট্যাগ) করা হয়। মুক্তাদির এ ঘটনা প্রথম এলাকায় প্রচার করে বলে পুলিশের কাছে রিমান্ডে স্বীকার করে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে বৌদ্ধপল্লীতে হামলা হলেও তার আগের দিন ২৮ সেপ্টেম্বর তোফায়েলের সঙ্গে নাইক্ষ্যংছড়ির বাসায় বৈঠক করেন মোক্তাদির।

স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে মৌলবাদী-জঙ্গীদের আশ্রয়দাতা হিসেবে অভিযুক্ত তোফায়েল রোহিঙ্গা জঙ্গী সংগঠন ‘রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন’ (আরএসও) সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, জাতীয়তার সনদ প্রদান, বাংলাদেশী পাসপোর্টে মধ্যেপ্রাচ্যে রোহিঙ্গাদের পাঠিয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক। শুধু নাইক্ষ্যংছড়িতে তিনি দেড় হাজার একরেরও বেশি জমির মালিক, ক্ষমতার দাপটে দখল করেছেন স্থানীয় অনেক অসহায়ের ভূমি। বান্দরবান আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল বশর জনকণ্ঠকে বলেন, সে রোহিঙ্গা ও শিবির জঙ্গীদের আশ্রয়দাতা বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বিভিন্ন সময়ে এসেছে বলে শুনেছি। স্থানীয়দের অভিযোগ, কক্সবাবাজার জেলার কচ্ছপিয়ার বালুবাসা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন তিনি। বাবা আবুল হোসেন ছিলেন ইউনিয়নের মেম্বার। এ গ্রামের পার্শ্ববর্তী হাজীর পাড়া পূর্ব পাহাড়ে ছিল আরএসওর একাধিক ঘাঁটি। ওই ঘাঁটিতে নিয়মিত যাওয়া-আসা ছিল তার। এ ব্যাপারে সদ্য বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমদ জনকণ্ঠকে বলেন, কোন শসস্ত্র কর্মকা- দূরে থাক, রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে কোন তৎপরতায় জড়িত আছি প্রমাণ করতে পারলে আমাকে ওপেন ফায়ারে দেয়া হোক।

আদিবাসীদের বিক্ষোভের মুখে হুইপের এলাকা ত্যাগ

নিজস্ব সংবাদদাতা, নওগাঁ, ৩ অক্টোবর ॥ পতœীতলা উপজেলার বেলঘরিয়া গ্রামে নতুন বিদ্যুত সংযোগের উদ্বোধন করতে গিয়ে আদিবাসীদের বিক্ষোভের মুখে বিদ্যুত সংযোগ না দিয়েই স্থান ত্যাগ করলেন জাতীয় সংসদের হুইপ শহীদুজ্জামান সরকার বাবলু এমপি। ওই গ্রামের শতাধিক আদিবাসী পরিবারে বিদ্যুত না দিয়ে শুধু অর্থের বিনিময়ে বিত্তশালীদের ঘরে বিদ্যুত দেয়া হচ্ছে, এমন অভিযোগে আদিবাসী নারী-পুরুষ হুইপের কাছে বিদ্যুত দাবি করলে তিনি বিপাকে পড়ে সংযোগ না দিয়েই তিনি স্থান ত্যাগ করেন। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বেলঘরিয়া গ্রামে ২৭৫টি নতুন বিদ্যুত সংযোগের উদ্বোধন করতে জাতীয় সংসদের হুইপ ও স্থানীয় এমপি শহীদুজ্জামান সরকার বাবলু। এ সময় ওই গ্রামের প্রায় শতাধিক আদিবাসী তাদের ঘরে বিদ্যুতের সংযোগ না পাওয়ার ক্ষোভে হুইপের পথরোধ করে।