২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন মন্ত্রিসভায় উঠছে আজ

  • বিদ্যমান আইনে পাচার হওয়া অর্থের কমপক্ষে দ্বিগুণ জরিমানা

এম শাহজাহান ॥ মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে প্রস্তাবিত ‘মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ (সংশোধন) আইন-২০১৫’ উঠছে আজ সোমবার। বৈঠকে আইনটি অধ্যাদেশ আকারে জারিকরণে অনুমোদন দেবে মন্ত্রিসভা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে চলতি বছরের গত ১৭ আগস্ট অর্থদ-ের পরিমাণ দ্বিগুণ ও একাধিক সংস্থার যৌথ তদন্তের সুযোগ রেখে মুদ্রা পাচার আইন সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। এবার আইনটি অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হবে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

জানা গেছে, মানিলন্ডারিং আইনের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। গত ২০১২ সালের মুদ্রা পাচার আইনে ৪ থেকে ১২ বছর কারাদ-ের বিধান রয়েছে। সংশোধিত আইনেও তা একই রাখা হয়েছে। তবে পরিবর্তন আনা হয়েছে অর্থদ-ে। বিদ্যমান আইনে পাচার হওয়া অর্থের কমপক্ষে দ্বিগুণ অথবা ১০ লাখ টাকার মধ্যে যেটি বেশি হবে- সেই পরিমাণ জরিমানার কথা বলা আছে। এই অঙ্ক বাড়িয়ে ১০ লাখের জায়গায় ২০ লাখ টাকা করা হয়েছে।

বর্তমান আইনে মুদ্রা পাচারের ঘটনা তদন্তের সার্বিক দায়িত্ব দেয়া ছিল দুদকের ওপর। কোন ক্ষেত্রে দুদক অন্য কোন সংস্থাকে দায়িত্ব দিলে তারপর তারা এ তদন্তে যুক্ত হতে পারত। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর আইনটি নিয়ে ওই সময় সাংবাদিকদের মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছিলেন, সংশোধিত আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, ঘুষ ও দুর্নীতি সংক্রান্ত মুদ্রা পাচারের ঘটনা ঘটলে তা তদন্তের দায়িত্ব দুদকের হাতে থাকবে। অন্যান্য অপরাধের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থা তদন্তের দায়িত্ব নেবে। যেমন- অনেকগুলো পুলিশ করবে। যেগুলো কাস্টমস রিলেটেড সেগুলো এনবিআর করবে, যেটা মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত, সেটা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর করবে। মানিলন্ডারিংয়ের বিষয়টা খুব জটিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে এ আইনের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। তাদের আরও ক্ষমতা দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে সংশোধিত আইনে।

জানা গেছে, ডেপুটি গবর্নরদের একজন বর্তমান এই ইউনিটের প্রধান হিসেবে কাজ করেন। একজন নির্বাহী পরিচালক সহকারী প্রধান হিসেবে কাজ করেন। অন্য যারা আছেন তারাও বাংলাদেশ ব্যাংকের।

কিন্তু ভারতসহ বিভিন্ন দেশে আইনটি অধিকতর কার্যকর করতে এ ইউনিটকে একটি স্বতন্ত্র সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। তবে বাংলাদেশে একটা কমিটি আছে, মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটি। ভারতের কমিটির নাম ইকোনমিক ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিল। এটার প্রধান হচ্ছেন ভারতের অর্থমন্ত্রী। ভারতের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আওতার বাইরে, স্বতন্ত্র সংস্থা। তারা সরাসরি কাউন্সিলের কাছে রিপোর্ট করে।

এদিকে, আইন সংশোধনের পর এখন বাংলাদেশে এ ইউনিটের প্রধান নিয়োগ দেবে সরকার। তিনি হবেন ডেপুটি গবর্নর পদমর্যাদার কেউ। সার্চ কমিটি গঠন করে এ নিয়োগ দেয়া হবে, যে কমিটিতে গবর্নরও থাকবেন। এ ছাড়া সংস্থার প্রধান যথেষ্ট অটোনমি নিয়ে এটা পরিচালনা করবেন। কিন্তু প্রশাসনিকভাবে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নরের আওতাধীন থাকবেন। অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গবর্নর নিয়োগ করবেন। তবে তা অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে নয়। ইউনিটের প্রধান গবর্নরের মাধ্যমে জাতীয় কমিটির কাছে রিপোর্ট করবেন। তিনি নিয়োগ পাবেন চার বছরের মেয়াদে। সরকার ইচ্ছা করলে আরও এক মেয়াদের জন্য তাকে নিয়োগ দিতে পারবে।

নির্বাচিত সংবাদ