২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে বাঘ পাচার হয়- পরিবেশ ও বনমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাঘ ও বন্যপ্রাণী পাচারকারীরা সামাজিকভাবে শক্তিশালী। এরা রাজনৈতিক প্রশ্রয় পায়। পাচারকারীদের হাত শক্তিশালী হওয়ায় বাঘের চামড়া বা বন্যপ্রাণী পাচার রোধ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।

রবিবার বন অধিদফতরে ‘সুন্দরবনে বাঘ শিকার, প্রাণী ও আবাসস্থল পরিবীক্ষণ’ শীষক জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সরকার বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সভা সেমিনারে সবাই বাঘ সংরক্ষণের কথা বলি, কিন্তু কাজের বেলায় তেমন কোন কাজ হচ্ছে না। বেসরকারি সংগঠন (এনজিও) এতো কথা বলে, কই তাদেরও তো কোন কাজ দেখি না। তিনি আরও বলেন, এতো বড় বাজেটের দেশে বন্য প্রাণী সংরক্ষণে বাজেট বরাদ্ধও তুলনামূলকভাবে খুবই অপর্যাপ্ত।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, যে হারে বাঘের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে, তাতে আগামী কয়েক দশকে পৃথিবী থেকে প্রাণীটি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সুন্দরবন ও সুন্দরবনের বন্য প্রাণী রক্ষা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তাবায়ন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পৃথিবীতে ৪ হাজার বাঘ রয়েছে। অথচ ১৯০০ সালে তা ছিল ১ লাখ।

খাদ্য সংকট, চোরা শিকারীদের তৎপরতা, জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব অব্যাহত থাকলে বাঘের সংখ্যা আরও হ্রাস পাবে বলে কর্মশালায় বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।

বন বিভাগের এক নিবন্ধে বলা হয়, বিশ্বে প্রায় ৪ হাজার ১৪৭ টি বাঘ রয়েছে। সর্বশেষ জরিপে বাংলাদেশে বাঘের সংখ্যা ১০৬।

এসময় বক্তারা বলেন, বাঘের অস্তিত্ব রক্ষায় অন্যতম প্রধান হুমকি চোরা শিকারীদের বাঘ হত্যা ও পাচার। বনের ভেতর দিয়ে লাগামহীন নৌ চলাচল, সুন্দরবনের পাশে বৃহৎ আকার শিল্প অবকাঠামো নির্মাণ, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক দুর্যোগে লোকালয়ন সংলগ্ন খাল-নদী ভরাটের কারণেও কমছে নানা প্রজাতির বণ্য প্রাণী, এমনকি বাঘও। এসময় বক্তারা বাঘ সংরক্ষণের জন্য মনিটরিং টিম জোরদার করার পাশাপাশি টাস্কফোর্স গঠনেরও দাবি জানান।

সভাপতির বক্তব্যে প্রধান বন সংরক্ষক ড. ইউনুছ আলী বলেন, বন্যপ্রাণী পাচার রোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাথে বন বিভাগের সমন্বয়হীনতা রয়েছে তা দূর করতে হবে। বনের ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিরও বিকল্প নেই।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন খুলনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো: জাহিদুল কবির, বন সংরক্ষক ড. তপন কুমার দে, ওয়াইল্ড লাইফ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া’র (ডব্লিউআইআই) সিনিয়র প্রফেসর ড. ওয়াই. ভি. ঝালা, আইইউসিএন’র কান্ট্রি ডিরেক্টর ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।