২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দেশে বর্তমানে আদালত অবমাননার কোন আইন নেই

  • কর্মশালায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আইনমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, দেশে বর্তমানে আদালত অবমাননার কোন আইন নেই। অতি দ্রুত মন্ত্রিসভার অনুমোদন নিয়ে আদালত অবমাননার একটি আইন আমি সংসদে উপস্থাপন করব। সাংবাদিকরা যাতে স্বাধীন ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে আইন ও আদালত নিয়ে রিপোর্ট করতে পারেন সেই বিষয়টি আমি বিশেষভাবে খেয়াল রাখব। আমি মনে করি আদালত অবমাননার আইন করা এই মুহূর্তে জরুরী হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী। রবিবার সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে ‘বিচার বিভাগীয় রিপোর্টিং’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আইন, বিচার ও মানবাধিকার বিষয়ক সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম (এলআরএফ) এ কর্মশালার আয়োজন করে।

আনিসুল হক বলেন, আদালত অবমাননার আগের আইন অচল হয়ে গেছে। দেশের গণমাধ্যমের প্রসারের ফলে এ আইনটি দ্রুত করা প্রয়োজন। সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আদালত অবমাননা আইন জাতীয় সংসদে পাস করতে পারব। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকদেরও পরামর্শ নেয়া হবে। তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। দেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ বিচার বিভাগের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দেশবাসীর কাছে উপস্থাপন করতে আইন সাংবাদিকরা ভূমিকা পালন করবে। যাতে করে আমরা আইনের শাসনের মধ্যে থাকতে পারি।

আইনমন্ত্রী বলেন, আইন সাংবাদিকতা একটি কঠিন কাজ। কারণ অন্য ক্ষেত্রে ভুল করলে পরদিন সংশোধনী ছাপানো যায়। কিন্তু আদালত রিপোর্টিংয়ের ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়। ভুল সংবাদ দিলে পরদিন আদালত অবমাননার মুখে পড়তে হয়। এজন্য আদালত সাংবাদিকতায় সাংবাদিকদের সচেতনভাবে কাজ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট আব্দুল বাসেত মজুমদার বলেন, সাংবাদিকরা হচ্ছেন সমাজের দর্পণ। সমাজে যারা সরকার ও ক্ষমতাবানদের দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছেন তাদের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরার দায়িত্ব সাংবাদিকদের।

ফোরামের সভাপতি দৈনিক কালের কণ্ঠের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক এম বদি-উজ-জামানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। কর্মশালায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবী আহসানুল করিম, এলআরএফের সাবেক সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক ফারুক কাজী, দৈনিক অবজারভারের অনলাইন এডিটর ও এলআরএফের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান, দৈনিক নিউ এইজের বার্তা সম্পাদক শহীদুজ্জামান, দৈনিক ইত্তেফাকের আইন ও নির্বাচন কমিশন বিষয়ক সম্পাদক সালেহউদ্দিন, কালের কণ্ঠের আদালত বিষয়ক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আশরাফ উল আলম, ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের স্পেশাল এ্যাফেয়ার্স এডিটর জাহিদ হোসেন প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সমকালের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ওয়াকিল আহমেদ হিরণ।

সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবী এ্যাডভোকেট আহসানুল করিম বলেন, এলআরএফের সাবেক সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক ফারুক কাজী আদালতকে মানুষের কাছে আস্থা অর্জন করতে হয়। বিচার বিভাগের ওপর যদি জনগণ আস্থা হারিয়ে ফেলে তাহলে তারা আইন নিজের হাতে তুলে নেয়। এজন্য বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বিচারক, আইনজীবী ও সাংবাদিকদের কর্তব্য রয়েছে।

ফারুক কাজী বলেন, আদালতের রিপোর্টিংয়ে চমক সৃষ্টির কোন সুযোগ নেই। আদালতের আদেশে কি আছে তা যাচাই না করে রিপোর্ট করা সঠিক হবে না।

কাজী আব্দুল হান্নান বলেন, গতানুগতিক রিপোর্ট না লিখে আদালত থেকে যেসব গুরুত্বপূর্ণ রায় আসছে সেই রায়ের নির্দেশনা ও পর্যবেক্ষণ এবং খুঁটিনাটি নানা দিক নিয়ে রিপোর্ট করতে হবে।

শহীদুজ্জামান বলেন, আইন তৈরি হয়েছে মানুষের হাত-পা বেঁধে দেয়ার জন্য। তথ্য অধিকার আইনসহ সাংবাদিকদের জন্য যত আইন হয়েছে সবগুলোই তাদের কাজের ক্ষেত্রকে আরও সংকুচিত করেছে।

সালেহউদ্দিন বলেন, আদালতের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী সত্য রিপোর্ট প্রকাশ করলেও আদালত অবমাননা হবে যদি তা আদালতের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করে। সত্য রিপোর্ট কখনও কারও ভাবমূর্তিকে ক্ষুণœ করে না বরং যে ক্ষত রয়েছে তা সমাধানের সুযোগ সৃষ্টি করে। আদালত অবমাননা আইন এমনভাবে করতে হবে যাতে সত্য ঘটনার ওপর সংবাদ প্রকাশ করলে সাংবাদিকদের জেলে যেতে না হয়। একইসঙ্গে বিচারকের ব্যক্তিগত আচরণ ও নেতিবাচক কোন ঘটনা সংবাদ প্রকাশে সুযোগ নতুন আইনে রাখতে হবে।